তৃণমূল পর্যায়ে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে “উদ্যোগ” নামে একটি অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা কোনো জামানত ছাড়াই সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পাবেন, যার অর্ধেক ব্যাংকঋণ এবং বাকি অর্ধেক অনুদান। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে ৮টি জেলার ৬৪টি উপজেলায় পাইলট আকারে এই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
এক নজরে “উদ্যোগ” কর্মসূচি:
- সর্বোচ্চ অর্থায়ন: ২০ লাখ টাকা (১০ লাখ ঋণ + ১০ লাখ অনুদান)
- ঋণের সুদহার: ৪ থেকে ৭ শতাংশ
- জামানত: কোনো সহায়ক জামানত লাগবে না
- বয়সসীমা: আবেদনের শেষ দিনে সর্বোচ্চ ২৮ বছর
- প্রাথমিক লক্ষ্য: ৬৪টি উপজেলা থেকে মোট ৬৪০ জন উদ্যোক্তা নির্বাচন
কারা আবেদন করতে পারবেন
আবেদনকারীকে বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাসিন্দা হতে হবে। কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, সেবা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, হালকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগসহ বৈধ প্রায় সব ধরনের ব্যবসা এই কর্মসূচির আওতায় পড়বে।
আরো পড়ুন: ইউনিয়ন পর্যায়ের দোকানেও বসছে ভ্যাট, মাসে ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা
বাছাই প্রক্রিয়া কেমন হবে
এটি প্রচলিত অর্থে কোনো প্রতিযোগিতা নয়। তফসিলি ব্যাংকগুলো তাদের বিদ্যমান শাখা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা নিজে থেকেই খুঁজে বের করবে, এরপর তাঁর ব্যবসায়িক ধারণা ও প্রকৃত অর্থের চাহিদা যাচাই করবে।
প্রতিটি জেলায় একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক এই দায়িত্ব পালন করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বিশেষজ্ঞ—এই তিন পক্ষ মিলে চূড়ান্ত উদ্যোক্তা নির্বাচন করবে। নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, নির্বাচনে কোনো তদবির বা সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নয়—প্রমাণিত হলে আবেদন সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে।
তহবিল আর প্রথম ধাপের জেলা
কর্মসূচির জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল অনুমোদন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। এর মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজে, বাকি ২৫০ কোটি টাকা জোগান দেবে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো, যার একটি অংশ আসবে ব্যাংকগুলোর অব্যবহৃত সিএসআর তহবিল থেকে।
প্রথম ধাপে যে ৮টি জেলায় কর্মসূচি শুরু হচ্ছে: মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা।
ঋণ পরিশোধে গাফিলতি হলে
নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে অনুদানের অংশও সুদবিহীন ঋণে পরিণত হয়ে যাবে। এতে ঋণ হিসাব প্রচলিত নিয়মে শ্রেণিকরণ হবে এবং সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ভবিষ্যতে ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হয়ে পড়বেন।
আরো পড়ুন: পঞ্চগড়-কক্সবাজার রেলপথে যুক্ত হচ্ছে সারা দেশ, ছয় মাসে আয় বাড়ল ২২৫ কোটি টাকা
কর্মসংস্থানের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, একজন সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা গড়ে ৩ থেকে ৫ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। পাইলট পর্যায়ে সফল হলে কর্মসূচিটি অন্যান্য উপজেলায় সম্প্রসারিত হতে পারে, যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো জানা যায়নি। আবেদনের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আরও বিস্তারিত সার্কুলার এলে তা যোগ করা হবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
“উদ্যোগ” কর্মসূচিতে টাকা পেতে কি জমি বা সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হবে?
না, এই কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য কোনো সহায়ক জামানত লাগবে না।
বয়সসীমা কত?
আবেদনের শেষ দিনে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ২৮ বছরের মধ্যে হতে হবে।
অনুদানের ১০ লাখ টাকা কি ফেরত দিতে হবে?
না, নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করলে অনুদানের অংশ ফেরত দিতে হয় না। তবে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অনুদানের অংশও সুদবিহীন ঋণে পরিণত হয়ে যাবে।
কীভাবে ও কোথায় আবেদন করতে হবে?
প্রতিটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিস মিলে উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোক্তা খুঁজে বের করবে। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট আবেদন ফরম বা কাগজপত্রের তালিকা উল্লেখ নেই—বিস্তারিত সার্কুলার প্রকাশিত হলে তা জানা যাবে।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!









