গাজীপুরে সিফাত আবদুল্লাহর ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তদন্তে দেখা গেছে, তাঁর দাবি করা প্রায় ১০ হাজার টাকা বিল আসলে একটি নয়, তিনটি আলাদা মিটারের সম্মিলিত হিসাব। ঘটনাটি গাজীপুর মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের, আর তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে।
সংক্ষেপে যা জানা গেছে:
- সিফাতের দোতলা বাড়িতে তিনটি আবাসিক বিদ্যুৎ মিটারের সংযোগ আছে — একটিতে তাঁর পরিবার, বাকি দুটিতে ভাড়াটে দুই পরিবার থাকে।
- জুলাই-আগস্ট মিলিয়ে তিন মিটারে মোট বিল এসেছে ১০ হাজার ৬৮১ টাকা।
- বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে সিফাতকে আটক করা হয়, পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়।
ভিডিওতে যা দাবি করেছিলেন সিফাত
নিজের বাসায় অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেছিলেন সিফাত আবদুল্লাহ (২০), যেখানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেন তিনি। দুই মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার দাবি করলেও কতটি মিটারের বিপরীতে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি সিফাত।
সিফাত রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থী এবং ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সিকান্দার আলীর ছেলে।
আরো খবর:
- প্রতি ১০০ টাকার ৩৩ টাকাই খেলাপি: বিশ্বে সর্বোচ্চ ঋণখেলাপির দেশ এখন বাংলাদেশ
- বাংলাদেশে ঋণ খেলাপির শাস্তি হয় না কেন, খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা
পল্লী বিদ্যুতের তদন্তে যা মিলল
দোতলা এই বাড়িতে সিফাতের পরিবার থাকে দ্বিতীয় তলায়, নিচতলায় ভাড়া থাকে আরও দুটি পরিবার। তদন্তে তিনটি মিটারের ব্যবহারের চিত্র আলাদাভাবে উঠে এসেছে:
| মিটার | মে | জুন | জুলাই | আগস্ট | ৪ মাসের মোট |
|---|---|---|---|---|---|
| মিটার ১ | ৩১৭ টাকা (৪৫ ইউনিট) | ৩৪২ টাকা (৫০ ইউনিট) | ১,১৮২ টাকা (১৫০ ইউনিট) | ৫১৩ টাকা (৭৫ ইউনিট) | ২,৩৫৪ টাকা |
| মিটার ২ | ১,৮১২ টাকা (২৫০ ইউনিট) | ১,৫৮৪ টাকা (২০০ ইউনিট) | ৩,৫৯৪ টাকা (৪০০ ইউনিট) | ২,৩৯৭ টাকা (২৮৫ ইউনিট) | ৯,৩৮৭ টাকা |
| মিটার ৩ | ৮৪৭ টাকা (১২৫ ইউনিট) | ৬৯০ টাকা (১২০ ইউনিট) | ১,৬৩৩ টাকা (২০৫ ইউনিট) | ১,৩৬২ টাকা (১৭৫ ইউনিট) | ৪,৫৩২ টাকা |
| মোট (৩ মিটার) | ২,৯৭৬ টাকা | ২,৬১৬ টাকা | ৬,৪০৯ টাকা | ৪,২৭২ টাকা | ১৬,২৭৩ টাকা |
চার মাসে (মে-আগস্ট) তিন মিটার মিলিয়ে মোট ২ হাজার ৮০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে, বিপরীতে বিল ১৬ হাজার ২৭৩ টাকা। সিফাতের উল্লেখ করা জুলাই-আগস্টের হিসাবে তিন মিটার মিলিয়ে বিল দাঁড়ায় ১০ হাজার ৬৮১ টাকা — যা তাঁর দাবি করা অঙ্কের কাছাকাছি, তবে একটি মিটারের নয়।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর বোর্ডবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক আহসান কবীর জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তাঁরা মিটার রিডিং ও বিলের তথ্য যাচাই করতে এবং ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের তালিকা নিতে সিফাতের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তবে পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা না করে ফটক বন্ধ করে দেন বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, একাধিক মিটার থাকা বাড়িতে প্রতিটি মিটারের হিসাব আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি, শুধু একটি মিটারের বিল দেখে পুরো বাড়ির খরচ নির্ধারণ করা যায় না।
অন্যদিকে সিফাতের আইনজীবী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক আলী নাছের খানের দাবি, সিফাত দুই মাসের হিসাব দেখালেও পল্লী বিদ্যুৎ চার মাসের হিসাব দিয়ে গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ থাকলে করণীয়
একাধিক মিটারযুক্ত বাড়িতে বিল নিয়ে সংশয় থাকলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন করে মিটার রিডিং যাচাইয়ের অনুরোধ জানানো যায়। তদন্তকারী দল বাড়িতে গেলে সহযোগিতা করাটাও জরুরি, নইলে প্রকৃত অসংগতি থাকলেও তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
এরপর কী
সিফাত বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটি এখনো চলমান। এই ঘটনার প্রতিবাদে থানায় অবস্থান নিয়েছিলেন এনসিপির নেতা-কর্মীরাও। বিষয়টি নিয়ে নতুন কোনো তথ্য বা অগ্রগতি এলে তা যুক্ত করা হবে।
সোর্স- প্রথম আলো
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!









