এলার্ম বাজে, তবু চোখ খোলে না কেন?
রাত সাড়ে এগারোটায় ঘুমিয়েছিলাম। এলার্ম সেট করেছিলাম ভোর সাড়ে চারটায়, ফজরের জন্য। এলার্ম বেজে উঠল, হাত বাড়িয়ে বন্ধ করে দিলাম, আর চোখ খুলল সকাল সাতটায়। এই একই ঘটনা টানা তিন মাস ধরে ঘটেছে আমার সাথে। প্রতি রাতে ভাবতাম, আজ থেকে ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু সকালে গিয়ে একই গল্প। শেষমেশ বুঝলাম, সমস্যাটা এলার্মের না, আমার পুরো রুটিনের।
সংক্ষেপে বলতে গেলে: ফজরের নামাজে সময়মতো ওঠার মূল চাবিকাঠি হলো এশার পরপরই ঘুমাতে যাওয়া, ঘুমের চক্র হিসেব করে এলার্ম সেট করা, এলার্মের দূরত্ব ঠিক রাখা এবং ঘুমানোর আগে কয়েকটা নির্দিষ্ট আমল অভ্যাসে পরিণত করা। এই কয়েকটা অভ্যাস টানা দুই-তিন সপ্তাহ মেনে চললে শরীর নিজে থেকেই জেগে উঠতে শেখে।
ফজর কাজা হয়ে যাওয়ার প্রভাব শুধু একটা নামাজ মিস হওয়ায় সীমাবদ্ধ থাকে না। সারাদিনের রুটিন এলোমেলো হয়ে যায়, অফিসে বা কাজে দেরি হয়, আর মনের মধ্যে একটা অপরাধবোধ কাজ করতে থাকে যা সারাদিনের প্রশান্তি নষ্ট করে দেয়।
- সকালে তাড়াহুড়ো করে বের হতে গিয়ে নাস্তা বাদ পড়ে, যার প্রভাব পড়ে সারাদিনের এনার্জিতে।
- বারবার কাজা হওয়ার কারণে নিজের প্রতি বিরক্তি জন্মায়, অনেকে এই কারণে অন্য নামাজেও অলসতা বোধ করতে শুরু করেন — এই চক্র থেকে বের হওয়ার কিছু উপায় নামাজে অলসতা দূর করার উপায় নিয়ে আলাদাভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
- পরিবারের অন্য সদস্যরাও একই সমস্যায় ভুগলে ঘরে একটা নেতিবাচক প্যাটার্ন তৈরি হয়ে যায়, যেখানে কেউই একে অপরকে জাগানোর দায়িত্ব নেয় না।
- রাতে দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাস চোখের নিচে কালি, দিনভর ক্লান্তি আর মনোযোগে ঘাটতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই সমস্যাটা একবার সমাধান হয়ে গেলে পুরো দিনের ছন্দই বদলে যায়। নিচে ধাপে ধাপে দেখানো হলো কীভাবে এটা সম্ভব।
ঘুমের চক্র বুঝলে এলার্ম কাজ করবে ভালো

আমরা যখন গভীর ঘুমের মাঝখান থেকে হঠাৎ জেগে উঠি, তখন শরীর ভারী লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে — চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে “স্লিপ ইনার্শিয়া” বলে। মানুষের ঘুম সাধারণত প্রায় দেড় ঘণ্টার (৯০ মিনিটের) চক্রে চলে, আর এই চক্রের মাঝামাঝি জেগে উঠলেই ক্লান্তি বেশি লাগে। এই কারণে এলার্ম এমনভাবে সেট করা ভালো যেন ঘুমের মোট সময় দেড় ঘণ্টার গুণিতক হয় — যেমন ৬ ঘণ্টা বা সাড়ে সাত ঘণ্টা, সাড়ে ছয় ঘণ্টা নয়।
এভাবে হিসেব করুন: রাত সাড়ে এগারোটায় ঘুমাতে গেলে, ভোর পাঁচটায় ফজর হলে সেটা প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা হয়ে যায় — এক চক্র বেশি বা কম করে সাড়ে চারটা বা ছয়টায় এলার্ম দিলে জাগা সহজ হয়ে যায়।
এলার্মের জায়গা বদলালেই অর্ধেক সমস্যা মিটে যায়
বিছানার পাশে এলার্ম রাখলে ঘুমের মধ্যেই হাত চলে যায় বন্ধ করতে, এবং শরীর পুরোপুরি সজাগ হওয়ার আগেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে। এলার্ম বা মোবাইল রুমের অন্য কোণে, বিছানা থেকে অন্তত পাঁচ-ছয় পা দূরে রাখুন — বন্ধ করতে হলে শারীরিকভাবে উঠে দাঁড়াতেই হবে। এই দূরত্বটাই আসলে পুরো পদ্ধতির সবচেয়ে সহজ অথচ সবচেয়ে কার্যকর অংশ।
- এলার্মের ভলিউম ধীরে ধীরে বাড়ে এমন টাইপ বেছে নিন, হঠাৎ জোরে শব্দে চমকে ওঠার বদলে।
- একটার বদলে দুটো ভিন্ন সময়ে (যেমন পাঁচ মিনিট ব্যবধানে) এলার্ম সেট করলে স্নুজ চাপার প্রবণতা কমে।
- মোবাইলের বদলে আলাদা এলার্ম ঘড়ি ব্যবহার করলে ঘুমানোর আগে ফোন হাতে নেওয়ার অভ্যাসও কমে যায়।
- চাইলে Alarmy-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে অঙ্ক সমাধান না করলে বা ঘরের ভেতর হেঁটে নির্দিষ্ট জায়গায় না গেলে এলার্ম বন্ধ হয় না — এতে বাধ্য হয়েই পুরোপুরি জেগে উঠতে হয়।
বাস্তব অভিজ্ঞতা: ফোনটা বিছানা থেকে দূরে রাখার প্রথম রাতেই আমি পরিবর্তনটা বুঝতে পারি — এলার্ম বন্ধ করতে গিয়ে উঠে দাঁড়াতেই ঘুম অনেকটা কেটে গিয়েছিল। এরপর আর বিছানায় ফিরে যাওয়ার ইচ্ছাটাও কম হতো।
রাতে দেরিতে ঘুমানোর অভ্যাস আসলে কতটা প্রভাব ফেলে?
রাত বারোটার পরে ঘুমাতে গেলে ফজরের জন্য বরাদ্দ ঘুমের সময় চার-পাঁচ ঘণ্টার নিচে নেমে আসে, যা একটানা কয়েকদিন চললে শরীরে ঘুমের ঘাটতি জমতে থাকে। এই ঘাটতি এমনভাবে জমে যে এলার্ম বাজলেও মস্তিষ্ক সেটা প্রসেসই করতে পারে না। এশার নামাজের পর মোবাইল স্ক্রিনের সময়টা সীমিত করে দিলে ঘুম আসার সময়টা এমনিতেই এগিয়ে আসে।
এলার্ম বাজলেই উঠুন — এই আকর্ষণীয় অভ্যাসটার ভিডিও দেখুন, ধাপে ধাপে বোঝানো আছে কীভাবে শুরু করবেন:
ঘুমানোর আগের কয়েকটা আমল যা ফজরে ওঠা সহজ করে
ঘুমানোর আগে ওযু করে শোয়া, ডান কাত হয়ে ঘুমানো, এবং সূরা মুলক তিলাওয়াত করার অভ্যাস হাদিসে বর্ণিত আছে। বিতরের নামাজের পর আন্তরিকভাবে দোয়া করাও এই অভ্যাসের একটা অংশ।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ হাদিসের কথা না বললেই নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন শয়তান তার মাথার পেছনে তিনটি গিট দিয়ে দেয়। প্রতিটি গিটে বলে, “তোমার সামনে দীর্ঘ রাত পড়ে আছে, ঘুমাও।” কেউ যদি জেগে আল্লাহর জিকির করে, তাহলে একটি গিট খুলে যায়; ওযু করলে দ্বিতীয়টি খোলে; আর নামাজ পড়লে সব গিট খুলে যায়, ফলে সে সকালে চাঙ্গা ও ভালো মন নিয়ে ওঠে। নয়তো অলস ও খারাপ মন নিয়ে ঘুম থেকে ওঠে (সহিহ বুখারি: ১১৪২)।
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই জিকির করা বা ওযু করে নেওয়াটা শুধু শারীরিক না, আধ্যাত্মিক দিক থেকেও শয়তানের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার একটা উপায়।
এই আমলগুলো শুধু রুহানি উপকারই দেয় না, মনকে প্রস্তুত করে দেয় যে ভোরে উঠতে হবে — আর এই মানসিক প্রস্তুতিই আসল কাজটা করে।
- ঘুমানোর ঠিক আগে ফোন স্ক্রল বন্ধ করে কিছুক্ষণ কুরআন তিলাওয়াত করুন।
- আন্তরিকতার সাথে নিয়ত করুন যে ফজরে উঠবেনই, শুধু “উঠতে পারলে ভালো হয়” ভাবার বদলে।
- পরিবারের কাউকে বলে রাখুন ডেকে দিতে — একে অপরকে সাহায্য করার এই অভ্যাসটা কার্যকর প্রমাণিত।
নিজের পরিবারে এই আমলগুলো প্র্যাকটিস করা শুরু করার পর লক্ষ্য করেছি, শুধু এলার্মের উপর নির্ভর করার চেয়ে মানসিক প্রস্তুতিটাই বেশি কাজ করে। আর এই পুরো চেষ্টাটার পেছনে আসল চালিকাশক্তি হলো ফজরের ফজিলত — রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল, সে আল্লাহর জিম্মায় (নিরাপত্তায়) চলে গেল (সহিহ মুসলিম)। এই একটা কথা মাথায় রাখলেই এলার্মের প্রতি অবহেলাটা অনেকটা কমে যায়।
নামাজের সময় ঠিক রাখতে চাইলে Muslim Pro বা Pillars-এর মতো অ্যাপে সঠিক ফজরের সময় ও রিমাইন্ডার সেট করে রাখতে পারেন, যা স্থানীয় সময় অনুযায়ী প্রতিদিন আপডেট হয়।
দুপুরের ছোট্ট বিশ্রাম রাতের ঘুমকে সহজ করে
দুপুরের খাবারের পর মাত্র আধঘণ্টার একটা ছোট বিশ্রাম (কায়লুলা) শরীরকে চাঙ্গা রাখে, ফলে রাতে ঘুম আসতেও দেরি হয় না। তবে এই বিশ্রাম যেন দেড় ঘণ্টার বেশি না হয় — বেশি হলে রাতের ঘুমের সময়েই প্রভাব পড়ে।
সাধারণ এলার্ম টিপস বনাম কার্যকর পদ্ধতি: পার্থক্যটা কোথায়?
| বিষয় | সাধারণ পদ্ধতি | কার্যকর পদ্ধতি |
|---|---|---|
| এলার্মের অবস্থান | বালিশের পাশে | রুমের অন্য কোণে, ৫-৬ পা দূরে |
| ঘুমের সময় হিসাব | যেকোনো সময় ঘুমানো | দেড় ঘণ্টার চক্র হিসেব করে |
| জাগানোর ব্যবস্থা | শুধু এলার্মের উপর নির্ভর | পরিবার/বন্ধুর সাহায্য + এলার্ম |
| রাতের রুটিন | ফোন স্ক্রল করতে করতে ঘুম | ওযু, তিলাওয়াত, দোয়া করে ঘুম |
| দুপুরের ঘুম | নেই বা অনিয়মিত | নিয়মিত ৩০ মিনিটের বিশ্রাম |
ফজরে ওঠার আগের রাতের চেকলিস্ট
- এশার নামাজের এক ঘণ্টার মধ্যে ঘুমানোর প্রস্তুতি শুরু
- মোবাইল স্ক্রিন বন্ধ, এলার্ম দূরত্ব বজায় রেখে সেট করা
- ওযু করে, ডান কাত হয়ে শোয়া
- দেড় ঘণ্টার গুণিতক হিসেব করে এলার্মের সময় ঠিক করা
- পরিবারের কাউকে ডেকে দিতে বলা
একা ভ্রমণের সময় এই সমস্যায় নিজে পড়ার পর বুঝেছি, একটামাত্র অভ্যাস বদলালে হয় না — উপরের প্রতিটা ধাপ একসাথে মেনে চললেই ফল আসে, আর সেটা আসতে সাধারণত দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লাগে। এই একই ধৈর্য আর মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাসটা নামাজের ভেতরেও কাজে লাগে — এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে নামাজে মনোযোগ ধরে রাখার উপায় পড়ে দেখতে পারেন।
যারা দুই-তিন সপ্তাহ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের জন্য অ্যাডভান্সড কৌশল

শুরুর নিয়মগুলো মেনে চলার পরও অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা থেকে যায়, কারণ শরীরের ঘুম-জাগরণ চক্র (সার্কেডিয়ান রিদম) রাতারাতি বদলায় না। একটা নতুন ঘুমের রুটিন শরীরে পুরোপুরি বসতে সাধারণত ২১ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে — এই সময়টা পার না করেই অনেকে হাল ছেড়ে দেন।
আলো নিয়ন্ত্রণ করুন, শুধু সময় না। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ঘরের মূল বাতি নিভিয়ে হালকা হলুদ আলো ব্যবহার করলে মস্তিষ্কে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ দ্রুত শুরু হয় — এই হরমোনটাই ঘুম আনার মূল কাজ করে। মোবাইল বা ল্যাপটপের নীল আলো এই প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়, তাই ঘুমানোর আধা ঘণ্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ রাখাটা সবচেয়ে কার্যকর একটা অভ্যাস।
সূর্যের আলো দিয়ে দিন শুরু করুন। ফজরের পর জানালার পর্দা সরিয়ে বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে কয়েক মিনিট প্রাকৃতিক আলোতে থাকলে শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি পরের দিন একই সময়ে জাগার জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে যায়। এই ছোট্ট অভ্যাসটা দিনে মাত্র পাঁচ মিনিট সময় নেয়, কিন্তু পরের রাতের ঘুম দ্রুত আসতে সাহায্য করে।
ক্যাফেইনের সময় হিসেব করুন। দুপুরের পর চা-কফি খাওয়া চালিয়ে গেলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়, কারণ ক্যাফেইন শরীরে ছয় থেকে আট ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকে। বিকেল চারটার পর ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চললে রাত সাড়ে দশটা-এগারোটার মধ্যে ঘুম আসা সহজ হয়ে যায়।
“দুই-এলার্ম রুল” প্র্যাকটিস করুন। একটা এলার্ম আসল জাগার সময়ের দশ মিনিট আগে হালকা ভলিউমে, আর দ্বিতীয়টা মূল সময়ে জোরে — এই পদ্ধতিতে শরীর ধাক্কা না খেয়ে ধীরে ধীরে জেগে ওঠে। যারা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় ভুগছেন, তাদের জন্য এই ছোট পরিবর্তনটাই বড় পার্থক্য তৈরি করে।
দীর্ঘমেয়াদে এই ফল ধরে রাখতে হলে সপ্তাহান্তেও (ছুটির দিনেও) ঘুমানো ও জাগার সময়ে বড় পরিবর্তন না আনাই ভালো — ছুটির দিনে দুই ঘণ্টার বেশি দেরিতে ওঠা মানেই সোমবার আবার প্রথম থেকে শুরু করা।
যেসব ভুলের কারণে চেষ্টা করেও কাজ হয় না
স্নুজ বাটনে ভরসা করা সবচেয়ে সাধারণ আর সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাস। প্রতিবার স্নুজ চাপার পর ঘুম আরও গভীর হয়ে যায়, ফলে দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার এলার্ম বাজলে ওঠা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এই অভ্যাস চালিয়ে গেলে ফজরের সময়টা পুরোপুরি পার হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
শুধু একদিনের পরিবর্তন দিয়ে ফল আশা করা আরেকটা বড় ভুল। এক রাত আগে ঘুমিয়ে পরদিন ফজরে উঠতে পারলেই অনেকে ভাবেন সমস্যা সমাধান হয়ে গেছে, কিন্তু পরের রাতেই আবার আগের অভ্যাসে ফিরে যান। এভাবে থেমে থেমে চেষ্টা করলে শরীর কখনো নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হতে পারে না।
রাতের খাবার দেরিতে খাওয়া হজমের সমস্যা তৈরি করে, যার প্রভাবে ঘুম ঠিকমতো গভীর হয় না। ঘুমের ঠিক আগে ভারী খাবার খেলে শরীর তখনও হজম প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকে, ফলে ঘুম হালকা ও বিঘ্নিত হয়।
- একা লড়াই করা: পরিবার বা রুমমেটের সাহায্য না নিয়ে শুধু নিজের ইচ্ছাশক্তির উপর ভরসা করলে সাফল্যের হার কমে যায়।
- ঘুমের ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা না করা: কোনো রাতে দেরি হয়ে গেলে পরের দিন দুপুরে একটু বেশি বিশ্রাম না নিয়ে টানা কয়েকদিন কম ঘুমিয়ে চালিয়ে যাওয়া।
- প্রথম কয়েকদিনেই হাল ছেড়ে দেওয়া: নতুন অভ্যাস শরীরে বসতে সময় লাগে, তিন-চার দিনে ফল না দেখলেই পুরনো রুটিনে ফিরে যাওয়া সবচেয়ে বড় ভুল।
এই ভুলগুলো একেবারে এড়িয়ে চলাটা সহজ না, তবে সচেতন থাকলে এগুলো চিহ্নিত করা এবং শোধরানো অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।
ফজরের নামাজে উঠা নিয়ে মানুষ যা জানতে চান
ফজরের নামাজে উঠতে না পারলে কী করণীয়?
ঘুম ভেঙে সূর্য ওঠার পর বুঝতে পারলে দেরি না করে কাজা নামাজ আদায় করে নিন। সেই সাথে যেদিন এটা ঘটে, সেদিন রাতেই পরবর্তী দিনের জন্য এলার্মের সময় ও অবস্থান ঠিক করে ঘুমাতে যান, যাতে একই ভুল না হয়।
ফজরে ঘুম থেকে উঠার জন্য কোন দোয়া পড়া উচিত?
ঘুমানোর আগে পড়ার মাসনূন দোয়া হলো: “আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমূতু ওয়া আহ্ইয়া” (হে আল্লাহ, আপনার নামে আমি মরি এবং আপনার নামেই জীবিত হই)। এছাড়া আয়াতুল কুরসি ও সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ঘুমানো সুন্নাত। ঘুম ভাঙার সাথে সাথে পড়বেন: “আলহামদু লিল্লাহিল্লাজি আহ্ইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর” (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি মৃত্যুর (ঘুমের) পর আমাদের জীবিত করলেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন)। এই জিকিরগুলো নিয়মিত পড়ার অভ্যাস করলে ঘুম ও অলসতা কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।
ঘুমের ওষুধ বা মেলাটোনিন সাপ্লিমেন্ট কি নিরাপদ সমাধান?
সাধারণত না, বিশেষ করে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া। রুটিন পরিবর্তন আর আলো-অন্ধকার নিয়ন্ত্রণের মতো প্রাকৃতিক পদ্ধতি বেশিরভাগ মানুষের জন্য যথেষ্ট, আর ঘুমের সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে সাপ্লিমেন্টের বদলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।
ফজরের সময় এলাকাভেদে বদলায় কেন, আর এটা কীভাবে জানব?
সূর্যোদয়ের সময়ের ওপর ভিত্তি করে ফজরের সময় প্রতিদিন কিছুটা করে বদলায় এবং এলাকাভেদেও ভিন্ন হয়। স্থানীয় মসজিদের সময়সূচি বা নির্ভরযোগ্য নামাজের সময়ের অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতিদিনের সঠিক সময়টা জেনে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
একবার রুটিন গড়ে উঠলে কি এলার্মের আর দরকার পড়বে না?
সাধারণত শরীর নিজে থেকেই ফজরের কাছাকাছি সময়ে জেগে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলে, তবে শুরুর কয়েক সপ্তাহ এলার্ম ব্যাকআপ হিসেবে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। রমজান বা রাত জাগার প্রয়োজন হওয়া বিশেষ সময়ে আবার এলার্মের উপর নির্ভর করতে হতে পারে।
আজ রাত থেকেই শুরু করার সময়
ফজরের নামাজে সময়মতো ওঠা কোনো জাদুমন্ত্র না, এটা কয়েকটা ছোট অভ্যাসের সমষ্টি — ঘুমের সময় ঠিক করা, এলার্ম দূরে রাখা, আলো নিয়ন্ত্রণ করা আর মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। এই অভ্যাসগুলো একসাথে চর্চা করলে পরিবর্তনটা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নিজের জীবনে এই পরিবর্তনগুলো একটার পর একটা যোগ করতে গিয়ে বুঝেছি, নিখুঁত হওয়ার দরকার নেই — কোনো একটা রাত মিস হয়ে গেলেও পরের রাত থেকেই আবার শুরু করা যায়। আজ রাতেই একটা মাত্র পরিবর্তন দিয়ে শুরু করুন — এলার্মটা শুধু হাতের নাগালের বাইরে সরিয়ে রাখুন, বাকিটা ধীরে ধীরে যোগ হবে।
এমন জীবনযাপনের ছোট ছোট অভ্যাস কীভাবে বড় পরিবর্তন আনতে পারে, সেই ভাবনা থেকেই মৃত্যুর আগে মানুষ যে বিষয় নিয়ে আফসোস করে পড়ে দেখতে পারেন — সময়মতো ছোট অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্ব সেখানেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর সপ্তাহের বিশেষ দিনগুলোর আমল নিয়ে আগ্রহ থাকলে জুমার দিনের আমল ও ফজিলত লেখাটাও আপনার কাজে লাগতে পারে।
একটা কথা বলে রাখি — ঘুম আর অভ্যাস নিয়ে এই লেখায় যা শেয়ার করলাম, তা নিজের অভিজ্ঞতা আর সাধারণ পর্যবেক্ষণ থেকে। কারো ঘুমের সমস্যা যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে বা শারীরিক কোনো কারণে হয় বলে মনে হয়, তাহলে একজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলে নেওয়াই ভালো। আর নামাজ-সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট মাসয়ালা নিয়ে দ্বিধা থাকলে স্থানীয় একজন আলেমের কাছ থেকে জেনে নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!








