জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে আটকে গেছেন? আবেদন থেকে সংশোধন, সব সমাধান এক জায়গায়

অক্টোবর 31, 2026 10:22 অপরাহ্ন
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন গাইড: নবজাতককে কোলে নিয়ে জন্ম নিবন্ধনের কাগজপত্র ও স্মার্টফোন যাচাই করছেন বাংলাদেশের এক দম্পতি।

১৭ সংখ্যার একটি নম্বর। এই নম্বরের একটা অঙ্ক ভুল হলে স্কুলের ভর্তি আটকে যায়, পাসপোর্টের আবেদন ফেরত আসে, আর এনআইডি করতে গিয়ে নতুন ঝামেলা তৈরি হয়।

আমার ভাইঝির স্কুলে ভর্তির সময় এমনই হয়েছিল। ফর্ম জমা দেওয়ার দিন দেখা গেল সনদে বাবার নামের বানানটা ভুল। ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে শুনলাম, ডাটাবেজে যা আছে সেটাই ছাপা হয়েছে। এরপর তিন সপ্তাহ ঘুরতে ঘুরতে বুঝলাম, নিয়মটা জানা থাকলে এই সময়ের অর্ধেকও লাগত না।

সেই ঘটনার পর থেকে নিজের পরিবারের কাগজপত্রের কাজ নিজেই করতে শুরু করেছি। যেখানে আটকেছি, সেখানে কী করলে কাজ হয়েছে, তার প্রতিটি সমাধান আলাদা গাইড আকারে লিখেছি। সেই সবগুলোর লিংক এই পোস্টে গুছিয়ে দিয়েছি, যাতে আপনাকে আর কোথাও খুঁজতে না হয়।

দ্রুত উত্তর: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সব সেবা সরকারি BDRIS পোর্টাল থেকে পাওয়া যায়। নতুন আবেদন, সনদ যাচাই, সংশোধন, পুনরায় প্রিন্ট ও আবেদনের স্ট্যাটাস, সবই সেখানে আছে। অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে প্রিন্ট নিতে হয়, তারপর কাগজপত্র ও ফি সহ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধকের কাছে জমা দিতে হয়।

এই লেখায় যা থাকছে

নিবন্ধন নিয়ে মানুষ কোথায় আটকে যায়?

একটা ভুল সনদ একজন মানুষকে মাসের পর মাস ঘোরাতে পারে। বাবা-মায়ের অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেন না, কোন অফিসে যেতে হবে বা কোন কাগজ লাগবে।

যা যা ঘটতে দেখেছি:

  • সনদে নাম বা জন্মতারিখ ভুল থাকায় এসএসসি ফর্ম পূরণের সময় সমস্যা হয়।
  • হাতে লেখা পুরনো সনদ ডিজিটাল ডাটাবেজে খুঁজে পাওয়া যায় না।
  • আবেদন করার পর কোনো খবর না পেয়ে মানুষ প্রতি সপ্তাহে অফিসে ঘোরে।
  • আবেদন বাতিল হয়, অথচ কারণটা কেউ বুঝিয়ে বলে না।
  • প্রবাসে জন্ম নেওয়া সন্তানের নিবন্ধন কীভাবে হবে, তা নিয়ে দূতাবাসে গিয়েও অস্পষ্ট উত্তর মেলে।
  • পরিবারের কারো মৃত্যুর পর শোকের মধ্যেই সনদের জন্য দৌড়াতে হয়।

এই দৌড়াদৌড়ি শুধু সময় খায় না, মনের ওপরও চাপ ফেলে। সরকারি কাজ আটকে থাকলে রাতে ঘুম আসে না, কারণ পরের ধাপের সব কাজ ওই একটা কাগজের ওপর ঝুলে থাকে।

ভালো খবর হলো, প্রায় সব সমস্যারই একটা নির্দিষ্ট সমাধান আছে। শুধু জানতে হবে কোন সমস্যায় কোন পথে যাবেন।

আরও পড়ুন  NID Smart Card Status Check: এই ছোট্ট নিয়মটা না জানলে রিপ্লাই আসবেই না

শুরুর আগে জেনে নিন: জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে?

নিজের পরিবারের জন্ম নিবন্ধন (বার্থ সার্টিফিকেট) ও মৃত্যু নিবন্ধনের কাজ হাতে-কলমে করার অভিজ্ঞতা থেকে একটা জিনিস বলতে পারি: প্রক্রিয়াটা বুঝে নিলে ভয়ের কিছু নেই।

বাংলাদেশে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থার নাম BDRIS। টিবিএস নিউজের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী এই কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রথমে ৩০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছিল। এখন পুরো দেশের নিবন্ধন এই একটি ব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশিত সিআরভিএস প্রোফাইলে বলা হয়েছে, BDRIS ডিজিটাল রেকর্ড রাখা ও পরিচয় ব্যবস্থাপনার কাজ করে এবং জন্মের সময়েই ইউনিক আইডি নম্বর দেওয়া হয়। এই নম্বরটাই পরে আপনার পাসপোর্ট, এনআইডি ও শিক্ষা সনদের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।

কোন সেবার জন্য কোন ঠিকানা?

সরকারি পোর্টালে আলাদা কাজের জন্য আলাদা লিংক আছে। নতুন আবেদন শুরু হয় BDRIS-এর অফিসিয়াল আবেদন পাতা থেকে, যার ঠিকানা bdris.gov.bd/br/application। যাচাই, সংশোধন, পুনরায় প্রিন্ট ও স্ট্যাটাস দেখার অপশনও একই সাইটে পাবেন।

ভুয়া সাইট থেকে সাবধান থাকুন। ঠিকানার শেষে gov.bd আছে কি না, আর ব্রাউজারে তালার চিহ্ন আছে কি না, এই দুটো দেখে নিন। যে সাইট টাকা চায় বা ব্যক্তিগত তথ্য চাপ দিয়ে নিতে চায়, সেখান থেকে সরে আসুন।

নতুন জন্ম নিবন্ধনের আবেদন কীভাবে করবেন?

জন্ম নিবন্ধনের আবেদন অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে, প্রিন্ট নিয়ে স্থানীয় নিবন্ধন অফিসে জমা দিয়ে সম্পন্ন করতে হয়। ফর্ম অনলাইনে পূরণ হলেও কাগজপত্র ও ফি অফিসেই জমা দিতে হয়।

পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দেখতে চাইলে অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম লেখাটি পড়ুন। সেখানে আবেদন ফর্মের প্রতিটি ঘর ধরে ধরে ব্যাখ্যা করেছি।

কোন বয়সে কী কী কাগজ লাগে?

কাগজের তালিকা বয়স ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। নিচের ছকটা সাধারণ চিত্র দেখায়, তবে অফিসভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে, তাই জমা দেওয়ার আগে স্থানীয় নিবন্ধন অফিসে একবার জেনে নিন।

পরিস্থিতিসাধারণত যা লাগে
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যেহাসপাতালের সনদ বা টিকা কার্ড, বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন বা এনআইডি, ঠিকানার প্রমাণ
৪৫ দিন পর, ৫ বছরের মধ্যেটিকা কার্ড (ইপিআই কার্ড), বাবা-মায়ের কাগজ, ঠিকানার প্রমাণ
৫ বছরের বেশি, স্কুলগামীস্কুলের প্রত্যয়নপত্র বা ভর্তির কাগজ, বাবা-মায়ের কাগজ, ঠিকানার প্রমাণ
প্রাপ্তবয়স্কস্কুল বা কলেজের সনদ বা অন্য প্রাথমিক পরিচয়ের কাগজ, বাবা-মায়ের কাগজ, ঠিকানার প্রমাণ

গ্রামের মানুষের জন্য ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স বা চৌকিদারি ট্যাক্সের রসিদ সবচেয়ে সহজে মেলে। শহরে বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলও কাজ করে।

আবেদনের আগে হাতের কাছে কী কী রাখবেন?

আবেদন শুরু করার আগে কাগজগুলো একসাথে করে নিলে মাঝপথে থেমে যেতে হয় না। এই চেকলিস্টটা মিলিয়ে নিন:

  • বাবা ও মায়ের জন্ম নিবন্ধন নম্বর (না থাকলে বিকল্প নিয়মে যেতে হবে)
  • শিশুর ক্ষেত্রে টিকা কার্ড বা হাসপাতালের জন্মসনদ
  • প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে স্কুল সার্টিফিকেট বা প্রাথমিক পরিচয়ের কাগজ
  • স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ
  • আবেদনকারীর চালু মোবাইল নম্বর, যেখানে ওটিপি আসবে
  • অনলাইন ফর্মের প্রিন্ট কপি, সবগুলো ঘর পূরণ করা

একটা ছোট্ট জিনিস খেয়াল করবেন: ফর্মে নাম লিখতে হয় বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষায়। ইংরেজি বানান পাসপোর্টে যেমন হবে, ঠিক তেমন লিখুন। পরে মিলে না গেলে সংশোধনে আবার সময় যাবে।

আমার করা ভুল: আমি একবার ফর্ম পূরণের সময় বাবার নাম সংক্ষেপে লিখে দিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম অফিস ঠিক করে নেবে। অফিস ঠিক করেনি, কারণ ডাটাবেজে যা এন্ট্রি হয় সেটাই ছাপা হয়। এখন যেকোনো ফর্মে নাম লিখি পূর্ণ বানানে, কোনো সংক্ষেপ ছাড়া।

আরও পড়ুন  মৃত্যু নিবন্ধনে নাম ভুল? রিজেক্ট হয়েছে? ঘরে বসেই ঠিক করুন এই নিয়মে

যাদের বাবা-মায়ের নিবন্ধন নেই, তারা কী করবেন?

অনেক পরিবারে বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধনই নেই, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে। এই অবস্থায় আবেদন আটকে যায়, কিন্তু আটকে থাকার কোনো কারণ নেই। বাবা-মায়ের জন্ম নিবন্ধন না থাকলে সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের নিয়ম পড়ে নিলে বিকল্প কাগজপত্রের তালিকা পেয়ে যাবেন।

জন্ম নিবন্ধন আবেদন জমা দেওয়ার পর কী হয়?

আবেদন জমা হলে একটি আবেদন আইডি পাবেন। এই আইডি ও জন্মতারিখ দিয়ে আবেদনের বর্তমান অবস্থা অনলাইনে দেখা যায়। স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন এবং কোন স্ট্যাটাসের মানে কী, সেটা জন্ম নিবন্ধন আবেদনের স্ট্যাটাস দেখার উপায় লেখায় বিস্তারিত দিয়েছি।

অনুমোদনের পর সনদ তৈরি হতে সাধারণত সাত থেকে পনেরো দিন লাগে। অফিসের কাজের চাপের ওপর নির্ভর করে এর চেয়ে বেশিও লাগতে পারে।

কিছু আবেদন বাতিল হয়ে যায়। কারণ সাধারণত নামের অমিল, কাগজের অস্পষ্টতা বা ফর্মে ভুল ঠিকানা। বাতিল হলে ঘাবড়াবেন না, জন্ম নিবন্ধন আবেদন বাতিল হলে করণীয় লেখায় কারণ অনুযায়ী পরের পদক্ষেপ সাজিয়ে দিয়েছি।

জন্ম নিবন্ধন সনদ কীভাবে যাচাই ও ডাউনলোড করবেন?

যাচাইয়ের জন্য তিনটি জিনিস লাগে: ১৭ সংখ্যার নিবন্ধন নম্বর, জন্মতারিখ আর ক্যাপচা। সরকারি যাচাই পোর্টাল everify.bdris.gov.bd। পুরো পদ্ধতি ধাপে ধাপে লিখেছি অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন যাচাইয়ের পদ্ধতি পোস্টে।

ভিডিওতে দেখে নিন, এক মিনিটেই বুঝে যাবেন:

মোবাইল দিয়ে সনদ ডাউনলোড করা যায় কি?

যায়। কম্পিউটার না থাকলেও ফোনের ব্রাউজার থেকেই সনদের কপি বের করা সম্ভব। পুরো প্রক্রিয়া আছে মোবাইল দিয়ে জন্ম নিবন্ধন ডাউনলোড করার নিয়ম গাইডে।

বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার সনদ কোথায় পাবেন?

দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা কাজে ইংরেজি বার্থ সার্টিফিকেট লাগে, যেমন ভিসা বা বিদেশি স্কুলে ভর্তির সময়। দুই ভাষার কপি বের করার ধাপ জানতে দেখুন বাংলা ও ইংরেজি জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে বের করার পদ্ধতি।

পুরনো হাতে লেখা সনদ ডিজিটাল করবেন কীভাবে?

ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর আগে করা সনদ অনেক সময় হাতে লেখা। এই সনদ দিয়ে এখন পাসপোর্ট বা এনআইডির আবেদন করলে প্রায়ই আপত্তি ওঠে।

পুরনো ১৩ বা ১৬ সংখ্যার নম্বর এখন আর চলে না, ১৭ সংখ্যার নম্বর লাগে। সমাধান হলো সনদটি ডিজিটাল ডাটাবেজে তোলা। কোন কাগজ লাগে, কোন অফিসে যেতে হয়, সেসব আছে হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন ডিজিটাল করার নিয়ম লেখায়।

জন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকলে কীভাবে ঠিক করবেন?

নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম বা ঠিকানায় ভুল থাকলে সংশোধনের আবেদন করতে হয়। সরকারি পোর্টালে এর জন্য আলাদা সংশোধন অপশন আছে।

সংশোধনের কাজটা আসলে নতুন আবেদনের চেয়ে কঠিন, কারণ এখানে প্রমাণ দেখাতে হয় যে বর্তমান তথ্য ভুল। কোন ধরনের ভুলে কোন কাগজ লাগে, সেটা ধাপে ধাপে লিখেছি জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের নিয়ম পোস্টে। আবেদন করার আগে এটা একবার পড়ে নিন।

প্রবাসীদের জন্ম নিবন্ধন কীভাবে হয়?

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিরা দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের নির্দেশনায় বলা আছে, অনলাইন ফর্মের প্রিন্ট কপি, মূল পাসপোর্টসহ ফটোকপি ও সাম্প্রতিক ছবি লাগে। ফর্ম পূরণের সময় বিদেশের ঠিকানা নয়, বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা দিতে হয়।

দেশভেদে প্রয়োজনীয় কাগজ ও ফি কিছুটা আলাদা হতে পারে। সব ধাপ একসাথে জানতে পড়ুন প্রবাসীদের জন্ম নিবন্ধন করার নিয়ম ও দূতাবাসের ভূমিকা।

মৃত্যু নিবন্ধন কীভাবে করবেন?

মৃত্যু নিবন্ধনও অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে স্থানীয় নিবন্ধকের কাছে কাগজ জমা দিয়ে করতে হয়। সাধারণত মৃত ব্যক্তির পরিচয়ের কাগজ (জন্ম নিবন্ধন বা এনআইডি), আবেদনকারীর পরিচয়, ঠিকানার প্রমাণ এবং হাসপাতালের সনদ থাকলে সেটি লাগে।

আরও পড়ুন  জন্ম নিবন্ধন আবেদনের অবস্থা যেভাবে সহজে চেক করবেন

শোকের সময় কাগজপত্র গোছানো সবচেয়ে কঠিন কাজ। তাই পুরো প্রক্রিয়া সহজ করে লিখেছি অনলাইনে মৃত্যু নিবন্ধন আবেদনের নিয়ম গাইডে।

মৃত্যু সনদে নাম বা তারিখে ভুল থাকলেও সংশোধন সম্ভব। সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারের কাজে এই সনদ লাগে বলে ভুল ফেলে রাখা ঠিক না। বিস্তারিত দেখুন মৃত্যু নিবন্ধন সংশোধনের নিয়ম লেখায়।

ফি কত লাগে? এক নজরে তুলনা

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের ফি বয়স ও সেবার ধরন অনুযায়ী আলাদা হয়। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪৫ দিনের পর পাঁচ বছর পর্যন্ত নিবন্ধনে ২৫ টাকা, পাঁচ বছরের বেশি হলে ৫০ টাকা, আর জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন ফি ১০০ টাকা।

সেবাদেশে ফিবিদেশে ফি
জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধনবিনা মূল্যেবিনা মূল্যে
৪৬ দিন থেকে ৫ বছর২৫ টাকা১ ডলার
৫ বছরের বেশি বয়স৫০ টাকা১ ডলার
জন্মতারিখ সংশোধন১০০ টাকা২ ডলার

ফি সরকার বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে স্থানীয় অফিস বা BDRIS পোর্টালে মিলিয়ে নিন। সব সেবার ফির পূর্ণ তালিকা ও নিবন্ধন অফিসে খরচের হিসাব রেখেছি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সরকারি ফি লেখায়।

একটা সাবধানতা: সরকারি ফি খুব কম। কেউ এর চেয়ে বেশি চাইলে রসিদ চান। রসিদে লেখা পরিমাণই আপনার প্রমাণ।

সার্ভার ও পেমেন্টের ঝামেলায় কী করবেন?

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন গাইড: বাড়িতে বসে ল্যাপটপে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া দেখছেন বাংলাদেশের এক তরুণ।
অনলাইনে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন করতে গিয়ে কী ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন এবং কীভাবে সমাধান করবেন, তা জানুন।

মাঝে মাঝে BDRIS সার্ভার ধীর হয়ে যায় বা অনলাইন পেমেন্ট বন্ধ থাকে। প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একসময় সার্ভারের ধারণক্ষমতা কম থাকায় ই-পেমেন্ট কিছুদিন বন্ধ ছিল এবং আবেদনকারীদের স্থানীয় অফিসে গিয়ে সরাসরি ফি জমা দিতে হয়েছিল। পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অনলাইন ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে।

সার্ভারে সমস্যা হলে যা করতে পারেন:

  1. সকাল ছয়টা থেকে আটটার মধ্যে বা গভীর রাতে চেষ্টা করুন, তখন চাপ কম থাকে।
  2. ফর্ম পূরণের মাঝপথে পেজ রিফ্রেশ করবেন না, তথ্য মুছে যেতে পারে।
  3. পেমেন্ট ব্যর্থ হলে স্ক্রিনশট রাখুন, তারপর নিবন্ধন অফিসে সরাসরি জানান।
  4. ফি অফিসে সরাসরি জমা দিলে অবশ্যই রসিদ নিন।

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন নিয়ে আপনাদের প্রশ্ন ও আমাদের উত্তর

জন্ম নিবন্ধন করতে কত দিন সময় পাওয়া যায়?

জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন করলে কোনো ফি লাগে না। এরপর দেরি করলে বয়স অনুযায়ী ফি দিতে হয়: পাঁচ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা, তার বেশি হলে ৫০ টাকা। তাই সন্তান হওয়ার পর প্রথম দেড় মাসের মধ্যেই কাজটা সেরে ফেলা সবচেয়ে সুবিধার।

জন্ম নিবন্ধন নম্বর কত সংখ্যার?

জন্ম নিবন্ধন নম্বর ১৭ সংখ্যার, এবং এর প্রথম চারটি অঙ্ক হলো জন্মসাল। পুরনো সনদে ১৩ বা ১৬ সংখ্যার নম্বর থাকতে পারে, কিন্তু অনলাইন যাচাই বা সরকারি কাজে এখন ১৭ সংখ্যার নম্বরই লাগে। পুরনো নম্বর থাকলে নতুন নম্বর নিতে স্থানীয় নিবন্ধন অফিসে যোগাযোগ করুন।

অনলাইনে আবেদন করলেই কি সনদ হয়ে যায়?

না। অনলাইনে শুধু ফর্ম পূরণ ও জমা হয়। ফর্মের প্রিন্ট কপি, কাগজপত্র আর ফি নিয়ে আপনাকে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের নিবন্ধন অফিসে যেতে হবে। অফিস কাগজ যাচাই করে অনুমোদন দিলে তবেই সনদ তৈরি হয়।

সনদের তথ্যে ভুল থাকলে কী করব?

সংশোধনের আবেদন করতে হবে, আর সেটার জন্য প্রমাণ হিসেবে সঠিক তথ্যের কাগজ লাগবে। নামের ভুলে স্কুল বা পাসপোর্টের কাগজ, জন্মতারিখের ভুলে সাধারণত অতিরিক্ত প্রমাণ ও ১০০ টাকা ফি লাগে। কোন ভুলে কী কাগজ লাগে তা সংশোধনের নিয়মের গাইডে দেখে নিন।

বিদেশে বসে কি জন্ম নিবন্ধন করা যায়?

যায়। বাংলাদেশের নিকটতম দূতাবাস বা হাইকমিশনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। অনলাইন ফর্মে বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা দিতে হয়, আর মূল পাসপোর্ট ও ছবি সাথে লাগে। ফি ডলারে দিতে হয়, যা দেশভেদে কিছুটা আলাদা হতে পারে।

জন্ম নিবন্ধন সনদ আসল কি না কীভাবে যাচাই করব?

সরকারি যাচাই পোর্টালে ১৭ সংখ্যার নম্বর, জন্মতারিখ ও ক্যাপচা দিলে সনদের তথ্য স্ক্রিনে আসে। সেই তথ্যের সাথে হাতে থাকা সনদ মিলিয়ে দেখুন। কোনো অমিল পেলে সনদটি সন্দেহজনক ধরে নিন এবং নিবন্ধন অফিসে জানান।

মৃত্যু নিবন্ধন কি আলাদা করে করতে হয়?

হ্যাঁ। মৃত্যুর পর পরিবারের কাউকে আলাদা আবেদন করতে হয়, যার জন্য মৃত্যু সনদ দেওয়া হয়। এই সনদ ছাড়া সম্পত্তির হস্তান্তর, ব্যাংকের হিসাব বা বীমার দাবিতে সমস্যা হতে পারে। তাই শোক সামলে উঠে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজটা করে ফেলুন।

আবেদন বাতিল হলে আবার আবেদন করা যায়?

যায়। আগে বাতিলের কারণ জানুন, তারপর ভুল ঠিক করে নতুন করে আবেদন করুন। সাধারণ কারণগুলো হলো নামের অমিল, অস্পষ্ট কাগজ বা ঠিকানার ভুল। কারণ না বুঝে একই ভুল নিয়ে আবার আবেদন করলে একই ফল আসবে।

আবেদনের স্ট্যাটাস কীভাবে দেখব?

BDRIS পোর্টালে আবেদনের ধরন, আবেদন আইডি ও জন্মতারিখ দিয়ে বর্তমান অবস্থা দেখা যায়। আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া আইডিটা কোথাও লিখে বা ছবি তুলে রাখুন, কারণ এটা হারালে খুঁজে পাওয়া ঝামেলার।

শেষ কথা: সঠিক ক্রমে কাজ করুন, ঝামেলা কমবে

নিবন্ধনের কাজ বারবার আটকে যায় প্রধানত তিন কারণে: ভুল তথ্য দিয়ে ফর্ম পূরণ, অসম্পূর্ণ কাগজ আর ভুল অফিসে যাওয়া। এই তিনটা সামলে নিলে বেশিরভাগ ঝামেলা এড়ানো যায়।

নিজের সমস্যার গাইডটা বেছে নিন, চেকলিস্ট মিলিয়ে কাগজ গুছিয়ে নিন, আর ফর্মে নাম লিখুন পূর্ণ বানানে। এই পোস্টটি বুকমার্ক করে রাখুন, কারণ পরিবারে কখনো না কখনো কারো এই কাজ লাগবেই।

📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

Juger Alo

তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী Juger Alo টিম। পাঠকদের কাছে দ্রুত সঠিক খবর, চাকরি ও ক্যারিয়ারের আপডেট এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now