গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে বসতঘর বিলীন, শতাধিক কৃষকের আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত

সেপ্টেম্বর 19, 2026 12:52 অপরাহ্ন
গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ভাঙনে বসতঘর বিলীন, ক্ষতিগ্রস্ত আমন ধান

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙনে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) একটি বসতঘর নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে চল্লিশ সাল জয়রামওঝা এলাকার কয়েকটি পরিবার ঘর ও আসবাবপত্র সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শতাধিক কৃষকের আমন ধানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এক নজরে

  • কোথায়: লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চল্লিশ সাল জয়রামওঝা এলাকা, গঙ্গাচড়া, রংপুর
  • কী ঘটেছে: ১৫ সেপ্টেম্বর একটি ঘর নদীতে চলে গেছে, আরও কয়েকটি বাড়ি ঝুঁকিতে
  • ক্ষতি: স্থানীয়দের দাবিতে শতাধিক কৃষকের আমন ধান ক্ষতিগ্রস্ত
  • প্রশাসন: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

চল্লিশ সাল চরে ভাঙন শুরু হলো যেভাবে

স্থানীয় বাসিন্দা ও সরেজমিন সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চল্লিশ সাল জয়রামওঝা এলাকায় তিস্তার ভাঙন দেখা দিয়েছে। মতিয়ার রহমানের একটি ঘর ইতিমধ্যে নদীতে তলিয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  আজ রংপুরের পথে ১১ দলের লংমার্চ: আট দফায় নতুন কী যুক্ত হলো?

১৫ সেপ্টেম্বরের আগের সপ্তাহ থেকে তিস্তার পানি চল্লিশ সাল চরের ওপর দিয়ে বইতে শুরু করে। স্রোতের কারণে চরের মাটিতে ভাঙন দেখা দেয়, যা এখন মতিয়ার রহমানের বাড়ির সামনের রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছেছে।

ঘর সরাতে ব্যস্ত পরিবারগুলো

মঙ্গলবার এলাকায় দেখা যায়, বসতঘর থেকে একে একে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কেউ ঘরের চাল খুলছেন, কেউ আসবাব নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। কেউ আবার নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ভাঙনের গতি দেখছেন।

মতিয়ার রহমান জানান, মঙ্গলবারই তাঁর একটি ঘর ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এরপর তিনি বাকি ঘরগুলো দ্রুত সরিয়ে নেন। জহরা, আহাদ আলী পচা ও গোলাপীও নিজেদের বাড়িঘর ও আসবাবপত্র অন্যত্র সরিয়েছেন।

নুর ইসলাম, গোলজার, আব্দুল, মনিরুল ও বাবু বলেন, ভাঙন কখন বাড়ির কাছে চলে আসে, সেই ভয়ে তাঁরাও আগেভাগে ঘর সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরও পড়ুন  রংপুরে সাংবাদিক উৎস হত্যা মামলার রায়: একজনের ফাঁসি, দুজনের যাবজ্জীবন

আমনের চারা ভালো হয়েছিল, এখন ভাঙনের মুখে

স্থানীয়রা জানান, বর্ষার ধকল কাটার পর জেগে ওঠা চরের জমিতে এবার আমনের চারা বেশ ভালো হয়েছিল। ভাঙনে শতাধিক কৃষকের ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

আবু তালেব ও মোন্নাফ জানান, তাঁদের প্রত্যেকের পাঁচ দোন (বিঘা) করে জমির ধান নষ্ট হয়েছে। নজু, আব্দুল মালেক ও এনামুলও নিজেদের আমন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এই ইউনিয়নে ভাঙন নতুন নয়

চলতি বছরের জুনেও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নে তিস্তার সেতু রক্ষা বাঁধে ধস নামে, তখন রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়কের পাশাপাশি ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ১ হাজার ২০০ পরিবার হুমকির মুখে পড়ে বলে যুগান্তরের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল।

ভাঙন ঠেকাতে কী বলছেন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন

লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। তাঁর মতে, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ (বালুর বস্তা) ফেলা ও পাইলিংয়ের কাজ শুরু করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রপতির শূন্য আসনে বিএনপির তিন প্রার্থী, জামায়াতের দেলাওয়ার আগেই মাঠে

স্থানীয়দের আশঙ্কা, ভাঙন এগিয়ে এলে আরও আমন ধান নষ্ট হবে এবং কয়েকটি বাড়ি সরাসরি ঝুঁকিতে পড়বে। তাঁরা দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: ডেইলি বয়ান অরালো, দৈনিক ইনকিলাব, যুগান্তর

Juger Alo

তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী Juger Alo টিম। পাঠকদের কাছে দ্রুত সঠিক খবর, চাকরি ও ক্যারিয়ারের আপডেট এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now