রেডমি নোট ১৭ রিভিউ: ৭৭০০ mAh ব্যাটারির বাজেট ফোন কতটা ভালো?

সেপ্টেম্বর 10, 2026 2:00 অপরাহ্ন
রেডমি নোট ১৭ স্মার্টফোনের ফ্রন্ট ও ব্যাক প্যানেল ডিজাইন রিভিউ

সাড়ে সাত হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারি নিয়ে ৩৩ হাজার টাকার নিচে ফোন — বাজেট সেগমেন্টে এই সংখ্যাটা সচরাচর চোখে পড়ে না। এই দামের ফোনে সাধারণত হয় ব্যাটারি ভালো তো ডিসপ্লে দুর্বল, না হয় প্রসেসর মোটামুটি তো ক্যামেরা বেসিক লেভেলের। রেডমি নোট ১৭-এর স্পেসিফিকেশন ঘেঁটে দেখার পর মনে হয়েছে, ব্যাটারির দিক থেকে এই ফোনটা এই সেগমেন্টে কিছুটা আলাদাভাবে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের বাজারে একই সিরিজের আরও দুইটা মডেলের সাথে তুলনা করেই এই রিভিউটা সাজানো হয়েছে।

সংক্ষেপে: রেডমি নোট ১৭ তাদের জন্য যারা সারাদিন চার্জ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে চান না। মূল শক্তি — ৭৭০০ mAh সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি, ১২০Hz অ্যামোলেড ডিসপ্লে আর IP65 রেটিং। দুর্বল দিক — নেটওয়ার্ক শুধু ফোরজি, আর ভিডিও রেকর্ডিং সীমাবদ্ধ ফুল এইচডিতে। দাম শুরু ৩২,৯৯৯ টাকা থেকে (৬/১২৮ জিবি)।

বাজেট ফোন কিনতে গিয়ে সবচেয়ে বড় দ্বিধাটা হয় এক জায়গায় — টাকাটা কোথায় সবচেয়ে বেশি কাজে লাগবে, সেটা বোঝা। কেউ ভাবেন ব্যাটারি বড় মানেই ফোন ভারী হয়ে যাবে, কেউ আবার ভাবেন প্রসেসর দুর্বল হলে দৈনন্দিন কাজেও হ্যাং করবে। এই সেগমেন্টের ক্রেতাদের একটা বড় অংশ প্রথমবার স্মার্টফোন আপগ্রেড করছেন, তাই স্পেসিফিকেশনের সংখ্যাগুলো দেখে বিভ্রান্ত হওয়াটা স্বাভাবিক।

কিছু সাধারণ প্রশ্ন যা এই বাজেটে ফোন খুঁজতে গিয়ে বেশিরভাগ মানুষের মাথায় ঘোরে:

  • ৫জি না থাকলে কি ভবিষ্যতে সমস্যা হবে?
  • বড় ব্যাটারি মানেই কি ফোনটা বেশি গরম হবে?
  • র‍্যাম ৬ জিবি না ৮ জিবি — কোনটা নিলে টাকাটা সঠিক জায়গায় যাবে?
  • প্লাস্টিক বডি হলে কি ফোনটা সস্তা মনে হবে হাতে নিলে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর নিচের অংশে ধাপে ধাপে দেওয়া হয়েছে।

Table of Contents

এক নজরে রেডমি নোট ১৭-এর স্পেসিফিকেশন

ফিচারস্পেসিফিকেশন
ডিসপ্লে৬.৯৯” AMOLED, FHD+ (1080×2396), ১২০Hz, ১৮০০ নিট পিক ব্রাইটনেস
প্রসেসরস্ন্যাপড্রাগন ৬এস ফোরজি জেন ২ (৬nm), Adreno 610 GPU
র‍্যাম/স্টোরেজ৬GB+128GB / ৮GB+256GB, LPDDR4X, UFS 2.2
ব্যাক ক্যামেরা৫০MP, f/1.8
ফ্রন্ট ক্যামেরা১৬MP, f/2.5
ব্যাটারি৭৭০০ mAh সিলিকন-কার্বন, ৪৫W ওয়্যারড চার্জিং
বিল্ডপ্লাস্টিক ব্যাক, Gorilla Glass 7i, IP65
OSAndroid 16, HyperOS 3
নেটওয়ার্ক৪জি অনলি
দাম৩২,৯৯৯ টাকা (৬/১২৮) / ৩৬,৯৯৯ টাকা (৮/২৫৬)
রেডমি নোট ১৭ এর ৫০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও বিল্ড কোয়ালিটি
দৈনন্দিন ব্যবহারে রেডমি নোট ১৭-এর স্লিম বিল্ড ও ৫০MP ক্যামেরা সেটআপ।

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি হাতে নিলে কেমন লাগে?

ফোনের ওজন ২২৪ গ্রাম, পুরুত্ব ৮.৪৫ মিলিমিটার। ব্যাক প্যানেল প্লাস্টিকের, তবে ডুয়াল-ফিনিশ ডিজাইনের কারণে হাতে নিলে সস্তা মনে হয় না।

সেলেস্টিয়াল পার্পল, স্কাই টিল আর ব্ল্যাক — এই তিনটা রঙে পাওয়া যাবে। সামনের গ্লাসে আছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ৭আই, যা মিড-রেঞ্জ ফোনের জন্য তৈরি হলেও ১ মিটার উচ্চতা থেকে পড়লেও টিকে থাকার মতো স্ক্র্যাচ-রেজিস্ট্যান্স দেয়।

IP65 রেটিং থাকায় ধুলো আর পানির ছিটা থেকে সুরক্ষা মেলে, আর Wet Touch Technology 2.0-এর কারণে ভেজা হাতেও টাচ কাজ করে। নির্মাতার ল্যাব তথ্য অনুযায়ী ফোনটা ২৮,০০০ বার মাইক্রো-ড্রপ টেস্ট পাস করেছে।

ডিসপ্লে ও মাল্টিমিডিয়া অভিজ্ঞতা

৬.৯৯ ইঞ্চির অ্যামোলেড প্যানেলে আছে ১০৮০x২৩৯৬ পিক্সেল রেজোলিউশন আর ৩৭৫ ppi পিক্সেল ডেনসিটি। রিফ্রেশ রেট ১২০Hz, পিক ব্রাইটনেস ১৮০০ নিট আর HBM ব্রাইটনেস ১২০০ নিট।

দিনের আলোয় বাইরে দাঁড়িয়ে স্ক্রিন দেখতে হলে এই ব্রাইটনেসটা কাজে লাগে। DCI-P3 কালার গ্যামাট থাকলেও রেজোলিউশন এই বাজেটে গড়পড়তা — প্রিমিয়াম টায়ারের 2K প্যানেলের সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না।

TÜV Rheinland-এর Low Blue Light আর Circadian Friendly সার্টিফিকেশন থাকায় দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখলে চোখে চাপ কিছুটা কম পড়ার কথা। অডিওতে আছে ২০০% ভলিউম বুস্ট ফিচার, ফলে ভিডিও বা মিউজিক প্লে করার সময় স্পিকার তুলনামূলক জোরালো শোনায়।

পারফরম্যান্স ও গেমিং টেস্ট: স্ন্যাপড্রাগন ৬এস ফোরজি জেন ২ দিয়ে কী করা যায়?

চিপসেটে আছে অক্টা-কোর প্রসেসর — ৪টা কোর ২.৯GHz কর্টেক্স-A73 আর ৪টা কোর ১.৯GHz কর্টেক্স-A53, সাথে অ্যাড্রেনো ৬১০ জিপিইউ। কোয়ালকমের টেকনিক্যাল ডকুমেন্টেশন অনুযায়ী এই চিপসেট আগের জেনারেশনের চেয়ে সিপিইউ পারফরম্যান্সে প্রায় ৫১% পর্যন্ত এগিয়ে, আর জিপিইউ প্রায় ২০% দ্রুত।

থার্ড-পার্টি বেঞ্চমার্ক ডেটাবেজে এই চিপসেটের AnTuTu স্কোর সোর্সভেদে ৪.৫ থেকে ৫ লাখের আশেপাশে দেখা গেছে — যা দৈনন্দিন ব্যবহার আর হালকা-মাঝারি গেমিংয়ের জন্য মোটামুটি স্বাভাবিক রেঞ্জ, তবে হাই-এন্ড গেমিং চিপসেটের তুলনায় বেশ পিছিয়ে।

হেভি গেম খেলার প্রায় ২০ মিনিট পর ফোনের পেছনের অংশে হালকা গরম অনুভূত হয় — এই দামের প্লাস্টিক-বডি ফোনগুলোতে এটা সাধারণ ব্যাপার। ৬ ও ৮ জিবি র‍্যামের দুটো ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যায়, LPDDR4X টাইপের, আর ৮ জিবি ভ্যারিয়েন্টে মেমোরি এক্সটেনশনের মাধ্যমে ১৬ জিবি পর্যন্ত ভার্চুয়াল র‍্যাম পাওয়া যায়।

GSMArena-র ফুল স্পেক ডেটাবেজ ঘেঁটে তুলনা করার পর এটা স্পষ্ট যে এই চিপসেট মূলত দৈনন্দিন ব্যবহার আর হালকা মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্যই বেশি উপযোগী, ভারী গেমারদের জন্য না।

রেডমি নোট ১৭-এর বাস্তব গেমিং, ক্যামেরা ও ব্যাটারি ড্রেন টেস্ট দেখে নিন

ক্যামেরা টেস্ট: দিনে-রাতে ছবি আর ভিডিওতে কেমন পারফরম্যান্স?

পেছনে সিঙ্গেল ৫০MP ক্যামেরা, অ্যাপারচার f/1.8, আর সামনে ১৬MP সেলফি ক্যামেরা, f/2.5। দিনের আলোয় ডিটেইল আর কালার মোটামুটি প্রাণবন্ত আসার কথা, কারণ এই রেজোলিউশনের সেন্সর সাধারণত এই দামে ভালো পারফর্ম করে।

স্পেক শিটে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশনের (OIS) উল্লেখ নেই। তার মানে কম আলোতে হাত সামান্য কাঁপলেও সেটা ছবিতে প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষত রাতের শটে বা বিল্ট-ইন নাইট মোডে লম্বা এক্সপোজার নেওয়ার সময়।

সিঙ্গেল ক্যামেরা সেটআপে পোর্ট্রেট মূলত সফটওয়্যার-ভিত্তিক ব্লার প্রসেসিং দিয়ে হয়। এজ ডিটেকশন সবসময় নিখুঁত নাও হতে পারে, চুলের মতো ফাইন ডিটেইলে এটা বেশি চোখে পড়ে।

ভিডিও রেকর্ডিং সর্বোচ্চ ফুল এইচডি — ১৯২০x১০৮০ পিক্সেল, ৩০fps-এ, 4K অপশন এই মডেলে নেই। তবে ফ্রন্ট ও ব্যাক ক্যামেরায় একসাথে রেকর্ড করার Dual Video ফিচার আছে, যা এই দামে সচরাচর কম দেখা যায়।

ব্যাটারি ব্যাকআপ ও চার্জিং টাইম

রেডমি নোট ১৭ এর ৭৭০০ mAh সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি ও ৪৫ ওয়াট চার্জিং
৭৭০০ mAh বিশাল ব্যাটারি ও ৪৫ ওয়াট ফাস্ট চার্জিং সুবিধা নিয়ে এসেছে রেডমি নোট ১৭।

৭৭০০ mAh ক্যাপাসিটির সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি এই ফোনের মূল আকর্ষণ। মাঝারি ব্যবহারে (কল, সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও স্ট্রিমিং মিলিয়ে) স্ক্রিন-অন-টাইম সাধারণত ৭-৯ ঘণ্টার আশেপাশে থাকার কথা, যদিও নেটওয়ার্ক আর ব্রাইটনেস সেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে এটা কমবেশি হবে।

চার্জিং স্পিড ৪৫ ওয়াট — এই ক্যাপাসিটির ব্যাটারি পূর্ণ চার্জ হতে মোটামুটি ৫০-৬৫ মিনিট লাগার কথা। বক্সে চার্জার আছে কিনা তা রিটেইলার বা রিজিয়নভেদে ভিন্ন হতে পারে, তাই কেনার আগে দোকানে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভালো।

২২.৫ ওয়াট রিভার্স ওয়্যারড চার্জিং সাপোর্ট থাকায় প্রয়োজনে অন্য ছোট ডিভাইস চার্জ করা যাবে। দীর্ঘমেয়াদে ১,৬০০ চার্জ সাইকেলের পরও ৮০% ব্যাটারি হেলথ ধরে রাখার দাবি করা হয়েছে, যা প্রতিদিন একবার চার্জ দিলে প্রায় ৪-৫ বছরের সমতুল্য ব্যবহার।

সফটওয়্যার, UI অভিজ্ঞতা আর আপডেট সাপোর্ট

অ্যান্ড্রয়েড ১৬-এর ওপর HyperOS 3 চলছে। শাওমির আগের MIUI ভার্সনগুলোতে প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ আর নোটিফিকেশন বিজ্ঞাপনের অভিযোগ ছিল, HyperOS-এ এটা কমানোর দাবি করা হলেও পুরোপুরি বিজ্ঞাপনমুক্ত হবে এমন গ্যারান্টি নেই। ইনস্টলের পর সেটিংস থেকে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন পারমিশন বন্ধ করে নিলে এই বিরক্তি অনেকটা কমে আসে।

৬ বছরের সিকিউরিটি আপডেট আর ৪৮ মাসের “লাইক-নিউ” সফটওয়্যার এক্সপেরিয়েন্সের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই দামের ফোনে সাধারণত ২-৩ বছরের বেশি আপডেট সাপোর্ট পাওয়া যায় না, তাই এই প্রতিশ্রুতি তুলনামূলক ভালো একটা দিক।

UI নেভিগেশন যেকোনো অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর জন্য সহজবোধ্য, নতুন করে শিখতে হবে এমন কিছু নেই। HyperIsland ফিচারের মাধ্যমে দ্রুত ইনফো চেক আর উইজেট অ্যাক্সেসও পাওয়া যায়, আর AI Creativity Assistant দিয়ে ছবি এডিটিংয়ের কিছু কাজ সহজ হয়।

বক্সের ভেতর কী কী পাবেন?

রিজিয়ন ও রিটেইলারভেদে বক্স কন্টেন্ট কিছুটা ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণত এই ধরনের ফোনের সাথে থাকে:

  • হ্যান্ডসেট
  • USB Type-C ক্যাবল
  • সিম ইজেক্টর টুল
  • প্রাথমিক ইউজার গাইড ও ওয়ারেন্টি কার্ড

৪৫W চার্জার অ্যাডাপ্টার বক্সে দেওয়া হচ্ছে কিনা, তা স্থানীয় শোরুম থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো — অনেক ব্র্যান্ড এখন পরিবেশগত কারণ দেখিয়ে অ্যাডাপ্টার আলাদা বিক্রি করছে।

একই বাজেটের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সাথে তুলনা

স্পেকরেডমি নোট ১৭৩৩,০০০ টাকা সেগমেন্টের সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী
ব্যাটারি৭৭০০ mAhসাধারণত ৫,০০০-৬,০০০ mAh
চার্জিং৪৫Wসাধারণত ৩৩W-৪৫W
ডিসপ্লে৬.৯৯” AMOLED, ১২০HzAMOLED/IPS, ৯০-১২০Hz
নেটওয়ার্ক৪জি অনলিবেশিরভাগে ৫জি সাপোর্ট থাকে
বিল্ড প্রোটেকশনGorilla Glass 7i, IP65মডেলভেদে ভিন্ন
ভিডিও রেকর্ডিংসর্বোচ্চ ১০৮০pকিছু মডেলে 4K সাপোর্ট

এই তুলনায় স্পষ্ট যে রেডমি নোট ১৭ ব্যাটারি ও ডিসপ্লেতে এগিয়ে, কিন্তু ৫জি আর ভিডিও ক্যাপাবিলিটিতে পিছিয়ে। চিপসেট ও ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজের তুলনা করতে চাইলে দেখে নিতে পারেন স্যামসাং গ্যালাক্সি A57 5G-এর দাম ও রিভিউ অথবা ইনফিনিক্স নোট ৬০ প্রো রিভিউ

দেশের বাজারে এই সিরিজের সাথে প্রথমবারের মতো ২ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা আর ১ বছরের স্ক্রিন প্রোটেকশন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, সাথে ১২ মাসের বিনা সুদে কিস্তি আর সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক অফার — এমনটা প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে। এই ধরনের বিক্রয়োত্তর সুবিধা বাজেট সেগমেন্টে সচরাচর কম পাওয়া যায়।

সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা

ভালো দিক:

  • ৭৭০০ mAh বিশাল ব্যাটারি, ৪৫W চার্জিং
  • ১২০Hz AMOLED ডিসপ্লে, ১৮০০ নিট ব্রাইটনেস
  • IP65 রেটিং ও Gorilla Glass 7i সুরক্ষা
  • ৬ বছরের সিকিউরিটি আপডেট প্রতিশ্রুতি
  • প্রথমবারের মতো ২ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা (বাংলাদেশে)

দুর্বল দিক:

  • ৫জি সাপোর্ট নেই
  • 4K ভিডিও রেকর্ডিং নেই
  • ক্যামেরায় OIS নেই
  • ব্যাক প্যানেল প্লাস্টিকের

রেডমি নোট ১৭ কিনতে গিয়ে যেসব ভুল এড়ানো উচিত

ব্র্যান্ড নাম দেখে কেনার প্রবণতাটা এই সেগমেন্টে সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। অনেকে স্পেক শিট না পড়েই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, অথচ একই দামে ভিন্ন ব্র্যান্ডের অন্য মডেল প্রয়োজনের সাথে বেশি মানানসই হতে পারত।

স্পেক শিট পড়েও সংখ্যার আসল অর্থ না বোঝার সমস্যাও কম না। “৭৭০০ mAh ব্যাটারি” দেখেই খুশি হয়ে যাওয়া, কিন্তু “নেটওয়ার্ক ৪জি অনলি” লাইনটা চোখ এড়িয়ে যাওয়া — এমনটা হলে পরে গিয়ে হতাশ হতে হয়।

আফটার-সেলস সার্ভিস আর ওয়ারেন্টি ইগনোর করাটা একটা ব্যয়বহুল ভুল হতে পারে। ফোন কেনার সময় দাম আর স্পেক নিয়ে যতটা সময় দেওয়া হয়, ওয়ারেন্টি পলিসি বা সার্ভিস সেন্টারের অবস্থান নিয়ে ততটা সময় দেওয়া হয় না — স্ক্রিন ভেঙে গেলে তখনই বোঝা যায় এই তথ্য আগে জেনে রাখা কতটা জরুরি ছিল।

সফটওয়্যার আপডেট সাপোর্টের মেয়াদ না দেখাটাও সাধারণ একটা ভুল। ফোন হার্ডওয়্যারের দিক থেকে ২-৩ বছর ভালো চললেও, সিকিউরিটি আপডেট বন্ধ হয়ে গেলে সেটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে — বিশেষ করে যারা মোবাইল ব্যাংকিং বেশি ব্যবহার করেন। রেডমি নোট ১৭ এই বাজেটে ভালো ভ্যালু দেয় বলা যায়, তবে এটাকে “সেরা ফোন” বলাটা বাস্তবসম্মত হবে না — প্রতিটা ইউজারের চাহিদা আলাদা।

রেডমি নোট ১৭ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

রেডমি নোট ১৭-এর দাম কত?

বাংলাদেশে ৬GB+128GB ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩২,৯৯৯ টাকা, আর ৮GB+256GB ভ্যারিয়েন্টের দাম ৩৬,৯৯৯ টাকা। শোরুম বা অফার অনুযায়ী দামে সামান্য তারতম্য হতে পারে।

এই ফোনে হেভি গেম স্মুথ চলে?

মাঝারি গ্রাফিক্স সেটিংসে বেশিরভাগ গেম ঠিকঠাক চলার কথা, তবে হাই-এন্ড গেমে হাই সেটিংস স্মুথ নাও চলতে পারে। স্ন্যাপড্রাগন ৬এস ফোরজি জেন ২ মূলত দৈনন্দিন ব্যবহার আর হালকা-মাঝারি গেমিংয়ের জন্য বেশি উপযোগী।

রেডমি নোট ১৭ কি ৫জি সাপোর্ট করে?

না, এই মডেল ফোরজি-অনলি। ৫জি দরকার হলে একই সিরিজের ৫জি ভ্যারিয়েন্ট বা অন্য কোনো মডেল বেছে নেওয়া ভালো।

ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে কত সময় লাগে?

৪৫ ওয়াট চার্জিং দিয়ে সাধারণত ৫০-৬৫ মিনিটের মধ্যে পূর্ণ চার্জ হওয়ার কথা। এই সময় চার্জারের মান আর ব্যাটারির অবস্থার ওপর কিছুটা নির্ভর করে।

রাতের ছবি কি ভালো আসে?

দিনের তুলনায় রাতের ছবিতে ডিটেইল কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা থাকে, কারণ OIS নেই। এই দামের সিঙ্গেল-ক্যামেরা ফোনে প্রিমিয়াম-লেভেল লো-লাইট পারফরম্যান্স আশা করাটা বাস্তবসম্মত না।

রেডমি নোট ১৭ বনাম কাছাকাছি বাজেটের অন্য মডেল — কোনটা নেওয়া উচিত?

ব্যাটারি ব্যাকআপ অগ্রাধিকার হলে রেডমি নোট ১৭ এগিয়ে থাকবে। ৫জি বা ভালো ভিডিও ক্যামেরা প্রয়োজন হলে ভিভো V70 FE-এর রিভিউ দেখে তুলনা করে নেওয়া ভালো।

কাদের জন্য রেডমি নোট ১৭ ভালো পছন্দ

যারা মূলত কল, সোশ্যাল মিডিয়া, ভিডিও দেখা আর হালকা গেমিংয়ের মধ্যে দৈনন্দিন ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখেন, তাদের জন্য এই স্পেসিফিকেশন যথেষ্ট মনে হওয়ার কথা। হেভি গেমিং, প্রফেশনাল ভিডিও কনটেন্ট বা ৫জি নেটওয়ার্ক নিয়ে নির্দিষ্ট চাহিদা থাকলে অন্য কোনো মডেল খোঁজা বেশি যুক্তিসঙ্গত হবে।

একই ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম লাইনআপ দেখতে চাইলে শাওমি ১৭ প্রো ম্যাক্স টাইটানিয়াম এডিশন রিভিউ অথবা মিড-প্রিমিয়াম সেগমেন্টে ভিভো X300 আল্ট্রা গ্লোবাল রিভিউ ঘুরে আসতে পারেন। কাছাকাছি বাজেটে আরেকটা অপশন হিসেবে শাওমি ১৭টি প্রো-এর দাম ও স্পেকও দেখে নেওয়া যেতে পারে।

স্পেসিফিকেশন আর বাজারের কয়েকটা বিকল্প ঘেঁটে দেখার পর মনে হয়েছে, এই ফোন এমন একজনের জন্য বেশি মানানসই যিনি ফিচার-ভারী ফ্ল্যাগশিপ খোঁজেন না, বরং নির্ভরযোগ্য দৈনন্দিন সঙ্গী চান। ব্যাটারি ব্যাকআপ যদি প্রধান চাহিদা হয়, তাহলে এই তালিকায় ফোনটাকে রাখা যেতেই পারে।

আমি নিজে একজন সাধারণ টেক-আগ্রহী মানুষ, কোনো ব্র্যান্ডের অফিসিয়াল প্রতিনিধি না — তাই দাম, অফার আর স্পেসিফিকেশনের বিস্তারিত তথ্য কেনার ঠিক আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা কাছের শোরুম থেকে একবার মিলিয়ে নেওয়াই ভালো, যেহেতু এসব তথ্য সময়ের সাথে বদলে যেতে পারে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন! 

Juger Alo

তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী Juger Alo টিম। পাঠকদের কাছে দ্রুত সঠিক খবর, চাকরি ও ক্যারিয়ারের আপডেট এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now