জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো যা শিখিয়ে যায়
গত কয়েক মাসে পরিবারের দুইজন আত্মীয়কে হারিয়েছি। দুজনের মৃত্যুশয্যার পাশে বসে থাকার সুযোগ হয়েছিল। শেষ নিঃশ্বাস ফেলার আগ মুহূর্তে দেখেছি, কেউ টাকাপয়সা বা সম্পদ নিয়ে একটি কথাও বলেননি। বারবার বলছিলেন, আরেকটু সময় পেলে নামাজটা ঠিকভাবে আদায় করতেন, সন্তানদের সঙ্গে আরও ভালো ব্যবহার করতেন, পুরোনো একটা ঝগড়া মিটিয়ে ফেলতেন। এই দুটো অভিজ্ঞতা নিজের জীবন নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। কোরআন ও হাদিসেও এই একই ধরনের অনুতাপের কথা বারবার এসেছে।
সংক্ষেপে উত্তর: মৃত্যুর সময় মানুষ সবচেয়ে বেশি আফসোস করে নামাজ ও তাওবায় দেরি করার জন্য, সদকা ও নেক আমলের সুযোগ হাতছাড়া করার জন্য, বাবা-মা ও আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক অবহেলা করার জন্য, মানুষের হক (বান্দার হক) নষ্ট করার জন্য এবং মূল্যবান সময় অকারণে নষ্ট করার জন্য। সুরা আল-মুমিনুন (২৩:৯৯-১০০) ও সুরা আল-মুনাফিকুন (৬৩:১০) আয়াতে এই আফসোসের চিত্র স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
আমাদের অনেকের মধ্যেই একটা সাধারণ ভুল ধারণা কাজ করে—মনে হয় সামনে অনেক সময় পড়ে আছে। নামাজ পরে পড়ব, তাওবা পরে করব, বাবা-মায়ের সঙ্গে ভালো সময় পরে কাটাব। এই “পরে করব” মানসিকতা এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে আমরা টেরই পাই না কতটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ পিছিয়ে দিচ্ছি। মৃত্যু কখন আসবে তা কারও জানা নেই—যিনি আজ সুস্থ, কাল তিনিই হয়তো আর নেই। এই বাস্তবতাটা মেনে নেওয়া কঠিন বলেই মানুষ সহজে নিজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে পারে না।
মৃত্যুর সময়ের আফসোসগুলো ঠিক কেমন হয়

মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষ প্রথমে কী নিয়ে আকুতি জানায়?
কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, মৃত্যু এসে গেলে মানুষ ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাবে। সুরা আল-মুমিনুনের ৯৯-১০০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই আকুতির পর আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
“হে আমার রব, আমাকে ফিরিয়ে দিন, যাতে যে কাজ ফেলে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।” — সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত ৯৯-১০০ (সারমর্ম)
ব্যক্তিগত উপলব্ধি: প্রথম যখন এই আয়াতের অর্থ পড়েছিলাম, তখনই বুঝেছিলাম—”পরে করব” বলে যেসব ছোট ছোট নেক কাজ ফেলে রেখেছি, সেগুলোই একদিন সবচেয়ে বড় আফসোসের কারণ হতে পারে।
সদকা ও নেক আমলের সুযোগ হারানো কেন এত বড় আফসোসের কারণ?
সুরা আল-মুনাফিকুনের ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, মৃত্যু আসার আগে আল্লাহপ্রদত্ত রিজিক থেকে ব্যয় করতে। নইলে মানুষ বলবে, আরও কিছু সময় পেলে সে সদকা করত এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হতো। জীবিত অবস্থায় অনেকেই ভবিষ্যতের জন্য সম্পদ জমাতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে আশপাশের অভাবী মানুষের দিকে তাকানোর সময় পান না।
নিজে এই বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার পর একটা বিষয় পরিষ্কার হয়েছে—ইসলামে সম্পদ উপার্জন নিষিদ্ধ নয়, বরং হালাল উপার্জন উৎসাহিত করা হয়েছে। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন সম্পদ জমানোর তাড়নায় দান-সদকার অভ্যাসটাই হারিয়ে যায়।
এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে ভিডিওটি দেখে নিতে পারেন:
সম্পদ ও পরিবারের প্রতি ব্যস্ততা কীভাবে আফসোসে রূপ নেয়?
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তিনটি জিনিস যায়—তার পরিবার, তার সম্পদ ও তার আমল।
“মৃত ব্যক্তির সঙ্গে তিনটি জিনিস যায়: তার পরিবার, তার সম্পদ ও তার আমল। এর মধ্যে দুটি ফিরে আসে, একটি থেকে যায়।” — সহিহ মুসলিম: ২৯৬০ (সারমর্ম)
এই হাদিসটি পড়লে বোঝা যায়, দুনিয়াবি ব্যস্ততা মন্দ নয়, কিন্তু সেই ব্যস্ততা যদি নামাজ ও পরিবারের প্রতি দায়িত্বকে গ্রাস করে ফেলে, তাহলে একসময় প্রশ্ন উঠবেই।
বান্দার হক নষ্ট করা কেন সবচেয়ে ভয়ের বিষয়?
নামাজ বা সদকায় ঘাটতি থাকলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া যায়, কিন্তু মানুষের হক নষ্ট করলে সেই ক্ষমা সরাসরি আল্লাহর কাছে চেয়ে মিটে যায় না—যার হক নষ্ট হয়েছে, তাকেও সন্তুষ্ট করতে হয়। কারও ঋণ পরিশোধ না করা, কারও জমি বা সম্পত্তি জোর করে দখল করে রাখা, কাউকে কথায় বা কাজে কষ্ট দেওয়া—এসব বিষয় নিয়েই মৃত্যুর সময় মানুষ সবচেয়ে বেশি অস্থির হয়ে পড়ে।
সহিহ মুসলিমের ১৮৮৬ নম্বর হাদিসে এসেছে, শহীদেরও সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়, শুধু ঋণ ছাড়া। আলেমরা এই হাদিস থেকে বান্দার হকের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেন, আল্লাহর হক ক্ষমা করার এখতিয়ার সরাসরি আল্লাহর, কিন্তু মানুষের হকের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন্তুষ্টিও জরুরি হয়ে পড়ে। তাই কারও প্রতি অন্যায় করে থাকলে, সেটা যত ছোটই হোক, জীবিত থাকতেই সংশোধনের চেষ্টা করা উচিত।
সামান্য অভিমান বা রাগ পুষে রাখা নিয়ে আফসোস কেমন হয়?
মৃত্যুশয্যায় অনেকে এমন কথাও বলেন যে, “কেন সামান্য একটা বিষয়ে এত রাগ করে ছিলাম, কেন একটু ছাড় দিলাম না!” ছোট একটা অভিমান বা পুরোনো একটা রাগের কারণে বছরের পর বছর কারও সঙ্গে কথা বন্ধ রাখা—এটা এমন একটা ভুল, যা মৃত্যুর সময় এসে হঠাৎ অনেক তুচ্ছ মনে হতে থাকে। ততক্ষণে সময় হাতে না-ও থাকতে পারে।
বাবা-মা ও আত্মীয়দের সঙ্গে সম্পর্ক অবহেলার আফসোস কেমন হয়?
জীবিত বাবা-মাকে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া, তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা—এসবের মূল্য অনেক সময় তাদের হারানোর পরই বোঝা যায়। একইভাবে সম্পত্তির বিরোধের কারণে আত্মীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ রাখাও একটা সাধারণ ভুল, যা মৃত্যুর পর আর সংশোধন করার সুযোগ থাকে না।
মৃত্যুর পরও কোন আমলগুলো কাজে আসে?
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মারা গেলে আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয়ের সওয়াব চলতেই থাকে।
“মানুষ মারা গেলে আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি বিষয়ের সওয়াব চলতে থাকে—সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তান যে দোয়া করে।” — সহিহ মুসলিম: ১৬৩১ (সারমর্ম)
একটি বাস্তব উদাহরণ: পরিচিত একজনের কথা মনে পড়ে, যিনি নিজের এলাকায় একটা ছোট পাঠাগার গড়ে গিয়েছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পরও প্রতিদিন সেখানে অনেকে বই পড়তে আসে। ছোট মনে হলেও এই ধরনের কাজ দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব রেখে যায়।
সাধারণ ভুল ধারণা: অনেকে মনে করেন, শুধু বড় অঙ্কের দান বা বিশাল কোনো কাজই সদকায়ে জারিয়া হতে পারে। বাস্তবে একটা গাছ লাগানো, কাউকে দরকারি একটা দক্ষতা শেখানো বা সন্তানকে সততার সঙ্গে বড় করাও এই তালিকায় পড়ে।
দুনিয়ার মোহ বনাম আখিরাতের বাস্তবতা
| মানুষ যা ভাবে | বাস্তবতা |
|---|---|
| সময় তো অনেক আছে, নামাজ পরে পড়ব | মৃত্যু যেকোনো সময় আসতে পারে (সুরা আল-মুনাফিকুন) |
| সম্পদ জমাতে পারলেই নিরাপদ থাকব | সম্পদ কবরে সঙ্গে যায় না, যায় শুধু আমল (সহিহ মুসলিম: ২৯৬০) |
| একটু ঋণ বা পাওনা বাকি থাকলে সমস্যা নেই | বান্দার হক আল্লাহও নিজে থেকে মাফ করেন না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন্তুষ্টি জরুরি |
| যৌবনটা এখন উপভোগের সময়, হিসাব পরে দেব | হাশরের ময়দানে যৌবনকাল কীভাবে কাটানো হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন করা হবে (জামে তিরমিজি: ২৪১৬) |
বিশেষ পরিস্থিতিতে করণীয় চেকলিস্ট
- বাবা-মা জীবিত থাকলে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া ও তাদের প্রয়োজনে পাশে থাকা
- দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা আত্মীয়তার সম্পর্ক ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা
- কারও পাওনা টাকা, জমি বা আমানত থাকলে দ্রুত ফেরত দেওয়া বা মীমাংসা করা
- সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সদকার অভ্যাস তৈরি করা
- নামাজ ও তাওবাকে আজকের অগ্রাধিকারে রাখা
- পুরোনো রাগ-অভিমান থাকলে নিজে থেকে যোগাযোগ করে মিটিয়ে ফেলা
- সন্তানদের সততা ও নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া, যা ভবিষ্যতেও কাজে আসবে
দুনিয়ার কাজকর্মকে ইসলাম সম্পূর্ণ অস্বীকার করে না। পরিবারের দেখাশোনা করা, হালাল উপার্জন করা, ব্যবসা করা—এসবও সঠিক নিয়তে নেক আমলে পরিণত হতে পারে। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন এই কাজগুলো মানুষকে আল্লাহ ও আখিরাতের কথা ভুলিয়ে দেয়।
এই উপলব্ধিকে দৈনন্দিন অভ্যাসে রূপ দেওয়া যায় কীভাবে
একটা উপলব্ধি এক দিনের জন্য মনে গেঁথে থাকা আর সেটা জীবনের অংশ হয়ে যাওয়া—এই দুটোর মধ্যে অনেক ফারাক। বেশিরভাগ মানুষ মৃত্যুর কথা শুনে বা পড়ে সাময়িকভাবে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, কিন্তু কয়েক দিন পরই আবার আগের রুটিনে ফিরে যান। মানুষ প্রতিদিন গড়ে চব্বিশ ঘণ্টা সময় পায়, আর এই সময়ের মধ্যেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পালনের বিধান রাখা হয়েছে—এই কাঠামোটাই বলে দেয়, ইসলাম দিনের সময়কে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে ধারাবাহিক অভ্যাসের দিকে ঠেলে দেয়।
তাই একসঙ্গে জীবনের সব দিক বদলে ফেলার চেষ্টা না করে, একটা নির্দিষ্ট ছোট অভ্যাস দিয়ে শুরু করা তুলনামূলক সহজ ও টেকসই হয়। যেমন প্রতিদিন ফজরের পর দুই-তিন মিনিট বসে আগের দিনের কাজ পর্যালোচনা করা, অথবা সপ্তাহে একদিন নির্দিষ্ট একটা অঙ্কের সদকা আলাদা করে রাখা। ছোট শুরু টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
পারিবারিক পরিবেশে এই অভ্যাস আরও কার্যকর হয় যখন সবাই একসঙ্গে যুক্ত থাকে। সপ্তাহে একদিন পরিবারের সবাই মিলে বাবা-মা বা বয়স্ক আত্মীয়দের সঙ্গে সময় কাটানো, বাচ্চাদের সঙ্গে বসে নামাজের গুরুত্ব নিয়ে সহজ ভাষায় কথা বলা—এই ছোট ছোট রুটিনই দীর্ঘমেয়াদে একটা পরিবারের সংস্কৃতি তৈরি করে দেয়।
সময় ব্যবস্থাপনার দিক থেকেও একটা বাস্তব পদ্ধতি কাজে আসতে পারে। দিনের শুরুতে তিনটা কাজ আলাদা করে রাখা যায়—একটা ইবাদতের জন্য, একটা পরিবারের জন্য, একটা নিজের দায়িত্বের জন্য। মোবাইল ফোনে দিনে গড়ে কয়েক ঘণ্টা সময় ব্যয় হয় বলে বিভিন্ন গবেষণায় বারবার উঠে আসে—এই সময়ের সামান্য অংশ সরিয়ে নিয়ে ইবাদত বা পরিবারের জন্য ব্যয় করলেও তা দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
তাওবার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। একবার তাওবা করেই থেমে না গিয়ে, নিয়মিত নিজের ভুলগুলো পর্যালোচনা করার অভ্যাস তৈরি করা দরকার। মাসে অন্তত একবার নিজের কাজ, কথা ও সম্পর্কগুলো নিয়ে বসে ভাবা—কার হক নষ্ট হয়েছে, কোথায় অবহেলা হয়েছে—এটা একটা বাস্তব ও ধারাবাহিক পদ্ধতি হতে পারে।
মানুষ যেসব ভুল ধারণায় সহজে আটকে যায়

মৃত্যু ও আফসোসের বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে গিয়ে অনেকেই কিছু বিপজ্জনক ভুল ধারণায় আটকে পড়েন। এই ভুলগুলো নিয়ে সতর্ক না থাকলে ভালো উদ্দেশ্য নিয়ে শুরু করা চেষ্টাও উল্টো ফল দিতে পারে।
একটা সাধারণ ভুল হলো, মৃত্যুর কথা মনে হলেই হতাশ হয়ে যাওয়া। কেউ কেউ মনে করেন, অতীতে অনেক গুনাহ হয়ে গেছে বলে এখন আর কিছু করার নেই, গুনাহ মাফ হওয়ার সুযোগ আর নেই। এই চিন্তাটা আসলে বিপজ্জনক, কারণ এটা মানুষকে সংশোধনের পথ থেকে আরও দূরে সরিয়ে দেয়। বাস্তবতা হলো, জীবিত থাকা পর্যন্ত তাওবা করার দরজা খোলা থাকে।
আরেকটা ভুল ধারণা হলো, শুধু বড় ধরনের ইবাদত বা দান-খয়রাতই গুরুত্বপূর্ণ, ছোট ছোট ভালো কাজের কোনো মূল্য নেই। এই মানসিকতার কারণে অনেকে ছোট সুযোগগুলো এড়িয়ে যান, অথচ ধারাবাহিক ছোট কাজই দীর্ঘমেয়াদে বড় প্রভাব রাখতে পারে।
কেউ কেউ আবার উল্টো দিকে চলে যান—নিজেকে যথেষ্ট ভালো মনে করে আত্মতুষ্টিতে ভোগেন। মনে করেন, নিয়মিত নামাজ পড়া বা মাঝেমধ্যে দান করাই যথেষ্ট, তাই সম্পর্কের অবহেলা বা মানুষের হক নষ্ট করার বিষয়গুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। এই ধরনের চিন্তা থেকে সাবধান থাকা দরকার, কারণ ইবাদত ও মানুষের হক—দুটোই একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলা দরকার—কোনো একটা নির্দিষ্ট অভ্যাস মেনে চললেই মৃত্যুর পরের ফলাফল সম্পূর্ণ নিশ্চিত হয়ে যাবে, এমন দাবি করা ঠিক নয়। এই লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ভয় দেখানো নয়, বরং বাস্তবসম্মতভাবে নিজের জীবন নিয়ে ভাবার একটা সুযোগ তৈরি করা।
মানুষ প্রায়ই যেসব প্রশ্ন নিয়ে দ্বিধায় থাকে
মৃত্যুর ভয় পাওয়া কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, মৃত্যুর ভয় পাওয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক একটা মানসিক প্রতিক্রিয়া। প্রায় প্রতিটি মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময় এই ভয় অনুভব করেন। এই ভয়কে অস্বীকার না করে বরং এটাকে জীবন গোছানোর একটা প্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করাই বেশি কার্যকর।
তাওবা করলে কি সব আফসোস মুছে যায়?
আন্তরিক তাওবা মানুষের ভেতরের অনুশোচনা অনেকটাই হালকা করে দেয়। তবে যাদের হক নষ্ট হয়েছে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করা বা পাওনা মিটিয়ে দেওয়ার মতো বাস্তব পদক্ষেপও প্রয়োজন হতে পারে। শুধু মুখে তাওবা করলেই সব কিছু সম্পূর্ণ হয়ে যায় না, বাস্তব সংশোধনও জরুরি।
বয়স কম থাকলে কি এসব নিয়ে এখনই ভাবার দরকার আছে?
হ্যাঁ, বয়স যত কমই হোক না কেন, ভালো অভ্যাস তৈরি করার সবচেয়ে ভালো সময় এখনই। মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই, তাই তরুণ বয়সে অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ ও কার্যকর।
পুরোনো সম্পর্ক ঠিক করা কি সবসময় সম্ভব?
সব ক্ষেত্রে সম্পূর্ণভাবে সম্পর্ক ঠিক করা সম্ভব না-ও হতে পারে, তবে নিজের পক্ষ থেকে চেষ্টা করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষমা চাওয়া বা যোগাযোগ করার উদ্যোগ নিলে অনেক সময় সম্পর্ক আগের চেয়ে ভালো হয়ে যায়।
সময়ের অভাবে কি নিয়মিত নেক আমল করা কঠিন হয়ে যায়?
ব্যস্ত জীবনেও প্রতিদিন অল্প সময় বের করে ছোট অভ্যাস চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। বড় পরিবর্তনের বদলে ছোট, ধারাবাহিক চেষ্টাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি টেকসই হয়।
আজ থেকেই যা শুরু করা যায়
মৃত্যুর কথা স্মরণ করা মানেই হতাশ হয়ে যাওয়া নয়, বরং বেঁচে থাকার প্রতিটি মুহূর্তকে আরও অর্থবহ করে তোলার একটা সুযোগ। বড় কোনো পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে আজকের দিন থেকেই ছোট একটা ভালো কাজ শুরু করা যায়—একটা ফোনকল করে বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়া, একটা পুরোনো ঝগড়া মিটিয়ে ফেলা, বা সামান্য কিছু হলেও সদকা করা।
এই লেখাটি একজন সাধারণ পাঠকের নিজস্ব পড়াশোনা ও অভিজ্ঞতা থেকে গুছিয়ে লেখা, কোনো আলেম বা মুফতির ফতোয়া নয়। ব্যক্তিগত বা জটিল কোনো মাসআলার সঠিক জবাবের জন্য নিজের এলাকার পরিচিত ও বিশ্বস্ত আলেম-ইমামের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে নেওয়াই ভালো।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!




