মৃত্যু সনদে বাবার নামের বানান ভুল, আর আমি ব্যাংকের লাইনে দাঁড়িয়ে
মৃত্যু সনদ হাতে পেয়ে আমি প্রথমেই নাম দেখিনি। দেখেছিলাম সিলটা ঠিক আছে কি না। ব্যাংকে কাগজ জমা দিতে গেলাম, কর্মকর্তা এক মিনিট দেখে বললেন, “বাবার নামের বানান তো এনআইডির সাথে মিলছে না।”
বাবার নামের শেষে “উদ্দিন” এর জায়গায় লেখা ছিল “উদ্দীন”। একটা ছোট্ট মাত্রার ভুল। কিন্তু সেই একটা মাত্রার জন্য ব্যাংক, ওয়ারিশ সনদ আর পেনশনের কাজ থেমে গেল।
সেদিন ফিরে এসে বুঝলাম, মৃত্যু নিবন্ধনের ভুল ঠিক করা আলাদা একটা লড়াই। আমি নিজে অফিসে গিয়েছি, আবেদন রিজেক্ট হতে দেখেছি, তারপর নিয়মটা বুঝেছি। সেই অভিজ্ঞতাই এই লেখায় সহজ করে সাজালাম।
সংক্ষিপ্ত উত্তর: মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধন করতে BDRIS পোর্টালে সংশোধনের আবেদন করুন এবং সঠিক তথ্যের কাগজ আপলোড করুন। এরপর আবেদনের প্রিন্ট কপি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধক কার্যালয়ে জমা দিন। আবেদন রিজেক্ট হলে কারণ দেখে ভুল শুধরে আবার আবেদন করুন। সনদ হারিয়ে গেলে নিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনলাইনে খুঁজুন, না পেলে নিবন্ধক অফিস থেকে কপি তুলুন।
এই লেখা থেকে যা যা জানবেন:
- মৃত্যু নিবন্ধনে ভুল নাম বা তারিখ কীভাবে ঠিক করবেন
- নিবন্ধন ও সংশোধনের ফি কত লাগে
- বানান ভুল আর পুরো নাম পরিবর্তনের পার্থক্য
- হাতে লেখা পুরনো সনদ আর প্রবাসীদের ক্ষেত্রে করণীয়
- আবেদন রিজেক্ট হলে সমাধান
- হারানো সনদের কপি তোলার নিয়ম
মৃত্যু নিবন্ধনে ভুল থাকলে কোন কোন কাজ আটকে যায়?
ভুল থাকা সনদ দিয়ে কোথায় আটকাবেন, আগে জানলে প্রস্তুতি নেওয়া সহজ।
- ব্যাংক হিসাব ও আমানত তোলা: নামের বানান বা বাবার নাম না মিললে ব্যাংক এগোয় না।
- ওয়ারিশ সনদপত্র ও উত্তরাধিকার: সনদের তথ্যের সাথে এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন না মিললে প্রশ্ন ওঠে।
- পেনশন ও সরকারি সুবিধা: মৃত্যুর তারিখে সামান্য গরমিল হলেও ফাইল ফেরত আসতে পারে।
- জমি-জমা ও মিউটেশন: প্রতিটা তথ্য কাগজে কাগজে মিলতে হয়।
এই কাজগুলো এমনিতেই কঠিন সময়ে করতে হয়। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের মধ্যে কাগজের পেছনে ছোটা সবচেয়ে ক্লান্তিকর।
আরেকটা কষ্ট হলো বারবার অফিসে যাওয়া। কেউ গিয়ে শুনলেন, “আবার অনলাইনে আবেদন করুন।” তিনি বুঝতেই পারলেন না কোথায় ভুল হয়েছিল।
ভুলটা আপনার নাও হতে পারে। অনেক সময় ডেটা এন্ট্রির সময়েই বানান বদলে যায়। তাই নিজেকে দোষ না দিয়ে ঠান্ডা মাথায় নিয়মটা ধরে এগোন।
মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধন কারা করতে পারেন?
সাধারণত মৃত ব্যক্তির পরিবারের সদস্য, যেমন স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা বা ভাইবোন, আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারীর সম্পর্ক কাগজে দেখাতে বলা হতে পারে।
আবেদনের আগে হাতে রাখুন:
- মৃত ব্যক্তির ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর
- মৃত্যুর তারিখ
- ভুল সনদের কপি
- সঠিক তথ্যের প্রমাণপত্র, যেমন এনআইডি, পাসপোর্ট বা জন্ম সনদ
মৃত ব্যক্তির নিজের জন্ম নিবন্ধনেই ভুল থাকলে আগে সেটা ঠিক করুন। বিস্তারিত পাবেন জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নিয়ম লেখায়। মৃত্যু নিবন্ধন সাধারণত জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের ওপরেই দাঁড়ায়।
মৃত্যু নিবন্ধনের ভুল নাম কীভাবে অনলাইনে সংশোধন করবেন?

ভুল নাম ঠিক করতে BDRIS পোর্টালে সংশোধনের আবেদন করে প্রিন্ট কপিসহ নিবন্ধক অফিসে জমা দিতে হয়। কাজটা তিন ভাগে হয়: অনলাইন আবেদন, অফিসে জমা, তারপর যাচাই।
ধাপ ১: সিস্টেমে ঠিক কী তথ্য আছে দেখুন
প্রথমে অনলাইনে নিবন্ধন তথ্য যাচাই করে দেখে নিন। ১৭ ডিজিটের নম্বর আর মৃত্যুর তারিখ দিয়ে মৃত্যু নিবন্ধন যাচাইয়ের পোর্টালে তথ্য দেখা যায়। কাগজের সনদ আর সিস্টেমের তথ্য সবসময় এক নাও হতে পারে।
ধাপ ২: ভুলের তালিকা বানান
একটা কাগজে লিখুন কোন ঘরে কী আছে আর কী থাকা উচিত। যেমন: “বাবার নাম: ভুল বানান → সঠিক বানান”, “মৃত্যুর তারিখ: ১২ → ২১”। এই তালিকা হাতে থাকলে ফর্ম পূরণের সময় কিছু বাদ পড়ে না।
ধাপ ৩: BDRIS পোর্টালে সংশোধনের আবেদন করুন
- ব্রাউজারে bdris.gov.bd খুলুন।
- মৃত্যু নিবন্ধনের অংশে সংশোধনের আবেদনের অপশন খুঁজে নিন। মেনুর নাম সময়ে সময়ে বদলাতে পারে, তাই যে অপশনে “মৃত্যু” ও “সংশোধন” শব্দ আছে সেটা বেছে নিন।
- মৃত ব্যক্তির নিবন্ধন নম্বর আর মৃত্যুর তারিখ দিয়ে তথ্য আনুন।
- যে ঘরের তথ্য ভুল, শুধু সেই ঘরের সঠিক তথ্য বসান।
- আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর ও পরিচয় ঠিকভাবে দিন।
অনলাইন আবেদন কখনো সাময়িক বন্ধ থাকতে পারে। সেই সময় নিবন্ধক কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি আবেদন করা যায়।
ধাপ ৪: কাগজপত্র আপলোড করুন
সাধারণত চিকিৎসকের মৃত্যু সনদ বা মৃত্যুর প্রমাণপত্র, মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন এবং এনআইডি বা পাসপোর্টের কপি লাগে। ফাইল পরিষ্কার স্ক্যান করুন। অস্পষ্ট ছবি রিজেক্টের বড় কারণ।
ধাপ ৫: প্রিন্ট কপি জমা দিন
অনলাইন আবেদন শেষ হলে প্রিন্ট কপি নিন। সেটা ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড বা সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধক অফিসে জমা দিন। যাচাইয়ের জন্য মূল কাগজ সাথে রাখুন।
ধাপ ৬: আবেদনের অবস্থা দেখুন
জমা দেওয়ার পর আবেদনের স্ট্যাটাস দেখার নিয়মে নিজের আবেদনের অবস্থা দেখতে পারেন। অনুমোদন হলে নতুন তথ্যসহ সনদ প্রিন্ট নেওয়া যাবে।
Pro Tip: আমি প্রথমবার একসাথে তিনটা ঘর বদলাতে চেয়েছিলাম, অথচ কাগজ ছিল মাত্র একটার। শুধু যে তথ্যের পক্ষে কাগজ আছে, সেটাই বদলান। দ্বিতীয় আবেদনে এই নিয়ম মেনেই কাজ হয়েছে।
বানান ভুল নাকি পুরো নাম পরিবর্তন: পার্থক্যটা কোথায়?
ধরুন সনদে বাবার নাম “আব্দুল করিম” থাকার কথা, অথচ লেখা আছে “আব্দুর রহমান”। এটা বানানের ভুল না, পুরো নামই আলাদা। এমন ক্ষেত্রে অফিস বাড়তি প্রমাণ চাইবে।
| ভুলের ধরন | উদাহরণ | সাধারণত যা লাগতে পারে |
|---|---|---|
| বানান বা মাত্রা ভুল | উদ্দিন / উদ্দীন | এনআইডি, জন্ম সনদের মতো মূল কাগজ |
| নামের অংশ বাদ পড়া | মোহাম্মদ বাদ গেছে | এনআইডি, জন্ম সনদ |
| পুরো নাম আলাদা | করিম / রহমান | একাধিক প্রমাণপত্র, অনেক সময় হলফনামা |
হলফনামা বা অতিরিক্ত কাগজ লাগবে কি না, সেটা নির্ভর করে নিবন্ধক কার্যালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর। জমা দেওয়ার আগে অফিসে একবার জেনে নিন। কাগজের কপি নেওয়ার সময় নামের বানান আরেকবার মিলিয়ে নিন, এতে পরে ঝামেলা কমে।
মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনে কত টাকা ফি লাগে?
নিবন্ধনের ফি সময়ের ওপর নির্ভর করে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী মৃত্যুর পর কত সময়ে নিবন্ধন করা হচ্ছে, সেটাই ফি ঠিক করে।
| মৃত্যুর পর কত সময়ে নিবন্ধন | নিবন্ধন ফি |
|---|---|
| ৪৫ দিনের মধ্যে | কোনো ফি নেই |
| ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে | ২৫ টাকা |
| ৫ বছরের পর | ৫০ টাকা |
সংশোধনের ফি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন সংখ্যা এসেছে। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে তারিখ সংশোধনে ১০০ টাকা আর অন্য তথ্য সংশোধনে ৫০ টাকার কথা বলা হয়েছে। বিডিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে নিবন্ধন ফির একই হারের উল্লেখ আছে।
সরকারি ফি যেকোনো সময় বদলাতে পারে। মৃত্যুর তারিখ সংশোধনেও ১০০ টাকা কি না, তা অফিস থেকে জেনে নিন। ফি দিলে রসিদ চান।
যেসব এলাকায় ই-পেমেন্ট চালু আছে, সেখানে অনলাইনেই ফি দেওয়া যায়। কেউ অনেক বেশি টাকা চাইলে সরকারি ফি আর রসিদের কথা জিজ্ঞেস করুন।
হাতে লেখা পুরনো মৃত্যু সনদ থাকলে সংশোধন কীভাবে হবে?
অনেক পুরনো সনদ হাতে লেখা, যার তথ্য অনলাইন সিস্টেমে নাও থাকতে পারে। তখন অনলাইনে সংশোধনের আবেদন সরাসরি চলে না।
আগে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধক অফিসে গিয়ে সনদটা ডিজিটাল এন্ট্রি করাতে হতে পারে। তারপর সংশোধনের আবেদন করা যায়। এ নিয়ে হাতে লেখা নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম লেখাটা দেখতে পারেন। আপনার এলাকার অফিসে প্রক্রিয়াটা একটু আলাদা হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে ফোন করে জেনে নিন।
প্রবাসে মৃত্যু হলে নিবন্ধনের ভুল কীভাবে ঠিক করবেন?
বিদেশে মৃত্যু হলে সনদের তথ্যের সাথে পাসপোর্টের তথ্য মেলানো সবচেয়ে বড় কাজ। অনেক ক্ষেত্রে পাসপোর্টের কপি, বিদেশের মৃত্যু সনদ আর দূতাবাসের প্রত্যয়নপত্র লাগতে পারে।
কোন কাগজ গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিবন্ধক কার্যালয় ঠিক করে। কাগজ জমা দেওয়ার আগে নাম ও মৃত্যুর তারিখ আরেকবার মিলিয়ে নিন। বিদেশি ভাষার কাগজ থাকলে অনুবাদের দরকার হতে পারে।
মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন রিজেক্ট হলে কী করবেন?
রিজেক্ট মানে সব শেষ নয়। প্রথমে কারণটা পড়ুন, তারপর ভুলটা ঠিক করে আবার আবেদন করুন।
রিজেক্টের সাধারণ কারণ
- তথ্য মেলেনি: আবেদনের নাম বা নম্বরের সাথে মূল নিবন্ধনের তথ্যে গরমিল।
- কাগজ অস্পষ্ট বা অসম্পূর্ণ: ঝাপসা স্ক্যান, কিংবা প্রয়োজনীয় একটা কাগজ বাদ।
- মৃত্যুর তারিখে গরমিল: আবেদনের তারিখ আর চিকিৎসকের সনদের তারিখ আলাদা।
- প্রিন্ট কপি জমা না দেওয়া: অনলাইনে আবেদন করে প্রিন্ট কপি অফিসে না দিলে আবেদন এগোয় না।
- একই আবেদন দুইবার: আগের আবেদন চলমান থাকলে নতুনটা আটকে যেতে পারে।
রিজেক্ট হলে ধাপে ধাপে সমাধান
- আবেদনের স্ট্যাটাস খুলে রিজেক্টের মন্তব্য দেখুন।
- কারণ না বুঝলে নিবন্ধক অফিসে গিয়ে সরাসরি জিজ্ঞেস করুন।
- ভুল কাগজ বদলে পরিষ্কার স্ক্যান আপলোড করুন।
- সব তথ্য মূল কাগজের সাথে মিলিয়ে নিন।
- নতুন আবেদন করে প্রিন্ট কপি তখনই জমা দিন।
আমার প্রথম আবেদন রিজেক্ট হয়েছিল শুধু ঝাপসা ছবির কারণে। স্ক্যানার অ্যাপে পরিষ্কার স্ক্যান করে দ্বিতীয়বারে কাজ হয়ে গেল।
ভুল ধারণা: একবার আবেদন রিজেক্ট হলে আর সংশোধন করা যায় না।
বাস্তব: রিজেক্ট হলেও কারণ ঠিক করে আবার আবেদন করা যায়। বেশিরভাগ সময় সমস্যা কাগজ বা তথ্যের গরমিল।
মৃত্যু নিবন্ধন সনদ হারিয়ে গেলে কপি কীভাবে তুলবেন?
১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর থাকলে অনলাইনে তথ্য খুঁজুন, পেলে প্রিন্ট নিন। না পেলে নিবন্ধক কার্যালয়ে আবেদন করে সনদের অনুলিপি তুলুন।
নম্বর না জানলে কী করবেন?
ব্যাংক, ওয়ারিশ সনদপত্র বা পুরনো কোনো কাগজে নম্বর লেখা থাকতে পারে। না পেলে যে ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে সনদ হয়েছে, সেখানে মৃত ব্যক্তির নাম, মৃত্যুর তারিখ আর পরিচয়পত্র নিয়ে যান।
কপি তোলার ধাপ
- নিবন্ধন নম্বর আর মৃত্যুর তারিখ জোগাড় করুন।
- পোর্টালে তথ্য আছে কি না দেখুন।
- থাকলে সনদের কপি প্রিন্ট করুন। পোর্টাল ব্যবহারের ধারণা পেতে মোবাইল দিয়ে নিবন্ধন সনদ ডাউনলোডের নিয়ম পড়তে পারেন। লেখাটা জন্ম নিবন্ধনের জন্য, তবে পোর্টাল চালানোর ধাপ কাছাকাছি।
- অনলাইনে না পেলে নিবন্ধক অফিসে আবেদন করে প্রয়োজনে ফি দিয়ে অনুলিপি নিন।
অফিসে যাওয়ার আগের চেকলিস্ট
- আবেদনকারীর এনআইডির কপি
- মৃত ব্যক্তির এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধনের কপি
- মৃত্যুর তারিখ লেখা যেকোনো কাগজ
- আবেদনের প্রিন্ট কপি
- ফির জন্য খুচরা টাকা
সংশোধিত সনদ হাতে এলে এরপর কী করবেন?
সংশোধিত সনদ পেলে মনে হয় ঝামেলা শেষ। আসলে পরের সাত দিনের কাজই ঠিক করে দেয়, ভবিষ্যতে এই কাগজ আবার সমস্যায় ফেলবে কি না।
নতুন সনদ পাওয়ার প্রথম ৭ দিনের কাজ
দিন ১: অনলাইনে তথ্য খুলে কাগজের প্রতিটা ঘর স্ক্রিনের সাথে একটা একটা করে মিলিয়ে দেখুন।
দিন ২: ২০০ থেকে ৩০০ ডিপিআইতে পরিষ্কার স্ক্যান করুন। ফোনে তোলা বাঁকা ছবি পরে আবার সমস্যা করতে পারে। PDF আর JPG দুই ফরম্যাটেই রাখুন।
দিন ৩: তিন কপি ফটোকপি করান। একটা ব্যাংকের জন্য, একটা ওয়ারিশ বা পেনশনের জন্য, একটা বাসায় রাখার জন্য। মূল কপি কোথাও জমা না দিয়ে ফটোকপিতে কাজ চালান।
দিন ৪ থেকে ৭: আগের ভুল সনদ যেখানে জমা আছে, সেখানে গিয়ে জানান যে সংশোধিত কপি এনেছেন। এতে একই ফাইলে দুই রকম তথ্য পড়ে থাকার ঝুঁকি কমে।
কপি কোথায় রাখলে কোন সুবিধা?
| রাখার উপায় | সুবিধা | অসুবিধা |
|---|---|---|
| ফটোকপি, বাসার ফাইলে | তাৎক্ষণিক কাজে লাগে | ভিজে বা ছিঁড়ে যেতে পারে |
| ফোন বা কম্পিউটারে স্ক্যান | সহজে পাঠানো যায় | ডিভাইস নষ্ট হলে হারাতে পারে |
| ইমেইল বা ক্লাউড ফোল্ডার | যেকোনো জায়গা থেকে খোলা যায় | ইন্টারনেট ছাড়া খোলা যায় না |
ক্লাউডে ফাইলের নাম রাখুন সহজ ভাষায়, যেমন “মৃত্যু-সনদ-সংশোধিত-বাবা”। তিন মাস পরে ফাইল খুঁজতে ঝামেলা হবে না।
পরিবারের সব কাগজে নামের বানান কীভাবে একরকম রাখবেন?
ফোনের নোটে একটা “নামের তালিকা” বানান। তাতে লিখুন মৃত ব্যক্তির পুরো নাম, বাবা ও মায়ের নাম, আর কোন কাগজে কীভাবে লেখা আছে।
আমি এই তালিকা বানিয়ে দেখলাম, তিনটা কাগজে তিন রকম বানান। জন্ম নিবন্ধনে এক বানান, এনআইডিতে আরেক। আগে ধরা পড়ায় সংশোধনের সময় জানতাম কোন কাগজটাকে মূল ধরব।
মৃত ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন না থাকলে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন না থাকলে করণীয় লেখাটা দেখতে পারেন।
একটা সিনারিও: ওয়ারিশ সনদের আগের সপ্তাহ
ধরুন আপনার মা মারা গেছেন। আপনি ওয়ারিশ সনদের কাগজ গোছাচ্ছেন, ঠিক তখন সংশোধিত মৃত্যু সনদ এল।
ওয়ারিশ সনদের আবেদনে পুরনো আর নতুন সনদ একসাথে জমা দেবেন না। শুধু সংশোধিতটা দিন। দুটো একসাথে গেলে কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলতে পারেন কোনটা সঠিক। পুরনোটা আলাদা ফোল্ডারে রেখে দিন।
দীর্ঘমেয়াদে সনদ নিরাপদ রাখার চেকলিস্ট
- ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর ফোনের নোটে লেখা আছে
- সংশোধনের রসিদ বা আবেদন নম্বর ফাইলে আছে
- সংশোধিত সনদের ৩ কপি তৈরি
- ক্লাউডে বা ইমেইলে স্ক্যান কপি রাখা
- ব্যাংক, পেনশন বা অন্য অফিসে নতুন সনদ জানানো হয়েছে
- আগের ভুল সনদ আলাদা ফোল্ডারে রাখা
যে ভুলগুলোর কারণে অনেকে দ্বিতীয়বার অফিসে ছোটেন

ভুলগুলো ছোট দেখায়। কিন্তু একটাতেই কাজ কয়েক সপ্তাহ পিছিয়ে যেতে পারে।
মূল কাগজ জমা দিয়ে ফেরত না নেওয়া
যাচাইয়ের জন্য মূল কপি দেখানো এক কথা, জমা দিয়ে আসা আরেক কথা। মূল কাগজ হারালে সেটার জন্য আলাদা আবেদন করতে হয়। কাগজ দেখিয়ে ফেরত নিন। জমা দিলে রসিদ চান।
রসিদ না নেওয়া
কর্মকর্তা বললেন, “ঠিক আছে, পরে আসুন।” এই কথা কাগজে না থাকলে কবে জমা দিয়েছিলেন প্রমাণ করা কঠিন হয়। জমার তারিখসহ স্বাক্ষরিত কপি বা রসিদ চেয়ে নিন।
অচেনা কারও হাতে পোর্টালের তথ্য তুলে দেওয়া
আবেদনে নিবন্ধন নম্বর, এনআইডি আর মোবাইল নম্বর লাগে। এসব অচেনা কারও হাতে গেলে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। সংশোধনের আবেদন নিজে করা যায়।
ঝাপসা বা কাটা স্ক্যান আপলোড করা
তাড়াহুড়োয় তোলা ছবির এক কোণা কাটা পড়ে যায়। দেখতে ঠিক লাগে, অথচ যাচাইয়ের সময় কর্মকর্তা পুরোটা পড়তে পারেন না। পাঠানোর আগে ছবিটা বড় করে চার কোণা দেখে নিন।
নতুন সনদ না দেখেই ব্যাংকে জমা দেওয়া
খুশিতে সোজা ব্যাংকে গেলেন, পরে দেখা গেল আরেকটা ঘরে ছোট ভুল রয়ে গেছে। জমা দেওয়ার আগে বাসায় প্রতিটা ঘর দুইবার পড়ুন।
দেরি করা
সনদের ভুল ফেলে রাখলে ওয়ারিশ সনদ, ব্যাংক হিসাব বা পেনশনের কাজ আটকে থাকার ঝুঁকি বাড়ে। পরিবারে ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। সময় যত যায়, কাগজ আর সাক্ষী জোগাড় করা তত কঠিন হয়।
| করণীয় | বর্জনীয় |
|---|---|
| জমার রসিদ চেয়ে নিন | মুখের কথায় ভরসা করা |
| প্রতিটা ঘর দুইবার পড়ুন | তাড়াহুড়ো করে জমা দেওয়া |
| নিজে বা পরিবার নিয়ে আবেদন করুন | অচেনা কাউকে তথ্য দেওয়া |
| মূল কাগজের ফটোকপি রাখুন | মূল কপি জমা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া |
মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধন কি নিজে করা যায়?
হ্যাঁ, নিজেই করা যায়। BDRIS পোর্টালে আবেদন করে প্রিন্ট কপি নিবন্ধক অফিসে জমা দিন। সমস্যা হলে ১৬১৫২ নম্বরে বা [email protected] ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।
মৃত্যু নিবন্ধন সনদ হারিয়ে গেলে কি আবার পাওয়া যায়?
সাধারণত পাওয়া যায়। ১৭ ডিজিটের নম্বর থাকলে অনলাইনে তথ্য খুঁজে প্রিন্ট নিন। নম্বর না থাকলে নিবন্ধক অফিসে মৃত্যুর তারিখ আর পরিচয়পত্র নিয়ে যোগাযোগ করুন।
মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন রিজেক্ট হলে কি আবার আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ। আগে রিজেক্টের কারণ দেখুন, ঠিক করে নতুন আবেদন করুন। কারণ না বুঝলে নিবন্ধক অফিসে জিজ্ঞেস করুন।
মৃত্যু নিবন্ধন ফি কত?
মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনে কোনো ফি নেই। ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে ২৫ টাকা আর ৫ বছরের পর ৫০ টাকা। সংশোধনের ফির জন্য নিবন্ধক অফিসে জেনে নিন।
মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনে কি দালাল লাগে?
না। পোর্টাল আর নিবন্ধক অফিসের মধ্যেই কাজ হয়। কেউ বেশি টাকা চাইলে সরকারি ফি আর রসিদের কথা জিজ্ঞেস করুন।
সংশোধনের পর আগের সনদ কি বাতিল হয়ে যায়?
সাধারণত সংশোধিত সনদই ব্যবহার করতে হয়। পুরনোটা ফেলে না দিয়ে আলাদা ফোল্ডারে রাখুন। কী করবেন, তা নিবন্ধক অফিসে জেনে নিন।
অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন সঠিক আছে কি না কীভাবে দেখব?
১৭ ডিজিটের নম্বর আর মৃত্যুর তারিখ দিয়ে যাচাইয়ের পোর্টালে তথ্য দেখুন। কাগজের সাথে প্রতিটা ঘর মিলিয়ে নিন। গরমিল পেলে সংশোধনের আবেদন করুন।
একটা একটা করে এগোলেই কাগজের জট খোলে
ভুল নিয়ে চিন্তা করতে করতে অনেকে কাজটাই পিছিয়ে দেন। ছোট ধাপে ভাগ করলে একদিনে এক ধাপ করেই এগোনো যায়।
আগামীকালের অ্যাকশন প্ল্যান:
- সকালে ১৭ ডিজিটের নিবন্ধন নম্বর আর মৃত্যুর তারিখ খুঁজে বের করুন
- অনলাইনে তথ্য যাচাই করে ভুলের তালিকা বানান
- যে ভুলের পক্ষে কাগজ আছে, শুধু সেটাই সংশোধনের জন্য ঠিক করুন
- দুপুরে কাগজ পরিষ্কার স্ক্যান করুন
- বিকেলে আবেদন ফর্ম পূরণ করে প্রিন্ট কপি বের করুন
এক ধাপ শেষ করলে পরের ধাপ সহজ লাগে। আমার কাছেও কাগজের পাহাড় প্রথমে অসম্ভব লেগেছিল। আপনিও আজই প্রথম কাজটা ধরে ফেলুন।
একটা কথা বলে রাখি, আমি আইনের লোক না। নিজের পরিবারের কাগজ ঠিক করতে গিয়েই এসব শিখেছি। তাই ফি, কাগজপত্র আর নামের বড় পরিবর্তনের নিয়ম জানতে আবেদনের আগে আপনার এলাকার নিবন্ধক কর্মকর্তার সাথে একবার কথা বলে নিন, দরকার হলে একজন আইনজীবীর সাথেও।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!









