সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর এ সিদ্ধান্ত এসেছে। ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এক নজরে
- পদত্যাগপত্র যাবে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে।
- ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত হয়েছে এবং কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
- মিষ্টি হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
[ছবি ১: ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির ফাইল ছবি। Alt: ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি]
পদত্যাগের নির্দেশ কখন, কীভাবে এল
দলীয় ও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র অনুযায়ী, নির্দেশনাটি দেওয়া হয় ৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার রাতে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও মিষ্টিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন ১ অক্টোবর দুপুরে ফেসবুকে লেখেন, বিএনপি কোনো অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় না এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়।
২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাড্ডায় কী ঘটেছিল
২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। পরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। সেখান থেকেই মিষ্টির পদত্যাগের সম্ভাবনার কথা আলোচনায় আসে।
[ছবি ২: রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ভাঙচুরের পরের ছবি। Alt: রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর ও ধ্বংসস্তূপ, মিরপুর-১]
তদন্তে কী উঠে এল
৩০ সেপ্টেম্বর, বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে ছাড় দেওয়া হবে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী দুই দিন ধরে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। হামলায় কারা জড়িত, তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় কী এবং নেপথ্যে কারা ছিলেন, এসব বিষয়ে তিনি খোঁজ নিয়েছেন।
সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তদন্তে ফেরদৌসী আহমেদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়া এবং উত্তর যুবদলের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার ভূমিকার তথ্য মিলেছে। তাঁদের বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট ও জমি দখলের অভিযোগে দলের নেতা-কর্মীদের নাম আসায় সরকার বিব্রত।
‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি’ কেন আলোচনায়
রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর আলোচনায় আসে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’। অনুসন্ধানের তথ্য অনুযায়ী, এই সমিতির কার্যক্রমে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন যুক্ত।
২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ফেরদৌসী আহমেদ ছিলেন ওই সমিতির সভাপতি। রাড্ডা সেন্টারের জায়গা সমিতির নামে বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে তিনি সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিতে সাংগঠনিক পদক্ষেপ
৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। দল ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপের মধ্যে ১৪ জনকে বহিষ্কারের খবরও এসেছে।
মিষ্টির অবস্থান ও আগের অভিযোগ
রাড্ডা কেন্দ্রে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ মিষ্টি অস্বীকার করেছেন।
ওয়ার্ড কাউন্সিলর থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগ ছিল বলে জানা যায়। এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এখনো জানা যায়নি।
পদত্যাগপত্র কবে জমা, আসন শূন্য হবে কীভাবে
একটি সূত্র বলছে, মিষ্টি যেকোনো সময় স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। আরেকটি সূত্রের তথ্য, তিনি আগামী রোববার (৪ অক্টোবর) সকালে তা জমা দেবেন। তবে সুনির্দিষ্ট সময় নিয়ে এখনো কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।
সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। স্পিকার পত্রটি হাতে পাওয়ার সময় থেকেই ওই সদস্যের আসন শূন্য হয়। এরপর সংসদ সচিবালয় গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানায়।
এরপর কী হতে পারে
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, পদত্যাগের পর দলীয়ভাবেও এই সংসদ সদস্যের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বিএনপি ও সরকারের সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাড্ডার ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে আছে এবং তদন্তে যার নামই আসুক, শক্ত ব্যবস্থার পক্ষে।
পদত্যাগপত্র জমা পড়ার দিন ও দলীয় সিদ্ধান্তের পরবর্তী ধাপের দিকেই এখন নজর।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!









