রাত সাড়ে ১১টায় একটা হেডলাইন দেখে আমার ঘুম উড়ে গিয়েছিল
রাত সাড়ে ১১টা। বিছানায় শুয়ে ফোনে স্ক্রল করছি। হঠাৎ একটা লাইনে চোখ আটকে গেল: মাসে ১৫টা ভিডিও দিলেই ৪ লাখ টাকা! আমি উঠে বসলাম, কারণ গত তিন মাসে আমার অনলাইন আয় বলতে ছিল কয়েকটা ছোট কাজ।
বন্ধু রনিকে মেসেজ দিলাম, “এটা সত্যি হলে তো জীবন বদলে যাবে।” ও লিখল, “আগে পুরোটা পড়, আমন্ত্রণ লাগে কি না দেখ।” পুরোটা পড়ে বুঝলাম, হেডলাইন আর ভেতরের নিয়মে বেশ ফারাক আছে। সেই রাতেই কাগজ-কলম নিয়ে হিসাব করতে বসলাম, আর আজ সেই হিসাবটাই আপনাকে খুলে বলছি।
সংক্ষেপে উত্তর: এক্সের (সাবেক টুইটার) ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস একটি আমন্ত্রণভিত্তিক কর্মসূচি।
নির্বাচিত ক্রিয়েটররা ৩০ দিনের মধ্যে অন্তত ১৫টি আলাদা দিনে ৩ মিনিটের কম দৈর্ঘ্যের নিজের বানানো ভার্টিক্যাল ভিডিও দিলে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার (প্রায় ৪ লাখ টাকা) পর্যন্ত বোনাস পেতে পারেন।
ভিউ বা ভাইরাল হওয়া এখানে সরাসরি শর্ত নয়। তবে আমন্ত্রণ ছাড়া অংশ নেওয়া যায় না, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এক্স কর্তৃপক্ষের হাতে।
যাঁরা এই খবর দেখে অস্থির হয়ে পড়েন
এমন খবর এলে মনের ভেতরে দুটো কণ্ঠ একসঙ্গে কথা বলে। একটা বলে, “এই সুযোগ হাতছাড়া করা যাবে না।” আরেকটা বলে, “আমার তো আমন্ত্রণই আসেনি, তাহলে লাভ কী?”
আমি এমন রাত নিজে কাটিয়েছি। ক্রিয়েটর স্টুডিও খুলে দেখেছি কোথাও কিছু নেই, আর বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে গেছে। ঠিক তখনই ফেসবুকে কেউ স্ক্রিনশট দিয়ে লিখেছেন, “আমি পেয়েছি।”
সেটা দেখে নিজের ওপর সন্দেহ জাগে। মনে হয়, আমিই কি কম যোগ্য? অথচ এক্স কীভাবে ক্রিয়েটর বাছাই করে, তার কোনো প্রকাশ্য তালিকা নেই। আমন্ত্রণ না আসা আপনার ঘাটতি নয়।
আরেকটা চাপ আসে সময় নিয়ে। অফিস বা পড়ালেখার পর হাতে থাকে সামান্য সময়। সেই সময়ে ১৫ দিনের ভিডিও বানানোর কথা ভাবলেই ক্লান্তি লাগে। ঘুম কমে যায়, মনোযোগ ছড়িয়ে পড়ে।
এই লেখার উদ্দেশ্য আপনাকে অকারণ আশা দেওয়া নয়। আমি চাই পরিষ্কার হিসাব দিতে, যাতে আপনার সময় আর মানসিক শান্তি দুটোই বাঁচে।
এক্সের ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস কী এবং কারা এটি পাচ্ছেন?
ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস এক্সের একটি পাইলট কর্মসূচি। এখানে নির্বাচিত ক্রিয়েটররা নিজের বানানো ভার্টিক্যাল ভিডিও নিয়মিত পোস্ট করলে বোনাস পান। এক্সে অ্যাকাউন্ট থাকলেই সবাই এতে ঢুকতে পারেন না, আমন্ত্রণ লাগে।
শর্তগুলো এক নজরে
- পোস্টিং দিন: ৩০ দিনের সময়কালে অন্তত ১৫টি আলাদা দিনে ১টি করে ভিডিও।
- ফরম্যাট: ভার্টিক্যাল বা খাড়া ভিডিও (৯:১৬ অনুপাত)।
- দৈর্ঘ্য: প্রতিটি ভিডিও ৩ মিনিটের কম।
- মৌলিকতা: ভিডিও আপনার নিজের বানানো হতে হবে। অন্য প্ল্যাটফর্মে আগে দেওয়া ভিডিওর নিয়ম নিচে আলাদা অংশে বলেছি।
- ভিউ: বোনাসের জন্য ভাইরাল হওয়া বা নির্দিষ্ট ভিউ পাওয়া সরাসরি শর্ত নয়।
- ভিডিও থাকতে হবে: সময়কাল শেষ হওয়ার আগে ভিডিও মুছলে সেটি গণনা থেকে বাদ পড়ে।
- এক্সের হাতে সিদ্ধান্ত: চূড়ান্ত যাচাই এক্স করে, আর কর্মসূচি বদলাতে বা বন্ধ করার অধিকারও তাদের।
Pro Tip: আমি এই তালিকা প্রিন্ট করে ডেস্কের পাশে সেঁটে রেখেছিলাম। প্রতি রাতে পোস্টের আগে ৩০ সেকেন্ডে চোখ বুলিয়ে নিলে ছোটখাটো ভুল প্রায় হয়ই না।
আমন্ত্রণ এসেছে কি না, কীভাবে বুঝব?
আমন্ত্রণ এসে থাকলে সেটা এক্সের ক্রিয়েটর স্টুডিওতেই দেখা যাবে। বাইরের কোনো মেসেজ বা লিংকে ক্লিক করার দরকার নেই। যাচাইয়ের ধাপগুলো এমন:
- এক্স অ্যাপ খুলে Creator Studio অপশনে যান।
- সেখানে Programs অংশটি দেখুন।
- তালিকায় Video Kickstart Bonus থাকলে সেটি ট্যাপ করুন।
- ভেতরে দেখতে পাবেন ১৫ দিনের মধ্যে কত দিন পোস্ট হয়েছে, কত দিন বাকি, কোন ভিডিও গণনায় ধরা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বোনাস কত।
প্রতিটি সময়কালের এনরোলমেন্টের একটা শেষ তারিখ থাকে। নিজের তারিখ আর পূর্ণ শর্ত এক্সের অফিসিয়াল হেল্প পেজে দেখে নিন। আমন্ত্রণ পাঠায় এক্স নিজেই, তাই আমন্ত্রণ পাইয়ে দেওয়ার নামে কেউ টাকা চাইলে সেখান থেকে সরে আসুন।
ক্রিয়েটর স্টুডিওতে প্রোগ্রাম অপশন কোথায় আছে, ভিডিওতে দেখে নিন।
Pro Tip: আমি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন ড্যাশবোর্ড খুলে দেখি। আমন্ত্রণ আসার জন্য আলাদা ইমেইল আসবে, এমনটা ধরে বসে থাকা ঠিক নয়।
৩০ দিনে ১৫ আলাদা দিনের হিসাব কীভাবে মেলাবেন?
হিসাব সহজ: ৩০ দিনের মধ্যে যেকোনো ১৫টি দিনে অন্তত একটি যোগ্য ভিডিও পোস্ট করলেই চলে। দিনগুলো টানা না হলেও সমস্যা নেই। কিন্তু একদিনে ১৫টা ভিডিও দিলে সেটা ১ দিনই গোনা হবে।
তিনটি বাস্তব পরিকল্পনা
- প্ল্যান ক: একদিন পরপর। প্রতি দুই দিনে একটা ভিডিও দিলে ৩০ দিনে ঠিক ১৫ দিন হয়।
- প্ল্যান খ: কর্মদিবসভিত্তিক। সপ্তাহে ৫ দিন করে ৩ সপ্তাহ পোস্ট করলেও ১৫ দিন পূর্ণ হয়। বাকি ৯ দিন বিশ্রাম বা ব্যাকআপের জন্য থাকে।
- প্ল্যান গ: ভাগ করে। আগে ৫ দিন, মাঝে বিরতি, তারপর বাকি ১০ দিন। যাঁদের মাঝে ভ্রমণ বা পরীক্ষা আছে, তাঁদের জন্য এটা সুবিধার।
ধরুন, আপনি দিনে ৮ ঘণ্টা অফিস করেন আর শুক্র-শনি ছুটি। প্ল্যান খ নিলে সোম থেকে শুক্র রাত ৮টায় একটি করে ভিডিও যাবে। ছুটির দুই দিনে আপনি আগামী সপ্তাহের ভিডিও বানিয়ে ফেলবেন।
Pro Tip: আমার পছন্দ প্ল্যান খ। কোনো দিন ফসকে গেলে ছুটির দিনে বানানো ব্যাকআপ ভিডিও দিয়ে ঘাটতি মিটে যায়।
বাংলাদেশ থেকে পোস্ট করলে দিন গণনা হবে কোন সময় ধরে?
দিন গোনা হয় প্যাসিফিক টাইম (আমেরিকার পশ্চিম উপকূলের সময়) অনুযায়ী। বাংলাদেশের সঙ্গে সেই সময়ের ব্যবধান মৌসুম অনুযায়ী ১৩ বা ১৪ ঘণ্টা। তাই আমাদের দুপুর ১টা থেকে ২টার আশপাশে তাদের তারিখ বদলে যায়।
এর ফল মজার। বাংলাদেশ সময়ে একই তারিখের সকাল ১০টা আর বিকেল ৪টায় দুটি ভিডিও দিলে সেগুলো আলাদা দুই দিন হিসেবে ধরা পড়তে পারে। উল্টোটাও হতে পারে।
- প্রতিদিন একই নির্দিষ্ট সময়ে পোস্ট করুন, যেমন রাত ৮টা।
- দুপুর ১টা থেকে ২টার মাঝামাঝি পোস্ট এড়িয়ে চলুন।
- প্রতিবার পোস্টের পর ক্রিয়েটর স্টুডিওর কাউন্টার মিলিয়ে দেখুন।
ব্যস্ত মানুষ প্রতিদিনের ভিডিও বানাবেন কীভাবে?
সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হলো ব্যাচ রেকর্ডিং, মানে একদিনে অনেকগুলো ভিডিও রেকর্ড করে রাখা। প্রতিদিন নতুন করে আলো আর ক্যামেরা ঠিক করার ঝামেলা তাহলে থাকে না। কাজের ফাঁকে ভিডিও বানাতে হলে এটাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।
আমার ৩ ধাপের ব্যাচ পদ্ধতি
- রবিবার সন্ধ্যায় ২ ঘণ্টা সময় নিন। একটানা ৬-৭টা ক্লিপ রেকর্ড করুন, প্রতিটি ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের।
- প্রতিটি ভিডিওর কাঠামো ঠিক করুন। প্রথম বাক্যে প্রশ্ন বা সমস্যা, মাঝখানে ২-৩টি পয়েন্ট, শেষে একটি ছোট কাজের পরামর্শ।
- পরদিন রাতে ১০ মিনিটে ক্যাপশন ও কাটছাঁট সেরে নিন। তারপর প্রতিদিনের জন্য একটি করে ফাইল সাজিয়ে রাখুন।
১৫টি দিনের জন্য ১৫টি বিষয় কোথায় পাবেন?
নিজের কাজের মধ্য থেকেই বিষয় বেছে নিন। ফ্রিল্যান্সার হলে ক্লায়েন্টের প্রথম মেসেজের উত্তর কীভাবে লিখবেন, ডিজাইন ফাইল এক্সপোর্টের তিনটি সাধারণ ভুল, বা এক ঘণ্টার কাজে সময় কীভাবে মাপবেন, এমন বিষয় সহজেই পাওয়া যায়। প্রতিটি ভিডিও একটি মাত্র সমস্যার সমাধান দিলে দর্শকের কাছে তা পরিষ্কার থাকে।
Pro Tip: আমি ফোনের নোটস অ্যাপে ২০টি প্রশ্ন লিখে রাখি, যেগুলো মানুষ আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করে। ১৫টি দরকার হলেও ৫টি বাড়তি থাকলে মন শান্ত থাকে।
আগে ফেসবুক বা ইউটিউবে দেওয়া ভিডিও কি আবার এক্সে দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ, ভিডিওটি আপনার নিজের বানানো হলে এবং তাতে অন্য প্ল্যাটফর্মের ওয়াটারমার্ক বা লোগো না থাকলে দেওয়া যাবে। সমস্যা হয় সাধারণত ডাউনলোড করা কপি নিয়ে, কারণ সেখানে লোগো বসে যায়।
- ফোনের গ্যালারির আসল ভিডিও ফাইল ব্যবহার করুন।
- এডিটিং অ্যাপ থেকে লোগো ছাড়া এক্সপোর্ট করে নিন।
- আপলোডের আগে ভিডিওর চার কোণ একবার দেখে নিন।
- অন্যের বানানো ক্লিপ, ডাউনলোড করা রিল বা ট্রেন্ডিং ভিডিও ব্যবহার করবেন না।
কম খরচে ভালো ভিডিও বানানোর ঘরোয়া কৌশল
দামি যন্ত্রপাতি ছাড়াই ভার্টিক্যাল ভিডিও বেশ ভালো হয়। দরকার শুধু আলো, শব্দ আর স্থির ফ্রেম। নিচের কৌশলগুলোর জন্য আলাদা কিছু কিনতে হয় না।
- আলো: সকাল ৮টা থেকে ১০টার মধ্যে জানালার দিকে মুখ করে বসুন।
- স্ট্যান্ড: চার-পাঁচটা বই স্তূপ করে তার ওপর ফোন হেলান দিয়ে রাখুন।
- শব্দ: ফোনের সঙ্গে আসা ইয়ারফোনের মাইক মুখের কাছে রাখলে শব্দ অনেক পরিষ্কার আসে।
- ব্যাকগ্রাউন্ড: পেছনে খালি দেয়াল বা গোছানো বইয়ের তাক রাখুন।
- টাইমার: ক্যামেরার ১০ সেকেন্ডের টাইমার দিয়ে নিজেকে প্রস্তুত হতে সময় দিন।
- লেন্স: রেকর্ডের আগে নরম কাপড়ে লেন্স মুছে নিন। ঝাপসা ফ্রেমের সবচেয়ে সাধারণ কারণ এটাই।
Pro Tip: আমি আগে পুরোটা একটানা রেকর্ড করতাম। এখন ২০-২৫ সেকেন্ডের ছোট টুকরোয় রেকর্ড করে জুড়ে নিই, তাই ভুল হলে পুরোটা নতুন করে করতে হয় না।
কোন ধরনের ভিডিও আপনার জন্য সুবিধাজনক: তুলনা টেবিল
| ভিডিওর ধরন | বানাতে সময় (আনুমানিক) | কী লাগে | কাদের জন্য ভালো |
|---|---|---|---|
| ক্যামেরার সামনে সরাসরি কথা বলা | ১৫-২০ মিনিট | ফোন আর আলো | যাঁরা সহজে কথা বলতে পারেন |
| স্ক্রিন রেকর্ড করে কাজ দেখানো | ২০-৩০ মিনিট | ফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রিন রেকর্ডার | ডিজাইনার, ডেভেলপার, ডেটা এন্ট্রি কর্মী |
| আগের নিজের ভিডিও নতুন করে এক্সপোর্ট | ৫-১০ মিনিট | আসল ভিডিও ফাইল | যাঁদের আগে থেকেই ভিডিও আছে |
| নিজের তোলা ছবি ও লেখা দিয়ে স্লাইড-ভিডিও | ২৫-৪০ মিনিট | ছবি আর একটি এডিটিং অ্যাপ | যাঁরা ক্যামেরায় অস্বস্তি বোধ করেন |
সময়গুলো আমার নিজের হিসাবে আনুমানিক, প্রথম কয়েকটা ভিডিওতে বেশি লাগতে পারে। সবচেয়ে কম সময় নেওয়া ধরনটাকে ভিত্তি করে বাকিগুলো ব্যাকআপ রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।
শুরুর আগে চেকলিস্ট: ছোট ভুলে বড় ক্ষতি এড়াতে
- ক্রিয়েটর স্টুডিওতে প্রোগ্রাম তালিকা দেখেছি।
- ১৫টি বিষয়ের তালিকা আর ৫টি বাড়তি বিষয় লিখে রেখেছি।
- অসুস্থতা বা ভ্রমণের দিনের জন্য ২-৩টি ব্যাকআপ ভিডিও তৈরি।
- ইন্টারনেট ধীর হলে আগের রাতেই ভিডিও ফোনে সেভ করে রাখা হয়েছে।
- ফোনের স্টোরেজে অন্তত ২ জিবি জায়গা ফাঁকা আছে।
- আপলোডের আগে ভিডিওর ফরম্যাট (খাড়া) ও দৈর্ঘ্য (৩ মিনিটের কম) দেখে নিয়েছি।
- কাউন্টার ১৫ না হওয়া পর্যন্ত কোনো ভিডিও মুছব না।
- সময়কালের শেষ সপ্তাহে কাউন্টার আবার মিলিয়ে দেখব।
৩০ দিন পেরোলে হাতে কী থাকে? সংখ্যার হিসাবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

বোনাস আসুক বা না আসুক, এই ৩০ দিনে আপনি একটা পুরো কনটেন্ট সিস্টেম তৈরি করে ফেলেন। এই অংশে সংখ্যা ধরে ধরে সেই হিসাবটা দেখাচ্ছি।
সর্বোচ্চ বোনাসকে দিনের হিসাবে ভাঙলে কত হয়?
৩ হাজার ডলারকে ১৫ পোস্টিং দিনে ভাগ করলে প্রতি দিনে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য মূল্য আসে প্রায় ২০০ ডলার। টাকার হিসাবে এটা মোটামুটি ২৬ থেকে ২৭ হাজার টাকা, তবে ডলারের দর বদলায় বলে অঙ্কটা ওঠানামা করে। এটা সর্বোচ্চ সীমার হিসাব, কারও জন্য নিশ্চিত অঙ্ক নয়।
এই হিসাবের একটা কাজের দিক আছে। একটা ভিডিও বানাতে ৩০ মিনিট লাগলে ১৫ দিনে মোট লাগে সাড়ে ৭ ঘণ্টা। এই সময়ে অন্য কোনো কাজ করলে কত আয় হতো, সেটা পাশে লিখে তুলনা করে দেখুন।
১৫ দিন, ৩০ দিন আর একদিনে অনেক ভিডিও: কোনটা কাজের?
- ১৫ দিন পোস্ট: শর্ত পূরণ হয়, আর বাকি ১৫ দিন বিশ্রাম ও ব্যাকআপের জন্য থাকে।
- ৩০ দিন পোস্ট: পরিশ্রম দ্বিগুণ হয়, অথচ শর্ত পূরণে বাড়তি সুবিধা মেলে না।
- একদিনে ১০টা ভিডিও: সেটা ১ দিনই গোনা হয়, তাই হিসাবে লাভ নেই।
আমার পরামর্শ ১৭ থেকে ১৮ দিনের লক্ষ্য রাখা। বাড়তি ২-৩ দিন যেকোনো গোলমাল সামলে নেওয়ার বিমার মতো কাজ করে।
১৫টি ভিডিওকে সিরিজে সাজানোর কৌশল
১৫টি আলাদা ভিডিও বানানোর বদলে ৩টি সিরিজ করুন, প্রতিটিতে ৫টি পর্ব। যেমন “ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলার ৫টি পর্ব”, “কাজের ফাইল গোছানোর ৫টি পর্ব” আর “দাম ঠিক করার ৫টি পর্ব”। এতে বিষয় ভাবার চাপ কমে, দর্শকও পরের পর্বের জন্য ফিরে আসেন।
প্রতিটি ভিডিও ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের হলে ১৫টি ভিডিওর মোট ফুটেজ দাঁড়ায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এডিট করতে সময় কম লাগে, আর দর্শকও শেষ পর্যন্ত দেখেন।
Pro Tip: আমি প্রতিটি ভিডিওর প্রথম ৩ সেকেন্ডে সরাসরি সমস্যাটা বলে ফেলি। “ক্লায়েন্ট মেসেজ দেখে উত্তর দেয় না? এই এক লাইনটা পাঠান।” ঘুরিয়ে ভূমিকা করলে দর্শক স্ক্রল করে চলে যান।
নিজের হিসাবের শিট রাখুন
ক্রিয়েটর স্টুডিওর কাউন্টার ছাড়াও একটা সাধারণ খাতা বা শিটে পাঁচটা ঘর রাখুন: তারিখ, বাংলাদেশ সময়, বিষয়, ভিডিওর দৈর্ঘ্য আর কাউন্টারের অবস্থা। তিন সপ্তাহ পর এই শিট দেখলে বুঝবেন কোন বিষয়ে বেশি সাড়া এসেছে। পরের সময়কালে সেই ধরনের ভিডিও বেশি বানাতে পারবেন।
বোনাসের বাইরে কী কী পাবেন?
- নমুনা পোর্টফোলিও: ১৫টি ভিডিও আপনার কাজের ধরন বোঝানোর ছোট নমুনা হয়ে থাকে।
- নতুন বিষয়ের খোরাক: কমেন্টে যা জিজ্ঞেস করা হয়, সেটাই পরের ভিডিও বা ব্লগ লেখার বিষয় হয়ে যায়।
- গোছানো অভ্যাস: ব্যাচ রেকর্ডিং, নোটস আর ব্যাকআপের অভ্যাস অন্য কাজেও লাগে।
মানুষ যেসব ভুলে বোনাসের সুযোগ হারান
ভুলগুলোর বেশিরভাগই অসাবধানতা থেকে হয়, জানার অভাব থেকে কম। প্রতিটির সঙ্গে একটা বাস্তব দৃশ্য দিলাম, যাতে চিনে নিতে সুবিধা হয়।
“১৫ ভিডিও” শুনে রাতে একসঙ্গে সবগুলো আপলোড করা
রাত ১১টায় বসে কেউ ১৫টা ভিডিও একবারে দিয়ে দিলেন। পরদিন ক্রিয়েটর স্টুডিওতে দেখলেন কাউন্টার “১/১৫”। শর্ত ১৫টি আলাদা দিন, ১৫টি ভিডিও নয়।
মাঝপথে পুরনো ভিডিও মুছে ফেলা
ফোনের জায়গা বাঁচাতে বা ভিউ কম দেখে ভিডিও ডিলিট করলে সেটি গণনা থেকে বাদ পড়ে। ১৫ দিনের কাউন্টার তখন ১৩-তে নেমে যেতে পারে। সময়কাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই মুছবেন না।
শেষ সপ্তাহে সব ঠেলে দেওয়া
প্রথম ২০ দিনে ৬টা ভিডিও দিয়ে বাকি ৯টা শেষ ১০ দিনে দিতে গেলে চাপ বাড়ে। সেই চাপে মান পড়ে যায়, আর একটা দিন ফসকালেই হিসাব ভেঙে পড়ে। প্রথম সপ্তাহেই অন্তত ৪টি দিন পূরণ করে ফেলা নিরাপদ।
ফরম্যাট না দেখেই আপলোড করা
ব্যস্ততার দিনে কেউ ফোন আড়াআড়ি ধরে রেকর্ড করে ফেললেন। ভিডিওটা পর্দায় ছোট দেখায়, দু-পাশে কালো দাগ থাকে, আর সেটি ভার্টিক্যাল ফরম্যাটের শর্ত মানে না। রেকর্ডের আগে ফোন খাড়া ধরুন, আর আপলোডের আগে দৈর্ঘ্য ৩ মিনিটের কম কি না দেখে নিন।
ডলারের আয় নিয়ে আগে থেকে খোঁজ না নেওয়া
বোনাস এলে সেটা কীভাবে দেশে আনবেন আর তার কর বা রেকর্ডের নিয়ম কী, এসব আগে থেকে জেনে রাখা ভালো। বিদেশ থেকে আসা আয় নিয়ে সাধারণ দিকনির্দেশনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট আর কর-সংক্রান্ত তথ্যের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাইট দেখে নিতে পারেন।
বোনাস ধরে নিয়ে আগাম খরচ করা
কর্মসূচিটি এখনও পাইলট পর্যায়ে, আর শর্ত বদলাতে পারে বা তা শেষও হতে পারে। তাই ফোন কেনা, ঋণ নেওয়া বা মূল আয়ের কাজ ছেড়ে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত বোনাসের ওপর ভর করে নেবেন না। বোনাস এলে সেটাকে বাড়তি পাওনা হিসেবে ধরাই নিরাপদ।
পাঠকদের মনে সবচেয়ে বেশি ঘুরে বেড়ানো ৫টি প্রশ্ন
বাংলাদেশ থেকে কি এক্সের ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস পাওয়া যায়?
নির্দিষ্ট করে বলা যায় না, কারণ আমন্ত্রণ পাঠানো এক্সের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কোন দেশের ক্রিয়েটর বাছাই হচ্ছেন, তার প্রকাশ্য তালিকা নেই। আপনার ক্রিয়েটর স্টুডিওতে প্রোগ্রাম অপশন এলে সেটাই নিশ্চিত সংকেত।
ভিউ না এলেও কি বোনাস পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বোনাসের জন্য নির্দিষ্ট ভিউ বা ভাইরাল হওয়া সরাসরি শর্ত নয়। শর্ত হলো ভিডিওর ধরন ও পোস্টিং দিনের সংখ্যা। ভিউ কম হলে তাতে শর্ত ভাঙে না।
একই দিনে একাধিক ভিডিও দিলে কি বেশি হিসাব হয়?
না, একই দিনে যতগুলো ভিডিও দিন, সেটা ১ পোস্টিং দিন হিসেবেই গোনা হবে। বোনাসের জন্য ১৫টি আলাদা দিনে ভিডিও লাগে। তাই দিনে একটি করে ভিডিও দেওয়াই যথেষ্ট।
ভিডিও কত সেকেন্ডের হলে ভালো?
যেকোনো ভিডিও ৩ মিনিটের কম হলেই শর্ত পূরণ হয়। তবে ৪০ থেকে ৬০ সেকেন্ডের ভিডিও বানানো, এডিট করা আর দেখা, তিনটাই সহজ। শুরুতে এই দৈর্ঘ্য ধরে এগোনোই বাস্তবসম্মত।
৩ হাজার ডলার কি সবাই পাবেন?
না, ৩ হাজার ডলার সর্বোচ্চ সীমা, আর সব শর্ত পূরণ করলেও তা নিশ্চিত নয়। পরিমাণ ও চূড়ান্ত অনুমোদন এক্সের যাচাইয়ের ওপর নির্ভর করে। ক্রিয়েটর স্টুডিওর “সম্ভাব্য বোনাস” অংশে আপনার জন্য কত দেখানো হচ্ছে, সেটাই সঠিক সূত্র।
কাল সকাল থেকেই শুরু করুন: আপনার ৫ ধাপের অ্যাকশন প্ল্যান
আজ রাতে বা কাল সকালে এই পাঁচটা কাজ সেরে ফেললেই আপনি প্রস্তুত:
- ক্রিয়েটর স্টুডিও খুলে দেখুন: প্রোগ্রাম তালিকায় ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস আছে কি না। না থাকলে চাপ নেবেন না, কারণ আমন্ত্রণ আপনার হাতে নেই।
- ১৫টি বিষয় লিখে ফেলুন: আপনার কাজ বা অভিজ্ঞতা থেকে, প্রতিটি এক লাইনে। আরও ৫টি বাড়তি রাখুন।
- প্রথম ব্যাচ রেকর্ড করুন: ছুটির দিনে ২ ঘণ্টায় অন্তত ৬টি ভিডিও।
- একটি নির্দিষ্ট পোস্টিং সময় ঠিক করুন: দুপুর ১টা থেকে ২টা এড়িয়ে, যেমন রাত ৮টা।
- আপলোডের আগে ৩ জিনিস দেখুন: ভিডিও খাড়া কি না, ৩ মিনিটের কম কি না, আর কাউন্টার ঠিকমতো বাড়ছে কি না।
আমি এই কাজগুলো একবার গুছিয়ে নেওয়ার পর বুঝেছি, ভিডিও দেওয়ার চেয়ে নিয়মিত থাকাটাই কঠিন। কিন্তু প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসই আমাকে এগিয়ে রেখেছে, আপনাকেও রাখবে। বোনাস আসুক বা না আসুক, ৩০ দিন পরে আপনি আজকের চেয়ে অনেক বেশি গুছিয়ে থাকবেন।
একটা ছোট কথা বলে রাখি। আমি নিজে ফ্রিল্যান্সিং করা একজন মানুষ, সার্টিফায়েড ট্যাক্স, ইমিগ্রেশন বা ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজর নই। ডলারে আয় এলে তা দেশে আনা বা কর-হিসাব রাখা নিয়ে সন্দেহ থাকলে আপনার ব্যাংকের কর্মকর্তা বা স্থানীয় কর-পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলে নেবেন।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!









