ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভূল্লী উপজেলা) আসনের উপনির্বাচনে ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোট হবে। জানা যায় মূল লড়াই বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যে।
এক নজরে
- ভোট: ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা
- প্রার্থী: ৫ জন
- মোট ভোটার: ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন
- ভোটকেন্দ্র: ১৮৫টি, ভোটকক্ষ ৯৮৯টি
আসনটি শূন্য হলো কেন?
চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জয়ী হন তখনকার বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ওই ভোটে জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন প্রায় ৯৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন।
পরে মির্জা ফখরুল দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর নির্বাচন কমিশন (ইসি) আসনটি শূন্য ঘোষণা করে।
কে কোন প্রতীকে লড়ছেন
জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী প্রার্থী পাঁচজন:
| প্রার্থীর নাম | দল | প্রতীক |
|---|---|---|
| মির্জা ফয়সল আমীন | বিএনপি | ধানের শীষ |
| দেলাওয়ার হোসেন | জামায়াতে ইসলামী (১১ দলীয় জোট-সমর্থিত) | দাঁড়িপাল্লা |
| ডা. খাদেমুল ইসলাম | ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ | হাতপাখা |
| মো. আবদুল আলীম নিজামী | বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন | বটগাছ |
| হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক | বাংলাদেশ কংগ্রেস | ডাব |
মির্জা ফয়সল আমীন: রাজনীতিতে মির্জা পরিবারের ধারাবাহিকতা
মির্জা ফয়সল আমীন জেলা বিএনপির সভাপতি। আগে তিনি জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও সামলেছেন।
তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র। আওয়ামী লীগের শাসনামলে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি এই পদে নির্বাচিত হন।
বাবা মির্জা রুহুল আমিন ঠাকুরগাঁও পৌরসভায় ১৭ বছর মেয়র ছিলেন। একাধিকবার তিনি সংসদ সদস্য হয়েছেন এবং এরশাদের আমলে মন্ত্রীও ছিলেন। মির্জা ফখরুল সরকারি চাকরি ছেড়ে ১৯৮৮ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়ে সক্রিয় রাজনীতিতে আসেন। ফয়সল আমীনও সেই পথেই সংসদে যেতে চান।
প্রচারে তিনি বড় ভাইয়ের সময়ের কয়েকটি উদ্যোগের কথা বলছেন: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, হাসপাতাল সম্প্রসারণ, বন্ধ বিমানবন্দর চালু এবং ইপিজেড স্থাপনের পরিকল্পনা। এসব তুলে ধরে তিনি ধানের শীষে ভোট চাইছেন।
দেলাওয়ার হোসেন: শিবিরের সাবেক সভাপতি থেকে জামায়াতের প্রার্থী
ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান দেলাওয়ার হোসেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। কেন্দ্রীয় সভাপতি হওয়ার আগে তিনি শিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন।
আন্দোলনের সময় তিনি আটক হন এবং পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। রাজনৈতিক মামলায় পাঁচ বছরের বেশি সময় কারাগারেও ছিলেন তিনি। এ কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি “জীবন্ত শহীদ” নামে পরিচিত।
তাঁর ছোটভাই আলমগীর হোসেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। নির্বাচিত হলে উন্নয়ন ও সুশাসনের জন্য কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন দেলাওয়ার। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
জয়-পরাজয়ের চাবি কি হিন্দু ভোটারদের হাতে?
আসনে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি হিন্দু ভোটার আছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সম্প্রদায়ের ভোটই জয়-পরাজয়ের নিয়ামক হতে পারে।
সদরের ধন্দগাঁও ও পূর্ব বেগুনবাড়ি বিডি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার মতো হিন্দু-অধ্যুষিত কেন্দ্রে আগের নির্বাচনে বিএনপির উল্লেখযোগ্য ভোট ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা আছে। এবার সেই সমর্থন ধরে রাখতে চাইছে দলটি।
জামায়াতও এসব এলাকায় প্রচার চালিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করেছে। দুই প্রার্থীই হিন্দুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
ভোটের আগের রাতে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ভোট পরিচালনায় প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা মিলিয়ে থাকবেন ৩ হাজার ১৫২ জন। ২৮ অক্টোবর, বুধবার রাতে মির্জা ফয়সল আমীন ও দেলাওয়ার হোসেন আলাদা সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ করেন।
শহরের চায়ের দোকান থেকে পাড়া-মহল্লা, সবখানেই এখন ভোটের সম্ভাব্য ফল নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনা থেকেই দুই প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
এখন দেখার বিষয়, ২৯ অক্টোবরের ভোটে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের মানুষ কার হাতে সংসদে যাওয়ার দায়িত্ব তুলে দেন।










