পরীক্ষার খাতায় মোবাইল নম্বর দেখেই ফোন, বাসায় ডেকে নিলেন শিক্ষক, অতঃপর…

সেপ্টেম্বর 18, 2026 9:18 পূর্বাহ্ন
পরীক্ষার খাতায় মোবাইল নম্বর দেখে শিক্ষকের ফোন ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগের প্রতীকী দৃশ্য

রাজশাহীতে এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্রে মোবাইল নম্বর দেখে এক শিক্ষার্থীকে বাসায় ডেকে নিয়ে টাকার বিনিময়ে নতুন করে উত্তর লিখতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক সেকেন্দার আলীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে গত ১৪ আগস্ট সকালে, রাজশাহীর বিনোদপুর এলাকায় ওই পরীক্ষকের বাসভবনে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ নম্বর পাওয়া এক শিক্ষার্থীর খাতায় নতুন করে লিখিয়ে নম্বর বাড়ানো হয় ৫০-এর বেশি পর্যন্ত।

সংক্ষেপে জেনে নিন

  • ঘটনা: এইচএসসি খাতায় মোবাইল নম্বর দেখে শিক্ষার্থীকে বাসায় ডাকেন পরীক্ষক
  • স্থান-সময়: রাজশাহী, ১৪ আগস্ট ২০২৬ সকাল
  • অভিযোগ: ২ হাজার টাকার বিনিময়ে খাতায় নতুন উত্তর লিখিয়ে নেওয়া
  • সংশ্লিষ্ট: প্রভাষক সেকেন্দার আলী ও শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান

যেভাবে ঘটনার শুরু

ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে নিজের মোবাইল নম্বর লিখে রেখেছিল এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। খাতা মূল্যায়নের সময় পরীক্ষক সেকেন্দার আলীর চোখে পড়ে সেই নম্বরটি। এরপর ১৪ আগস্ট সকালে তিনি ফোন করে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নেন।

আরও পড়ুন  অসুস্থতায় পরীক্ষা মিস করলেও গুনতে হবে জরিমানা, ক্ষুব্ধ বেরোবি শিক্ষার্থীরা

ডাকা শিক্ষার্থীর নাম মেহেদী হাসান, যিনি রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বেলপুকুর এলাকার আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র। তার খাতায় তখন পর্যন্ত নম্বর ছিল ২৫। পরে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে খাতায় নতুন করে লেখার সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ, যার ফলে নম্বর গিয়ে দাঁড়ায় ৫০-এর বেশিতে। পুরো ঘটনার সত্যতা নিজেই স্বীকার করেছে মেহেদী।

ফোনালাপে যা উঠে এসেছে

মেহেদীর সঙ্গে পরীক্ষকের একটি মোবাইল কথোপকথন গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। সেখানে সেকেন্দার আলী টাকার বিনিময়ে ডেকে নেওয়ার পাশাপাশি বিষয়টি অভিভাবকদের না জানাতে নিষেধ করেন। জবাবে মেহেদী জানায়, টাকা নিতে হলে অভিভাবককে জানাতে হবেই।

কথোপকথনে পরীক্ষক নিজেকে সমর্থনের চেষ্টায় ভিক্ষুকের কাছেও টাকা থাকার প্রসঙ্গ টানেন, যার জবাবে মেহেদী বলে যে তারা বেকার, ভিক্ষুক নয়। এরপরও পরীক্ষক থেমে থাকেননি — বরং আরও পরীক্ষার্থী নিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি।

একসঙ্গে ছয়জন, পরে মিলল কেবল একটি খাতা

১৪ আগস্ট সকালেই মেহেদীসহ ছয় শিক্ষার্থী — ইমন আলী, সৌরভ, রুহুল, সোহাগ ও সামি — রাজশাহীর বিনোদপুর বাজারে যায়। কিছুক্ষণ পর মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন পরীক্ষক, এরপর তাদের নিয়ে যান নিজের বাড়িতে।

আরও পড়ুন  একাদশে ভর্তির ফল আজ রাত ৮টায়, ৯ লাখ ৯৫ হাজার আবেদনকারীর অপেক্ষার অবসান

বাড়িতে গিয়ে মেহেদীর মোবাইল নম্বর লেখা খাতাটি সহজেই খুঁজে বের করা হয়, তবে রুহুলের খাতা পাওয়া যায়নি। বাজারে অপেক্ষমাণ বাকি সহপাঠীদের খাতাও পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। খাতায় লেখা শেষে পরীক্ষক নিজেই তাদের আবার বিনোদপুরে নামিয়ে দিয়ে যান।

মেহেদীর ভাষ্যে, প্রায় ১০ মিনিটের মোটরসাইকেল যাত্রায় তারা পরীক্ষকের বাড়িতে পৌঁছায়, তবে জায়গাটা চিনত না তারা। পরীক্ষক নিজের পরিচয়ও প্রকাশ করেননি এবং মেহেদীর ফোন থেকে নিজের নম্বরটি মুছে দেন।

মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে শনাক্ত হন পরীক্ষক

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া একটি ছবিতে দেখা যায় পরীক্ষকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট — রাজশাহী-হ ১৫-২৪০৫। বিআরটিএ সূত্রে জানা যায়, গাড়িটি মূলত সুজন কুমার বিশ্বাসের নামে নিবন্ধিত ছিল, যিনি জানান তিনি অনেক আগেই সেটি বিক্রি করে দিয়েছেন। এরপর গাড়িটি তিন হাত বদল হয়ে বর্তমানে রফিকুল ইসলাম সেন্টুর দখলে, যিনি ওই প্রভাষকের আত্মীয় এবং চারঘাট উপজেলার কাকালকাটি গ্রামের বাসিন্দা।

আরও পড়ুন  একাদশে ভর্তির ফল আজ রাত ৮টায়, ৯ লাখ ৯৫ হাজার আবেদনকারীর অপেক্ষার অবসান

৫ সেপ্টেম্বর সেন্টুর বাড়ির সামনেই মোটরসাইকেলটি পাওয়া যায়, আর স্থানীয়দের কাছে ছবি দেখিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায় প্রভাষক সেকেন্দার আলীর পরিচয়। তার বাড়ি বেলঘরিয়া গ্রামে।

অভিযুক্তের অস্বীকার, কলেজ ও শিক্ষা বোর্ডের প্রতিক্রিয়া

গণমাধ্যম যখন ফোনকলের রেকর্ড ও ছবি নিয়ে সেকেন্দার আলীর মুখোমুখি হয়, তখন তিনি পুরো অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এনামুল হক মণ্ডল কথোপকথনের রেকর্ড শুনে সেকেন্দার আলীর পরিচয় নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই প্রভাষক এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন করে আসছেন, তবে এমন কাণ্ডের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। শিক্ষা বোর্ড থেকে নির্দেশনা এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. শামীম আরা চৌধুরী অভিযোগটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে বলেন, সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা শিক্ষা বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য জানা যায়নি। নতুন কোনো আপডেট এলে তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

আমার যুগের আলো-এর প্রতিবেদনটি আরটিভি অনলাইননিউজ২৪বিডি-এর প্রতিবেদন অনুসরণে তৈরি।

📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

Juger Alo

তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী Juger Alo টিম। পাঠকদের কাছে দ্রুত সঠিক খবর, চাকরি ও ক্যারিয়ারের আপডেট এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now