শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০২৬ সালে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মূল সরকারি ছুটি থাকছে দুই দিন — ২০ অক্টোবর (মঙ্গলবার) মহানবমী ও ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির সুযোগও রাখা হয়েছে, যা মিলিয়ে টানা চার দিন ছুটি কাটানো সম্ভব হবে অনেকের জন্য।
এক নজরে:
- মূল সরকারি ছুটি: ২০ ও ২১ অক্টোবর (২ দিন)
- ঐচ্ছিক ছুটি: ১৮ ও ১৯ অক্টোবর (২ দিন, শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মীদের জন্য)
- সবগুলো মিলিয়ে সম্ভাব্য টানা ছুটি: ১৮ থেকে ২১ অক্টোবর, ৪ দিন
মূল সরকারি ছুটি কবে, কতদিন
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ছুটির তালিকায় মহানবমী উপলক্ষে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার নির্বাহী আদেশে ছুটি রাখা হয়েছে। এর পরদিন ২১ অক্টোবর বুধবার বিজয়া দশমী উপলক্ষে থাকবে সাধারণ ছুটি। এই দুই দিন মিলিয়ে দুর্গাপূজার মূল সরকারি ছুটি দাঁড়াচ্ছে মোট দুই দিন, যা সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী পাবেন।
ঐচ্ছিক ছুটিতে টানা চার দিনের সুযোগ
মূল ছুটির বাইরেও হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য দুর্গাপূজা উপলক্ষে আরও দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ১৮ অক্টোবর রোববার মহাসপ্তমী ও ১৯ অক্টোবর সোমবার মহাষ্টমী উপলক্ষে তারা এই ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
নির্ধারিত নিয়ম ও দাপ্তরিক অনুমোদন সাপেক্ষে এই ঐচ্ছিক ছুটি মূল ছুটির সঙ্গে যোগ হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ১৮ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত টানা চার দিন ছুটি কাটাতে পারবেন।
পূজার সম্পূর্ণ সূচি এক নজরে
এবারের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে ১০ অক্টোবর শনিবার মহালয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর ১৬ অক্টোবর শুক্রবার পালিত হবে মহাষষ্ঠী।
পরের দিনগুলোতে ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টোবর মহাষ্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমী উদযাপিত হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী মহালয়া ও মহাষষ্ঠী সরকারি ছুটির আওতায় নেই, যদিও পূজার মূল আচার-অনুষ্ঠান এই দুই দিন থেকেই শুরু হয়ে যায়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও ডিজিটাল সেবার অবস্থা
দুর্গাপূজা উপলক্ষে স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ছুটি থাকবে। তবে ছুটির প্রকৃত সময়সীমা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত শিক্ষাপঞ্জির ওপর। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আলাদাভাবে পূজার ছুটি ঘোষণা করতে পারে, ফলে প্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনসংখ্যায় পার্থক্য দেখা যেতে পারে।
সরকারি ছুটির দিনে সাধারণত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শাখা বা জরুরি সেবা চালু রাখা হতে পারে। এটিএম, কার্ড ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো ডিজিটাল সেবাগুলো সাধারণত ছুটির দিনেও চালু থাকে।
যারা ছুটির মধ্যেও দায়িত্বে থাকবেন
সরকারি ছুটি ঘোষণা হলেও জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবার সঙ্গে যুক্ত সব কর্মী ছুটি নাও পেতে পারেন। হাসপাতাল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহের মতো খাতের কর্মীদের ছুটির দিনেও দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে।
গণমাধ্যম কর্মীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য — সংবাদ ও সম্প্রচার কার্যক্রম সচল রাখতে অনেককে সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় ছুটির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে, তাই সরকারি ছুটি ঘোষিত হলেই সব প্রতিষ্ঠানের সব কর্মী একই সময়ে ছুটি পাবেন এমনটা নয়।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে কোথায় কত দিন ছুটি থাকবে তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নোটিশ অনুসরণ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ, বিশেষ করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও জরুরি সেবার ক্ষেত্রে।
আপনাদের প্রশ্ন আমাদের উত্তর: (FAQ)
দুর্গাপূজার সরকারি ছুটি কবে থেকে শুরু?
মূল সরকারি ছুটি শুরু হবে ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার (মহানবমী) থেকে, যা চলবে ২১ অক্টোবর বুধবার (বিজয়া দশমী) পর্যন্ত।
দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীরা মোট কত দিন ছুটি পাবেন?
মূল সরকারি ছুটি দুই দিন। এর সঙ্গে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মীদের জন্য দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি যোগ হলে টানা চার দিন ছুটি কাটানো সম্ভব।
ঐচ্ছিক ছুটি কারা নিতে পারবেন?
শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত নিয়ম ও দাপ্তরিক অনুমোদন সাপেক্ষে ১৮ ও ১৯ অক্টোবরের ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারবেন।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও কি একই ছুটি পাবেন?
তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর। সরকারি ছুটি ঘোষিত হলেই সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একই সময়ে ছুটি দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!










