ভেস্তে যাওয়া যুদ্ধবিরতি ফিরিয়ে আনতে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র সাড়া দিয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার ইরান সরকারের এক মুখপাত্র এক্সে এ কথা জানান। প্রস্তাবের মূল শর্ত হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দর থেকে নৌ-অবরোধ সরালে ইরান সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে।
এক নজরে
- দাবি করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
- ২৭ সেপ্টেম্বর, রোববার ট্রাম্প প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা বলেছিলেন।
- আটকে আছে পদক্ষেপের ক্রম এবং হরমুজের নিয়ন্ত্রণ।
ইরানের প্রস্তাবে কী আছে
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও একই পরিমাণ গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সাত দিনের পরিকল্পনা নিয়ে প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এতে রয়েছে:
- লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে সাত দিনের যুদ্ধবিরতি
- ইরানের জব্দ করা অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড়
- ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার
- মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া
বিনিময়ে ইরান ও ওমানের ঠিক করা একটি নতুন পথে হরমুজ খোলার কথা বলা হয়েছে।
কিছু প্রতিবেদনে ৬০ দিনের আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতির একটি লিখিত রূপরেখার কথাও এসেছে। সেখানে ধীরে ধীরে হরমুজ খোলা এবং ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ছাড়ের দাবি ছিল বলে জানা যায়। তবে এমন আলাদা নথির অস্তিত্ব নিশ্চিত করার মতো প্রকাশ্য তথ্য নেই।
ইরানের দাবি, ট্রাম্পের বক্তব্য
২৭ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প জানান, তিনি প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আরাগচি তখন বলেন, প্রত্যাখ্যানের কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা তাঁরা পাননি।
৩০ সেপ্টেম্বর ইরানের মুখপাত্র জানান, যুক্তরাষ্ট্র সাড়া দিয়েছে বলে আরাগচি সরকারকে জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।
ইরান চায়, জুনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ডনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি আবার কার্যকর হোক। স্বাক্ষরের দুই সপ্তাহ পর ওই চুক্তি ভেস্তে গিয়েছিল।
কাতারের মধ্যস্থতা ও দোহার বার্তা
যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রথমবারের মতো পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। মধ্যস্থতা করছে কাতার।
আলোচনা সম্পর্কে অবহিত একজন অ-ইরানি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার নিউ ইয়র্ক থেকে ফেরার পথে আরাগচি দোহায় যাত্রাবিরতি করেন। তখন কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের সাড়ার কথা জানান।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য, কী কী পদক্ষেপ নিতে হবে সে বিষয়ে দুই পক্ষ অনেকটাই একমত। মতভেদ রয়েছে পদক্ষেপগুলোর ক্রম নিয়ে।
হরমুজ ও ইয়েমেন: তেহরানের দুই দাবি
ইরান এমন একটি চূড়ান্ত চুক্তি চায়, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। এক বিশ্লেষকের মতে, এটি যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক চলাচলে ফেরার প্রস্তাব নয়। ইরান ও ওমানের অনুমোদননির্ভর ব্যবস্থা চালু হলে আন্তর্জাতিক জলপথটি নিয়ন্ত্রিত করিডরে পরিণত হতে পারে বলে তাঁর আশঙ্কা।
ওই লেখকের ভাষ্য, ইরান চীনের সমর্থন চাইছে এবং ওমানের সমর্থন নিশ্চিত করছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সমঝোতায় পৌঁছাতে চায় তেহরান, কারণ জ্বালানির দাম বাড়ায় মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে।
দ্বিতীয় দাবিটি ইয়েমেনকে ঘিরে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ইয়েমেনবিষয়ক মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইয়েমেনে যুদ্ধ বন্ধ করাও তেহরানের দাবির অংশ। আরাগচির আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনায় এটি আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
প্রণালিতে এখন কী অবস্থা
কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। তবে অপরিশোধিত তেল, পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত।
২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার প্রণালিতে দুটি জাহাজে আবার হামলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার জানিয়েছে, জাহাজ দুটিতে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!









