ফেসবুক রিচ বন্ধ হচ্ছে ৩১ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার থেকে। কনটেন্টের পারফরম্যান্স মাপার পরিচিত এই মেট্রিকের জায়গায় আসছে ‘ভিউয়ারস’। পেজ চালান, বিজ্ঞাপন দেন বা কনটেন্ট বানান, তাদের মাসিক রিপোর্ট আর হিসাবের ধরন বদলাতে পারে।
এক নজরে:
- ছবি, ভিডিও ও রিলসসহ সব কনটেন্টে ‘ভিউয়ারস’ ব্যবহার হবে।
- পুরোনো ‘রিচ’ আর নতুন ‘ভিউয়ারস’-এর গণনা এক নয়।
- আগের রিপোর্ট সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মেটা বিজনেস স্যুইটের পোস্ট ও রিলস ব্যবস্থাপনা বিভাগে এই বিজ্ঞপ্তি ২০ অক্টোবর দেখা গেছে বলে জানিয়েছে ডিজিটাল বিপণনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কেশন ল্যাব। আরটিভি অনলাইন, এখন টিভি, দৈনিক ইত্তেফাক ও সিটিজেনস ভয়েসসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে একই তথ্য এসেছে।
‘রিচ’ আর ‘ভিউয়ারস’ কীভাবে আলাদা
এত দিন ‘রিচ’ দেখে বোঝা যেত, নির্দিষ্ট সময়ে কতটি স্বতন্ত্র অ্যাকাউন্টের কাছে একটি পোস্ট পৌঁছেছে। নতুন ‘ভিউয়ারস’-এও আলাদা অ্যাকাউন্টের সংখ্যাই দেখানো হবে, তবে ভিত্তি হবে কনটেন্ট দেখার হিসাব।
আরেকটি শব্দ গুলিয়ে ফেলা সহজ। ‘ভিউজ’ বলতে বোঝায় মোট কতবার কনটেন্ট দেখা হয়েছে, এতে একই অ্যাকাউন্টের একাধিকবার দেখাও গোনা হতে পারে। উদাহরণে ধরা যাক, ১০০টি অ্যাকাউন্ট একটি রিলস মোট ৩৫০ বার দেখল। তখন ভিউয়ারস হতে পারে ১০০, আর ভিউজ ৩৫০। এটি ধারণা বোঝানোর উদাহরণ, বাস্তব হিসাব কনটেন্টের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
নতুন মেট্রিকে সংখ্যা কম বা বেশি দেখালেই কনটেন্টের কার্যকারিতা সেই অনুপাতে বদলেছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। দুই মেট্রিকের গণনাপদ্ধতি এক নয়, আর ঠিক কী কী পার্থক্য থাকবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
কাদের হিসাবে প্রভাব পড়বে
সবচেয়ে বেশি নাড়া খাবে যারা প্রতি মাসে ফেসবুক পেজের রিপোর্ট বানান। সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতা ও ডিজিটাল মার্কেটাররা এত দিন ‘রিচ’ ধরে পোস্টের কার্যকারিতা আর দর্শকের কাছে পৌঁছানোর পরিধি মাপতেন।
বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও একটি সূত্রে বলা হয়েছে, বুস্ট বা প্রচারণার ফল বিচারে এখন থেকে ‘ভিউয়ারস’-এর ওপর নির্ভর করতে হবে। যারা তৃতীয় পক্ষের অ্যানালিটিক্স টুল ব্যবহার করেন, তাদের ওই টুল কীভাবে তথ্য টানছে তাও যাচাই করে নেওয়া দরকার। ফেসবুকে আয়ের (মনিটাইজেশন) ওপর এই পরিবর্তনের কোনো প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি।
ফেসবুক পেজের পুরোনো রিপোর্ট কীভাবে সেভ করবেন
৩১ অক্টোবরের আগে ‘রিচ’ ভিত্তিক রিপোর্ট নামিয়ে রাখাই সবচেয়ে সহজ প্রস্তুতি। মেটা বিজনেস স্যুইটে পেজ সিলেক্ট করে ‘ইনসাইটস’ (Insights) অংশে গেলে সাধারণত রিপোর্ট এক্সপোর্ট বা ডাউনলোডের অপশন থাকে। সময়সীমা বেছে নিয়ে ফাইলটি এক্সেল বা সিএসভি আকারে সেভ করা যায়।
মেনুর নাম বা অবস্থান অ্যাকাউন্টভেদে আলাদা হতে পারে, তাই নিজের পেজে একবার দেখে নিন। ফাইলের নামে তারিখ ও মেট্রিকের নাম রাখলে পরে গোলমাল হয় না।
এর পাশে আরও দুটি কাজ করে রাখা ভালো: কোন তারিখ থেকে নতুন ‘ভিউয়ারস’ হিসাব ব্যবহার করছেন তা লিখে রাখুন, আর ভবিষ্যতের রিপোর্টে মেট্রিকের সংজ্ঞা আলাদা করে উল্লেখ করুন। এতে পুরোনো আর নতুন সংখ্যা এক টেবিলে বসিয়ে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি কমে।
ফেসবুকের সব রিচ মেট্রিক কি একসঙ্গে বন্ধ হচ্ছে
এখনই তা বলা যাচ্ছে না। সিটিজেনস ভয়েসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকেই কিছু পুরোনো রিচ ও ইমপ্রেশন তথ্যে এপিআই পর্যায়ে পরিবর্তন কার্যকর আছে বলে তৃতীয় পক্ষের বিশ্লেষণ সেবাগুলো জানিয়েছে। ৩১ অক্টোবরের বিজ্ঞপ্তি মেটা বিজনেস স্যুইটের কনটেন্ট ব্যবস্থাপনা বিভাগে দেখা নির্দিষ্ট পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত।
তাই ওই দিন বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার সব সূচকসহ ফেসবুকের প্রতিটি রিচ মেট্রিক একসঙ্গে উধাও হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তের যথেষ্ট ভিত্তি নেই। এ নিয়ে সূত্রগুলোর বর্ণনা পুরোপুরি এক নয়, আপনার নিজের পেজের ড্যাশবোর্ডে কী দেখাচ্ছে সেটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
নতুন মেট্রিকের হিসাবপদ্ধতি নিয়ে মেটার বিস্তারিত ব্যাখ্যা এলে এই লেখায় যোগ করা হবে।










