চীনে ২৩ সেপ্টেম্বর অফিসিয়ালি লঞ্চ হতে যাচ্ছে Xiaomi 18 Pro, আর লঞ্চের ঠিক আগে ফোনটির প্রায় সব বড় স্পেসিফিকেশন লিক হয়ে গেছে। এবারের মূল আলোচনার বিষয় তিনটি — অস্বাভাবিক রকম বড় ব্যাটারি (৮৫০০mAh পর্যন্ত), ডুয়াল ২০০MP ক্যামেরা সেটআপ, এবং রিয়ার স্ক্রিনে AI দিয়ে নিজের মতো মিনি-অ্যাপ বানানোর নতুন ফিচার।
সংক্ষেপে: মূল আকর্ষণ — বিশাল ব্যাটারি ক্যাপাসিটি, নতুন Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro (2nm) চিপসেট, ডুয়াল ২০০MP ক্যামেরা, AI-চালিত রিয়ার স্ক্রিন। কাদের জন্য ভালো ফিট — দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ ও পেশাদার ক্যামেরা পারফরম্যান্স যাদের কাছে অগ্রাধিকার। সীমাবদ্ধতা — অফিসিয়াল লঞ্চের আগে সব তথ্যই লিক-ভিত্তিক, এবং গ্লোবাল মার্কেটে একই স্পেসিফিকেশনে আসবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়।
Xiaomi 18 Pro-র ভালো ও মন্দ দিক এক নজরে
ইতিবাচক দিক:
- ৮৫০০mAh পর্যন্ত বিশাল সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি, সাথে ১০০W ফাস্ট চার্জিং
- ২nm ফ্যাব্রিকেশনের Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro প্রসেসর
- ডুয়াল ২০০MP ক্যামেরা সেন্সর, বড় অ্যাপারচার সহ
- IP68/IP69 রেটিং ও আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্টের মতো ফ্ল্যাগশিপ-লেভেল ডিউরেবিলিটি ফিচার
- রিয়ার স্ক্রিনে নিজের মতো AI মিনি-অ্যাপ বানানোর সুবিধা
সীমাবদ্ধতা:
- গ্লোবাল ও বাংলাদেশ মার্কেটে অফিশিয়াল লঞ্চের অনিশ্চয়তা
- বড় ব্যাটারির কারণে ফুল চার্জ হতে কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে
- পেরিস্কোপ টেলিফটোর অপটিক্যাল জুম আগের জেনারেশনের চেয়ে কমেছে (5x থেকে 3.2x)
- মাইক্রো-এসডি কার্ড স্লট নেই
ডিজাইন, ডিসপ্লে ও পারফরম্যান্স: নতুন কী থাকছে?

রিয়ার স্ক্রিনে AI অ্যাপ জেনারেটর আসলে কীভাবে কাজ করবে?
Xiaomi 18 Pro-র “Versatile Rear Screen” ফিচার দিয়ে ইউজার নিজেই AI-এর সাহায্যে ছোট মিনি-টুল বানিয়ে রিয়ার স্ক্রিনে সেট করতে পারবেন — যেমন টাইমার, রিমাইন্ডার বা স্কোর ট্র্যাকার।
- Xiaomi 17 Pro সিরিজে প্রথম রিয়ার ডিসপ্লে এসেছিল, যেখানে ওয়ালপেপার বদলানো, নোটিফিকেশন দেখা বা মিউজিক কন্ট্রোলের মতো কাজ করা যেত
- এগ টাইমার, পানি খাওয়ার রিমাইন্ডার, পোমোডোরো টাইমারের মতো ছোট মিনি-টুল এখন ইউজার নিজেই AI দিয়ে বানিয়ে সেট করতে পারবেন
- ফোন আনলক না করেই ইংরেজি শব্দ শেখা, রেসিপি সাজেশন বা স্পোর্টস লাইভ স্কোর দেখা যাবে
- Gizchina-র একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগের জেনারেশনে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখেরও বেশি ইন্টারঅ্যাকশন হয়েছিল রিয়ার স্ক্রিন কার্ডে — এই সংখ্যাই শাওমিকে ফিচারটিতে আরও বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করেছে
দৈনন্দিন ব্যবহারে প্রথম কয়েক সপ্তাহে ফিচারটি যতটা নতুন লাগবে, তিন মাস পর সেই আগ্রহ কতটা টিকবে সেটাই আসল পরীক্ষা।
২nm স্ন্যাপড্রাগন প্রসেসরে গেমিং পারফরম্যান্স কতটা স্মুথ হবে?
Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro-র ২nm ফ্যাব্রিকেশন এবং বড় ভেপার চেম্বার কুলিং মিলিয়ে হেভি গেমিংয়ে থার্মাল থ্রটলিং কম হওয়ার কথা, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য অফিসিয়াল বেঞ্চমার্কের অপেক্ষা করা ভালো।
- ২nm প্রসেসে সাধারণত হিট জেনারেশন কম হয় এবং ব্যাটারি এফিসিয়েন্সি ভালো হয় — আগের Xiaomi 17 Pro-তে ছিল 3nm-এর Snapdragon 8 Elite Gen 5
- বড় আকারের ভেপার চেম্বার কুলিং থাকায় দীর্ঘক্ষণ গেমিংয়েও থার্মাল থ্রটলিং কম হওয়ার কথা
- PhoneArena-র লিক অনুযায়ী, চিপসেটের সাথে নতুন একটি ওয়্যারলেস পাওয়ার ম্যানেজমেন্ট মডিউলও যুক্ত থাকছে
তবে চিপসেটের নাম দেখেই গেমিং পারফরম্যান্স বিচার করা ঠিক না — হেভি গেম খেলার ২০-২৫ মিনিট পর থ্রটলিং কতটা হয়, সেই ডেটা অফিসিয়াল বেঞ্চমার্কের পরই পাওয়া যাবে।
২nm চিপসেট গেমিং-এ কতটা পার্থক্য আনে, দেখে নিতে পারেন এই ভিডিওতে:
Xiaomi 18 Pro-র ডিসপ্লে ও ডিজাইনে কী কী বড় পরিবর্তন আসছে?
ডিসপ্লেতে বড় পরিবর্তন হলো 2K রেজোলিউশন, 144Hz রিফ্রেশ রেট আর প্রায় ৪৫০০+ নিটস পিক ব্রাইটনেস; ডিজাইনে যুক্ত হচ্ছে টাইটানিয়াম ফ্রেম ও একটি ডেডিকেটেড AI বাটন।
- প্যানেল: ৬.৯ ইঞ্চি (Pro Max) 2K রেজোলিউশনের LTPO OLED, 1-144Hz পর্যন্ত ভ্যারিয়েবল রিফ্রেশ রেট
- পিক ব্রাইটনেস: লিক অনুযায়ী প্রায় ৪৫০০+ নিটস পর্যন্ত যেতে পারে, যা সরাসরি রোদে স্ক্রিন পড়া আরও সহজ করবে
- প্রোটেকশন: Xiaomi-র নিজস্ব Dragon Crystal Glass বা সিরামিক-গ্রেড প্রোটেকশন থাকার সম্ভাবনা
- ফ্রেম: গ্রেড-৫ টাইটানিয়াম, যা গ্লাস ব্যাক ফোনের তুলনায় হালকা কিন্তু বেশি টেকসই। Homescreen.pl-এর রেন্ডার বিশ্লেষণ অনুযায়ী ফ্রেমে একটি নতুন ডেডিকেটেড AI অ্যাকশন বাটনও থাকতে পারে
- কালার অপশন: ক্লাসিক ব্ল্যাক, সিরামিক টেক্সচারের হোয়াইট, লেদার ফিনিশের ডার্ক Leica ব্রাউন
ওয়াটার রেটিং, স্পিকার ও অতিরিক্ত ফ্ল্যাগশিপ ফিচার
দৈনন্দিন ব্যবহারের সুবিধার জন্য এতে ফ্ল্যাগশিপ-লেভেলের সব প্রিমিয়াম ফিচার নিশ্চিত করা হয়েছে:
- IP68/IP69 ওয়াটার ও ডাস্ট রেটিং: ১.৫ মিটার গভীর পানিতে ৩০ মিনিট পর্যন্ত টিকে থাকার পাশাপাশি উচ্চ তাপমাত্রার পানির ছিটেফোঁটাও প্রতিরোধ করতে সক্ষম
- আল্ট্রাসনিক ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর: স্ক্রিনে ভেজা বা তৈলাক্ত হাত থাকলেও চোখের পলকে আনলক হবে
- আইআর ব্লাস্টার (IR Blaster): শাওমির ট্রেডমার্ক আইআর ব্লাস্টার থাকছে, যার মাধ্যমে ঘরের টিভি, এসি বা ফ্যান রিমোট ছাড়াই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে
- ডলবি অ্যাটমস স্টেরিও স্পিকার: সিমেট্রিকাল ডুয়াল স্পিকার সেটআপ, যা গেমিং ও সিনেমা দেখার সময় দুর্দান্ত থ্রি-ডি সারাউন্ড সাউন্ড দেয়; হাই-রেস অডিও (Hi-Res Wireless) সার্টিফিকেশনও থাকার সম্ভাবনা রয়েছে
- কানেক্টিভিটি: লেটেস্ট Wi-Fi 7, ব্লুটুথ ৫.৪, ফুল-ফাংশনাল NFC এবং আল্ট্রা-ফাস্ট USB 3.2 Gen 2 পোর্ট — টাইপ-সি পোর্ট দিয়ে সরাসরি মনিটরে ডিসপ্লে-আউট সাপোর্টও থাকতে পারে
- স্যাটেলাইট মেসেজিং: নেটওয়ার্ক কভারেজ না থাকা এলাকায়ও ইমার্জেন্সি স্যাটেলাইট মেসেজিং সাপোর্টের সম্ভাবনা রয়েছে, যা সাম্প্রতিক ফ্ল্যাগশিপগুলোর একটি কমন ট্রেন্ড
৮৫০০mAh ব্যাটারি দিয়েও ফোনটি স্লিম রাখা সম্ভব হচ্ছে কীভাবে?
উত্তর একটাই — সিলিকন-কার্বন অ্যানোড ব্যাটারি টেকনোলজি, যেখানে সাধারণ লিথিয়াম-আয়নের চেয়ে একই জায়গায় প্রায় ২০-২৫% বেশি এনার্জি জমা রাখা যায়, ফলে ব্যাটারি বড় হলেও ফোন মোটা হয় না।
Xiaomi 18 Pro-তে ৭০০০mAh-এর বেশি ক্যাপাসিটির ব্যাটারি থাকার কথা, আর বড় Pro Max ভ্যারিয়েন্টে সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৫০০mAh-এ — তুলনায় Xiaomi 17 Pro-তে ছিল ৬৩০০mAh এবং 17 Pro Max-এ ৭৫০০mAh।
- এনার্জি ডেনসিটি বেশি: সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তিতে ব্যাটারির এনার্জি ডেনসিটি সাধারণ লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির চেয়ে প্রায় ২০%-২৫% বেশি থাকে
- থিকনেস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে: এত বড় ক্যাপাসিটি থাকা সত্ত্বেও ফোনের পুরুত্ব প্রায় ৮.৮ মিলিমিটার এবং ওজন ২২০-২২৫ গ্রামের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা
- চার্জিং: ১০০W ওয়্যার্ড ফাস্ট চার্জিং এবং ৫০W পর্যন্ত ওয়্যারলেস চার্জিং সাপোর্ট করবে বলে লিকে বলা হয়েছে; ১০০W দিয়ে শূন্য থেকে ফুল চার্জ হতে আনুমানিক ৪০-৪৫ মিনিট লাগতে পারে
সহজভাবে বললে — ব্যাটারির আকার বাড়েনি, বেড়েছে একই জায়গায় বেশি এনার্জি জমা রাখার সক্ষমতা।
ডুয়াল ২০০MP ক্যামেরায় ছবির মান কি সত্যিই ডিএসএলআরের মতো হবে?
মেগাপিক্সেল সংখ্যা বড় হলেও পুরো ফলাফল নির্ভর করবে সেন্সর সাইজ, অ্যাপারচার আর প্রসেসিংয়ের ওপর — বড় সেন্সর ও চওড়া অ্যাপারচারের কারণে লো-লাইট পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা আছে, তবে ডিএসএলআরের সমকক্ষ বলা এখনই ঠিক হবে না।
- মেইন সেন্সর (২০০MP): GSMArena-র তথ্য অনুযায়ী সেন্সর সাইজ ১/১.২৮ ইঞ্চি এবং অ্যাপারচার f/1.67 — আগের ৫০MP সেন্সরের চেয়ে অনেক বড়, যা কম আলোতে বেশি লাইট ধরতে সাহায্য করে
- পেরিস্কোপ টেলিফটো (২০০MP): অপটিক্যাল জুম কমিয়ে ৩.২x-এ আনা হয়েছে (আগে ছিল 5x), তবে অ্যাপারচার বড় করে f/2.4 করা হয়েছে — ফলে রাতের বেলাতেও দূরের শটে বেশি আলো ঢুকবে
- আল্ট্রাওয়াইড ও ম্যাক্রো: আল্ট্রাওয়াইড লেন্সের ফোকাল লেংথ প্রায় ১৭mm সমতুল্য; Android Authority-র বিশ্লেষণ অনুযায়ী পুরো সিস্টেম মিলিয়ে ফোকাল রেঞ্জ ১৭mm থেকে ৭৫mm পর্যন্ত কভার করে। টেলিফটো লেন্সে প্রায় ১৫ সেমি দূরত্ব থেকে ম্যাক্রো শট নেওয়া যাবে
মূল সেন্সরের নির্দিষ্ট নির্মাতা (Sony নাকি Omnivision) এখনো অফিসিয়ালি কনফার্ম হয়নি, তবে এই সাইজের সেন্সরে সাধারণত Sony-র LYT সিরিজ বা Omnivision-এর OV সিরিজ ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যায়। একই সাথে ২০০MP সেন্সরে লসলেস ইন-সেন্সর জুম প্রযুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে — এতে ছবির মান না কমিয়েই সেন্সরের একটা অংশ ক্রপ করে বাড়তি জুম পাওয়া যায়, ডিজিটাল আপস্কেলিং ছাড়াই।
জুম সংখ্যা কমে যাওয়া দেখে ডাউনগ্রেড মনে হলেও, সেন্সর সাইজ ও অ্যাপারচার বড় হওয়ায় দিনের আলোয় ডিটেইল আরও রিচ আসার এবং লো-লাইট পারফরম্যান্স ভালো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
ক্যামেরা মডিউলের সম্ভাব্য লে-আউট এই ভিডিওতে দেখে নিতে পারেন: [Insert YouTube Video Link Here]
সেলফি ক্যামেরা ও ভিডিও রেকর্ডিং সক্ষমতা
রিয়ার ক্যামেরার পাশাপাশি ফ্রন্ট ক্যামেরাতেও বড় আপগ্রেড আনছে শাওমি:
- সেলফি শুটার: সামনে থাকছে ৫০MP আল্ট্রা-ক্লিয়ার সেলফি ক্যামেরা, যাতে অটো-ফোকাস (AF) এবং ওয়াইড ফিল্ড-অব-ভিউ থাকবে
- ভিডিও কোয়ালিটি: ফ্রন্ট ও রিয়ার উভয় ক্যামেরা দিয়েই 4K 60fps এবং রিয়ার ক্যামেরায় 8K HDR ভিডিও রেকর্ডিং সাপোর্ট করবে
Xiaomi 17 Pro বনাম Xiaomi 18 Pro: পাশাপাশি তুলনা
| ফিচার | Xiaomi 17 Pro | Xiaomi 18 Pro (আপকামিং) |
|---|---|---|
| ডিসপ্লে | ৬.৭৩ ইঞ্চি OLED (120Hz) | ৬.৯ ইঞ্চি 2K LTPO OLED (144Hz) |
| প্রসেসর | Snapdragon 8 Elite Gen 5 (3nm) | Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro (2nm) |
| মেইন ক্যামেরা | ৫০MP | ২০০MP (f/1.67, 1/1.28″) |
| টেলিফটো ক্যামেরা | ৫০MP (5x পেরিস্কোপ) | ২০০MP (3.2x পেরিস্কোপ, f/2.4) |
| সেলফি ক্যামেরা | ৩২MP | ৫০MP (AF সহ) |
| ব্যাটারি | ৬৩০০mAh | ৭০০০-৮৫০০mAh (Silicon-Carbon) |
| চার্জিং | ১০০W ওয়্যার্ড | ১০০W ওয়্যার্ড + ৫০W ওয়্যারলেস |
| ওয়াটার রেটিং | IP68 | IP68/IP69 |
| রিয়ার স্ক্রিন | সাধারণ উইজেট কন্ট্রোল | AI-চালিত নিজস্ব মিনি-অ্যাপ সিস্টেম |
| সফটওয়্যার | HyperOS 2.x | HyperOS 3.0 (Android 16) |
যারা Xiaomi 17 Pro Max টাইটানিয়াম এডিশনের রিভিউ আগে পড়েছেন, তাদের কাছে এই আপগ্রেডের পরিমাণ বুঝতে সুবিধা হবে।
নতুন HyperOS 3.0 সিস্টেমে কী কী এক্সক্লুসিভ ফিচার মিলবে?
মূল নতুনত্ব হলো HyperMind 2.0 — যা প্রেক্ষাপট বুঝে রিয়ার ডিসপ্লেতে প্রাসঙ্গিক তথ্য নিজে থেকেই দেখায়, সাথে যুক্ত হচ্ছে শাওমি ইকোসিস্টেমের সাথে আরও গভীর কানেক্টিভিটি।
- HyperMind 2.0: ব্যবহারের ধরন বুঝে রিয়ার ডিসপ্লেতে দরকারি তথ্য — গাড়ির ডিজিটাল কি, বোর্ডিং পাস, পার্সেল ট্র্যাকিং — স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেখানোর কথা
- ইকোসিস্টেম কানেক্টিভিটি: শাওমির ল্যাপটপ, ট্যাবলেট এমনকি Xiaomi SU7 ইলেকট্রিক গাড়ির সাথে দ্রুত ফাইল শেয়ার ও লাইভ স্ক্রিন মিররিং সাপোর্টের কথা বলা হয়েছে
- আপডেট সাপোর্ট: ৫ বছরের মেজর Android আপডেট ও ৬ বছরের সিকিউরিটি প্যাচ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা Xiaomi-র সাম্প্রতিক ফ্ল্যাগশিপ পলিসির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ
- HyperOS-এ কিছু প্রি-ইনস্টলড অ্যাপ থাকলেও বেশিরভাগই আনইনস্টলযোগ্য, যেমনটা আগের জেনারেশনগুলোতেও দেখা গেছে
Image Here [alt: xiaomi 18 pro price in bangladesh variants chart]—————–
Xiaomi 18 Pro-র দাম বাংলাদেশে কত হতে পারে?
Xiaomi 18 Pro-র আনঅফিসিয়াল বেস ভ্যারিয়েন্টের দাম বাংলাদেশে আনুমানিক ৯৫,০০০ থেকে ১,০৫,০০০ টাকার মধ্যে হতে পারে। নিচে সম্ভাব্য ভ্যারিয়েন্ট-ভিত্তিক দামের তালিকা দেওয়া হলো।
| ভ্যারিয়েন্ট | সম্ভাব্য চীনা দাম (CNY) | সম্ভাব্য গ্লোবাল দাম (USD) | বাংলাদেশে সম্ভাব্য আনঅফিসিয়াল দাম (BDT) |
|---|---|---|---|
| ১২GB + ২৫৬GB | ¥৪,৯৯৯ | ~$৭৫০-৮০০ | ৯৫,০০০-১,০৫,০০০ টাকা |
| ১৬GB + ৫১২GB | ¥৫,৪৯৯ | ~$৮৫০-৯০০ | ১,১০,০০০-১,২০,০০০ টাকা |
| ১৬GB + ১TB (Pro Max) | ¥৫,৯৯৯ | ~$৯৫০-১,০৫০ | ১,২৫,০০০-১,৩৫,০০০ টাকা |
এই সংখ্যাগুলো এখনো অফিসিয়াল নয়, চীনের বর্তমান ফ্ল্যাগশিপ প্রাইসিং ট্রেন্ড ও আগের জেনারেশনের সাথে তুলনা করে করা অনুমান। ফোনটি বাংলাদেশে বা ভারতে অফিসিয়ালি আসার সম্ভাবনা কম — আগের Xiaomi 17 Pro সিরিজও এই মার্কেটগুলোতে আসেনি। এলেও গ্রে-মার্কেট বা লাগেজ পার্টির মাধ্যমে আসবে, যেখানে ট্যাক্স ও পরিবহন খরচের কারণে দাম উপরের তালিকার চেয়ে বেশি পড়তে পারে।
ফ্ল্যাগশিপ ফোন কেনার আগে কোন কোন ভুল এড়িয়ে চলবেন?
সবচেয়ে বড় ভুল হলো শুধু মেগাপিক্সেল বা চীনা স্পেক দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া — আসল পার্থক্য তৈরি হয় সেন্সর সাইজ, অ্যাপারচার আর রিজিয়ন-ভিত্তিক ভ্যারিয়েন্টের পার্থক্যে।
- শুধু মেগাপিক্সেল দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া: ২০০MP মানেই দুর্দান্ত ছবি নয় — সেন্সর সাইজ, অ্যাপারচার ও প্রসেসিং একসাথে মিলিয়েই আসল ছবির মান নির্ধারণ হয়
- শুধু চীনা স্পেক দেখে গ্লোবাল ভ্যারিয়েন্টও একই ধরে নেওয়া: রিজিয়ন-ভেদে চিপসেট, ব্যান্ড বা চার্জিং স্পিডে পার্থক্য থাকতে পারে
- বিকল্প যাচাই না করা: বাজেট ১ লক্ষ টাকার বেশি হলে Vivo X300 Ultra, Oppo Find X9 Ultra বা Xiaomi 17T Pro-র মতো বর্তমানে বাজারে থাকা অপশনগুলোও একবার দেখে নেওয়া ভালো
সাধারণ কিছু প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)
Xiaomi 18 Pro-তে কি একটানা ভারী গেমিং করা যাবে?
হ্যাঁ, ২nm Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro চিপসেট ও উন্নত ভেপার চেম্বার কুলিং মেকানিজমের কারণে দীর্ঘক্ষণ গেমিং করলেও থ্রটলিং বা ল্যাগ কম হওয়ার কথা।
৮৫০০mAh ব্যাটারি ফুল চার্জ হতে কত সময় লাগবে?
১০০W ফাস্ট চার্জিং দিয়ে শূন্য থেকে ১০০% চার্জ হতে আনুমানিক ৪০-৪৫ মিনিট লাগতে পারে।
রিয়ার স্ক্রিন কি ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ করে দেবে?
না, রিয়ার ডিসপ্লেটি মূলত লো-পাওয়ার OLED প্রযুক্তির, যা খুব সামান্য ব্যাটারি খরচ করে দরকারি তথ্য দেখায়।
iPhone 18 Pro-র সাথে ক্যামেরায় কে এগিয়ে থাকবে?
সরাসরি তুলনা কঠিন, কারণ দুই ব্র্যান্ডের ইমেজ প্রসেসিং স্টাইল ভিন্ন। স্পেক শিটের দিক থেকে Xiaomi 18 Pro-র দুটো ২০০MP সেন্সর সংখ্যায় এগিয়ে — বিস্তারিত তুলনা iPhone 18 Pro Max রিভিউ-তে পাবেন।
Xiaomi 18 Pro-র বক্সে কি ১০০W চার্জার দেওয়া থাকবে?
চীনা ভ্যারিয়েন্টের বক্সে সাধারণত ১০০W ফাস্ট চার্জার এবং ব্যাক কভার দেওয়াই থাকে। তবে গ্লোবাল ভার্সনে চার্জার থাকবে কি না, তা লঞ্চের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফোনটিতে কি মেমোরি কার্ড (SD Card) লাগানো যাবে?
না, আধুনিক অন্যান্য ফ্ল্যাগশিপের মতো এতেও কোনো ডেডিকেটেড মাইক্রো-এসডি কার্ড স্লট থাকবে না। তবে ২৫৬GB থেকে ১TB পর্যন্ত ইন্টারনাল UFS 4.1 স্টোরেজ অপশন থাকায় স্পেস নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
Xiaomi 18 Pro কি সত্যিই ফ্ল্যাগশিপের নতুন মানদণ্ড হতে যাচ্ছে? — আমাদের মতামত
লিক হওয়া স্পেক অনুযায়ী, এবার শুধু নাম্বার গেমে না গিয়ে Xiaomi ব্যাটারি ও ক্যামেরা — দুই জায়গাতেই বাস্তবসম্মত আপগ্রেড আনার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। উল্লেখিত স্পেসিফিকেশন ও দাম অফিসিয়াল লঞ্চের সময় বদলে যেতে পারে, তাই কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অফিসিয়াল সোর্স বা বিশ্বস্ত রিটেইলার থেকে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।










