সরকারি চাকরিতে তদবির করলেই বিপদ! নতুন নির্দেশনায় কড়া হুঁশিয়ারি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের

সেপ্টেম্বর 21, 2026 7:26 পূর্বাহ্ন
সরকারি চাকরিতে তদবির ও অনৈতিক প্রভাব প্রতিরোধের প্রতীকী ছবি

সরকারি কর্মচারীদের চাকরি–সংক্রান্ত বিষয়ে বাইরের ব্যক্তি বা প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির করাকে “অসদাচরণ” ঘোষণা করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। ২০ সেপ্টেম্বর, রোববার এ–সংক্রান্ত একটি পত্র জারি করা হয়েছে, যেখানে দোষী কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছেও এই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

সংক্ষেপে জেনে নিন:

  • চাকরি–সংক্রান্ত বিষয়ে বহিরাগত/প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে তদবির = অসদাচরণ
  • জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, ঘটনা লেখা থাকবে কর্মচারীর ডোসিয়ারে
  • তবে সঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন করার সুযোগ বহাল আছে, নিষ্পত্তির সময়সীমা সর্বোচ্চ এক মাস

কী বলা হয়েছে পত্রে

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ শাখা থেকে সম্প্রতি এই পত্র জারি করা হয়। TBS-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এই পত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তদবির বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরো পড়ুন: দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি ২০২৬: কবে থেকে, কত দিন পাবেন

পত্রে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারীদের আচরণ ও দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত বিস্তারিত নিয়ম সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এ আগে থেকেই উল্লেখ আছে। সম্প্রতি লক্ষ করা যাচ্ছে, কিছু কর্মচারী চাকরি–সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তদবির করাতে বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  তিন মিটারের বিল এক করে ভুতুড়ে দাবি, তদন্তে বেরিয়ে এলো সিফাতের আসল হিসাব

কেন এটাকে “অসদাচরণ” বলা হচ্ছে

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের তদবির সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর বিধি ২০-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ২(খ) ধারা অনুযায়ী অসদাচরণের শামিল বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির করালে, তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি তদবিরের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে ওই কর্মচারীর ডোসিয়ারেও সংরক্ষণ করা হবে।

তাহলে অভিযোগ থাকলে কী করবেন কর্মচারীরা

তবে এই নির্দেশনার মানে এই নয় যে চাকরি–সংক্রান্ত সমস্যায় আবেদন করার পথ বন্ধ। পত্রে বলা আছে, কোনো কর্মচারী চাইলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা কর্তৃপক্ষের কাছে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। এমন আবেদন পাওয়ার পর নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে যৌক্তিকভাবে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।

আরো পড়ুন: সিগারেটের নতুন দাম ও ব্যান্ডরোল বিধিমালা জারি করল এনবিআর: সর্বনিম্ন প্যাকেট ৬৫ টাকা

নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে কাদের কাছে

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই নির্দেশনা কার্যকর করতে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ নিয়ন্ত্রণাধীন দপ্তর ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে। পত্রটি পাঠানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে।

আরও পড়ুন  মাত্র এসএসসি পাশে ৫৩৮ জনকে নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর

বিষয়টি নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে এ–সংক্রান্ত কোনো নতুন নির্দেশনা বা প্রয়োগ শুরু হলে তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

Juger Alo

তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী Juger Alo টিম। পাঠকদের কাছে দ্রুত সঠিক খবর, চাকরি ও ক্যারিয়ারের আপডেট এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now