ইউনিয়ন পর্যায়ের দোকানদারদের মাসে ৫০০ টাকা, উপজেলা পর্যায়ে ১ হাজার টাকা এবং জেলা সদর ও পৌর এলাকায় ২ হাজার টাকা নির্দিষ্ট হারে ভ্যাট আরোপের খসড়া প্রস্তাব তৈরি করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এনবিআর সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। প্রান্তিক অঞ্চলের ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে করজালের আওতায় আনতেই এই উদ্যোগ।
- ইউনিয়নে মাসিক ৫০০ টাকা, উপজেলায় ১ হাজার টাকা, জেলা সদর/পৌর এলাকায় ২ হাজার টাকা প্রস্তাবিত
- বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ভ্যাট পরিশোধের সুযোগ থাকবে
- প্রাথমিকভাবে সারা দেশের ৩ থেকে ৫ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এই করজালের আওতায় আসবে
প্রস্তাবিত ভ্যাটের হার একনজরে
এনবিআরের প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তিন স্তরে ভ্যাট নির্ধারণের চিন্তাভাবনা চলছে:
| এলাকা | প্রস্তাবিত মাসিক ভ্যাট | সম্ভাব্য বার্ষিক পরিমাণ |
|---|---|---|
| ইউনিয়ন/গ্রামীণ হাটবাজার | ৫০০ টাকা | ৬,০০০ টাকা |
| উপজেলা সদর ও সংশ্লিষ্ট বাজার | ১,০০০ টাকা | ১২,০০০ টাকা |
| জেলা সদর ও পৌর এলাকা | ২,০০০ টাকা | ২৪,০০০ টাকা |
কেন এই উদ্যোগ
বর্তমান নিয়মে বার্ষিক বিক্রি বা লেনদেন ৫০ লাখ টাকার বেশি হলেই কেবল ভ্যাট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, আর নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য হয়। এর নিচে লেনদেন হওয়া লাখ লাখ ছোট দোকান এখনো ভ্যাটের বাইরে থেকে যায়।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে, যার মধ্যে শুধু ভ্যাট খাত থেকেই লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা। এই লক্ষ্য পূরণে বড় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তৃণমূলের ব্যবসায়ীদেরও নিয়মের মধ্যে আনার কৌশল নিয়েছে সংস্থাটি।
মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু
পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এনবিআরের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপজেলার হাটবাজার ও বিপণিবিতানের তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছেন। দোকানের ধরন (মুদি, ফার্মেসি, কাপড় বা সেলুন) এবং শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) আছে কি না—এসব তথ্য যাচাই করে ডেটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ের কাজ শেষে এবার ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও একই ধরনের তথ্য সংগ্রহ চলছে।
একটি প্রাথমিক তালিকায় দেখা গেছে, ঠাকুরগাঁও সদরের নুর নাহার প্লাজায় ৫২টি দোকানের মধ্যে চারটিতে এসি রয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশনের বেতপট্টি বাজারে দোকানের সংখ্যা ১২১টি, আর কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী বাজারে ৫০টি দোকান তালিকাভুক্ত হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ শেষে স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান ভ্যাটের আওতায় আসবে তা চূড়ান্ত করা হবে।
দোকানিদের ভোগান্তি কমাতে ব্যাংকের পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে ভ্যাট জমা দেওয়ার সুযোগ রাখার পরিকল্পনা আছে। ভবিষ্যতে এই কাজে আলাদা একটি মোবাইল অ্যাপ চালুরও চিন্তা করছে এনবিআর।
পুরোনো প্যাকেজ ভ্যাটের সঙ্গে মিল
এই উদ্যোগ একেবারে নতুন নয়। প্রায় এক দশক আগে শহরাঞ্চলের ছোট ব্যবসায়ীদের লেনদেনের পরিমাণ যা-ই হোক না কেন, নির্দিষ্ট হারে মাসিক ভ্যাট দিতে হতো, যা প্যাকেজ ভ্যাট নামে পরিচিত ছিল। ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন চালুর পর এই প্রথা বাতিল হয়ে যায়। এবারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে অনেকটা সেই ধরনের ব্যবস্থাই ইউনিয়ন থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত ফিরে আসছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ হলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন কীভাবে হবে সেটিই বড় প্রশ্ন। তাঁর মতে, প্রথমে ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা দরকার, যাতে তাঁরা ভীত না হন। কম হারে ভ্যাট দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে পরে বেশি হারে ভ্যাট দিতে ব্যবসায়ীরা রাজি নাও হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এরপর কী হবে
তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শেষ হলে ভ্যাটের নির্ধারিত হার চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করবে এনবিআর। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে আলোচনার পরই ঠিক হবে কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান আসলে এই করজালে পড়বে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!









