নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপ: বাবা-মায়ের পকেটে রাখার মতো ফোন কি এটা?

অক্টোবর 31, 2026 12:02 পূর্বাহ্ন
Nokia 2360 Flip ফিচার ফোনের ডিজাইন, SOS বাটন ও বয়স্কদের ব্যবহারের উপযোগী সুবিধা।

১২১ গ্রাম ওজন, ১৯ মিলিমিটার পুরুত্ব, দুটো স্ক্রিন, পেছনে আলাদা একটা বাটন। নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপের স্পেক শিট পড়ে প্রথমে আমার একটাই প্রশ্ন এসেছিল: এই ফোন কিনবে কে?

কয়েক ঘণ্টা ঘেঁটে উত্তর পেলাম নিজের পরিবারেই। আমার বাবা-মায়ের মতো মানুষদের ফোন বাছতে র‍্যাম-প্রসেসরের হিসাব লাগে না। লাগে বড় বাটন, জোরালো আওয়াজ আর বিপদে ছেলেমেয়েকে ডাকার সহজ উপায়।

ফোনটা এখনো আমার হাতে আসেনি। এই লেখা অফিসিয়াল ঘোষণা, স্পেসিফিকেশন শিট আর কয়েকটা টেক সাইটের তথ্য মিলিয়ে করা রিসার্চ।

সংক্ষেপে উত্তর: নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপ বয়স্ক মানুষ আর স্কুলপড়ুয়াদের জন্য বানানো একটা ক্ল্যামশেল বেসিক ফোন।
সবচেয়ে বড় সুবিধা: পরিবারের কেউ নিজের স্মার্টফোন থেকে এই ফোনের সেটিং ঠিক করে দিতে পারেন, আর জরুরি অবস্থার জন্য পেছনে আলাদা বাটন আছে।
সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা: নেটওয়ার্ক শুধু ২জি, তাই স্মার্টফোনের মতো ইন্টারনেট ব্যবহার এখানে হবে না।

এই লেখায় যা থাকছে

ফোন কেনার আগে আমাদের মাথায় যে প্রশ্নগুলো ঘোরে

বাবা-মায়ের জন্য ফোন কিনতে গেলে আমরা সবাই প্রায় একই জায়গায় আটকে যাই। দোকানি বলেন, “স্মার্টফোন নিন, নাতির ভিডিও কল করবেন।” অথচ যিনি সারা জীবন বাটন টিপে কল করেছেন, তাঁর কাছে টাচস্ক্রিন মানে ভুল জায়গায় ছুঁয়ে ফেলার ভয়।

বাজেট কম হলে প্রশ্ন আসে, সস্তা স্মার্টফোন নেব, নাকি ইমার্জেন্সি ফোন হিসেবে একটা কি-প্যাড মোবাইল? স্কুলে পড়া ছেলেমেয়ের জন্য ভাবনা আলাদা: গেম আর ক্যামেরা থেকে দূরে রেখে কীভাবে যোগাযোগটা রাখা যায়?

আরেকটা দুশ্চিন্তা থাকে, আজ কেনা ফোন কিছুদিন পর নেটওয়ার্ক হারাবে না তো? নোকিয়ার এই ফোন এই চারটা প্রশ্নের মধ্যে অন্তত দুটোর সরাসরি উত্তর দিতে চায়।

ডিজাইন, ডিসপ্লে আর সিস্টেম: বাটন ফোন হিসেবে কেমন

ফ্লিপ ডিজাইনে ফোনটা কতটা হাতে-সহজ?

ফোল্ড করা অবস্থায় ফোনের মাপ ১১১.৯ × ৫৫.৬ × ১৯ মিমি, ওজন ১২১ গ্রাম। এই মাপ GSMArena-র স্পেসিফিকেশন তালিকায় দেওয়া আছে।

স্মার্টফোনের চেয়ে এটা অনেক কম চওড়া, তাই পাঞ্জাবির পকেট বা হ্যান্ডব্যাগের কোণে সহজে ঢুকে যায়। ফ্লিপ খুললে কল রিসিভ, বন্ধ করলে কল কাটা, এই অভ্যাস পুরোনো ফ্লিপ ফোনের ব্যবহারকারীদের হাতে চেনা লাগবে।

একটা টেক-ডিজাইন বিশ্লেষণে বড় বাটন আর পরিচিত ক্ল্যামশেল গড়নকে ফোনের বড় সুবিধা বলা হয়েছে।

ফোনের বাকি বিল্ড তথ্য এক নজরে: রং তিনটি (বার্গান্ডি রেড, চারকোল, টিল), দুটি মিনি-সিমের জায়গা, চার্জিং USB Type-C পোর্টে, আর ব্যাটারি খুলে বদলানো যায়।

আরও পড়ুন  No More Charging Anxiety! 3-Day Battery Life? Infinix Note 60 Pro Unveils Incredible ‘Futuristic’ Features!

২.৮ ইঞ্চির স্ক্রিন বয়স্কদের চোখে আরামদায়ক হবে?

প্রধান ডিসপ্লে ২.৮ ইঞ্চি TFT, রেজোলিউশন ২৪০ × ৩২০ পিক্সেল, ঘনত্ব প্রায় ১৪৩ ppi। সংখ্যা স্মার্টফোনের তুলনায় কম, কিন্তু এখানে ছবির চেয়ে বড় আইকন আর মোটা অক্ষর বেশি জরুরি। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী মেনুর আইকনও বড় রাখা হয়েছে।

বাইরের দিকে আছে ১.৭৭ ইঞ্চির ছোট স্ক্রিন। ফ্লিপ না খুলেই সময় আর কলারের নাম দেখা যায়। পকেট থেকে বের করে চশমা খুঁজে ফোন খোলার ঝামেলা তাতে কমে।

রিফ্রেশ রেট বা ব্রাইটনেসের অফিসিয়াল সংখ্যা এখনো প্রকাশ হয়নি। তাই রোদে স্ক্রিন কেমন দেখাবে, সেটা বুঝতে ফোন হাতে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ডিসপ্লে আর বাটনের ফিলিং ভিডিওতে দেখলে সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়। ফোন বাজারে এলে এই ভিডিওতে হাতে-কলমে দেখে নিতে পারেন।

যাঁদের আঙুল কাঁপে বা চোখে কম দেখেন, তাঁদের জন্য কি-প্যাড কেন আরাম

বয়স হলে আঙুলের নড়াচড়ায় আগের মতো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কারও চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যা থাকে। টাচস্ক্রিনে এঁদের হাত ভুল জায়গায় লেগে যায়, কল কেটে যায়।

ফিজিক্যাল বাটনে আঙুল ঠিক কোথায় আছে, সেটা স্পর্শেই বোঝা যায়। ঠিক এই কারণেই বয়স্কদের জন্য বাটন ফোন আজও পরিবারের পছন্দের তালিকায় থাকে। এই ফোনে জোরালো লাউডস্পিকার, কানের শ্রবণযন্ত্রের সাথে মানানসই (HAC) সাপোর্টের কথাও একটি সূত্রে পাওয়া গেছে।

র‍্যাম ৪ এমবি, এতে কি ফোন আটকে যাবে?

র‍্যাম ৪ এমবি, ইন্টারনাল স্টোরেজও ৪ এমবি। শুনে ভয় লাগতে পারে, কিন্তু এটা বেসিক ফোন। এখানে অ্যাপ ইনস্টল হয় না, ট্যাবের পর ট্যাব খোলার সুযোগও নেই।

একটি সূত্র অনুযায়ী ফোনটি S30+ সিস্টেমে চলে। কল, মেসেজ, কন্টাক্ট আর রিমাইন্ডারের মতো কাজে এই হালকা সিস্টেম যথেষ্ট। গেমিং বা মাল্টিটাস্কিংয়ের বেঞ্চমার্ক এই ফোনের জন্য প্রযোজ্য নয়।

গান বা ছোট ফাইল রাখার জন্য microSDHC স্লট আছে। কোন ফরম্যাট চলবে, সেটা অফিসিয়াল পেজে দেখে নেওয়া ভালো।

Family Assist কীভাবে কাজ করে?

এটাই ফোনের সবচেয়ে আলাদা জায়গা। Fonearena-র বিবরণ অনুযায়ী পরিবারের সদস্য নিজের স্মার্টফোন থেকে কন্টাক্ট যোগ করতে পারেন, ভলিউম বদলাতে পারেন আর রিমাইন্ডার সেট করতে পারেন।

ধরুন বাবার ওষুধের সময় ঠিক করে দিতে হবে। ছেলে শহর থেকেই রিমাইন্ডার বসিয়ে দিলেন, বাবাকে ফোনে কিছু ছুঁতে হলো না।

স্কুলপড়ুয়াদের জন্য আছে School Mode। একটি সূত্র অনুযায়ী এখানে অনুমোদিত কন্টাক্টের তালিকা রাখা যায় আর ক্যামেরা বা গেমের মতো ফিচার বন্ধ করা যায়। সেটিং পরিবর্তন আটকে রাখতে পাসকোডের ব্যবস্থাও থাকে।

SOS বাটন কোন সময়ে সবচেয়ে কাজে লাগবে?

পেছনের বাটন চাপলে আগে থেকে সেট করা জরুরি নম্বরে কল যায়, আর পাঁচটি নম্বরে অ্যালার্ট মেসেজ পাঠানো হয়। সকালে হাঁটতে যাওয়া বাবা বা গ্রামের বাড়িতে একা থাকা দাদির জন্য এটা বাড়তি ভরসা।

HMD নিজেই জানিয়েছে, এটি সরকারি জরুরি সেবার বিকল্প নয়। বাংলাদেশে জরুরি অবস্থায় ৯৯৯ নম্বরে কল করার অভ্যাসটাই মূল ভরসা। স্পেক শিটে GPS নেই, তাই অ্যালার্টে লোকেশন যাবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

গ্রামীণফোন, রবি আর বাংলালিংকের সিমে ফোনটা চলবে?

ফোনটি GSM ৯০০/১৮০০ ব্যান্ডে চলে। বাংলাদেশে গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক এখনো ২জি নেটওয়ার্ক চালু রেখেছে বলেই আমি জানি, তাই কল আর এসএমএস চলার কথা।

স্পেক তালিকায় GPRS ও EDGE আছে, কিন্তু ৩জি, ৪জি বা Wi-Fi নেই। ব্রাউজার বা অ্যাপের সাপোর্ট নিয়ে নিশ্চিত তথ্য পাইনি, আর হোয়াটসঅ্যাপ-ফেসবুক চলার সম্ভাবনা কম। যেসব দেশে ২জি বন্ধ হয়ে গেছে সেখানে ফোনটা অকেজো, Nokiamob এই কথা সরাসরি বলেছে।

আরও পড়ুন  Infinix GT 50 Pro রিভিউ: ফোনের গায়ে খোলা কুলিং পাইপ! এই ফিচার কি আদৌ কাজের?

বেসিক ফোন, ৪জি কি-প্যাড আর স্মার্টফোনের তুলনা

নির্দিষ্ট মডেলের নাম ছাড়া, সাধারণ ধরনের সাথে মিলিয়ে দেখলাম:

বিষয়নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপসাধারণ ৪জি কি-প্যাড ফোনবাজেট স্মার্টফোন
ডিজাইনক্ল্যামশেল, দুই ডিসপ্লেসাধারণত বার-টাইপসিঙ্গেল টাচস্ক্রিন
নেটওয়ার্ক২জি৪জি পর্যন্ত থাকে৪জি/৫জি
ইন্টারনেট ও অ্যাপনেইসীমিতপুরোপুরি
দূর থেকে ম্যানেজআছেসাধারণত নেইআলাদা অ্যাপ লাগে
জরুরি বাটনআলাদা বাটনমডেলভেদেসাধারণত নেই
ব্যবহারের সহজতাসবচেয়ে সহজসহজশিখতে সময় লাগে

যাঁর ইন্টারনেট দরকার, তাঁর জন্য কোন পথ? তখন স্মার্টফোনই বিকল্প। বাজেট স্মার্টফোনের রিভিউ আর মিড-রেঞ্জ ফোনের দাম ও রিভিউ দেখতে পারেন। ফোনটা নিজের জন্য হলে প্রিমিয়াম ফোনের স্পেক ও দাম আর ফ্ল্যাগশিপ ফোনের তুলনাও পড়ে নিতে পারেন। মিড-রেঞ্জ ৫জি খুঁজলে গ্যালাক্সি এ-সিরিজের দাম ও স্পেক কাজে লাগবে।

বাজেট ঠিক করার সময় কোন বিষয়গুলো দেখবেন?

ভ্যারিয়েন্ট বাছাইয়ের ঝামেলা নেই, কারণ এখন পর্যন্ত একটাই কনফিগারেশনের কথা শোনা গেছে। USB Type-C পোর্ট থাকায় বাড়িতে থাকা Type-C চার্জারেই কাজ চলতে পারে, তবে বক্সে চার্জার থাকবে কি না তা দেখে নিন। মেমরি কার্ড লাগলে তবেই কিনুন। বয়স্কদের ফোন সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য উজ্জ্বল রংটা আমার কাছে ভালো লেগেছে, তবে এটা একান্তই আমার পছন্দ।

Pro Tip: স্পেক শিট ঘেঁটে আমার একটা উপলব্ধি হয়েছে। ফোন কেনার আগে বাবা-মায়ের সাথে বসে ১০ মিনিটে ঠিক করে নিন, বিপদে কাকে কাকে জানাতে চান। ফোন হাতে এলে নম্বরগুলো এক মিনিটেই সেট হয়ে যাবে।

ক্যামেরা, ব্যাটারি আর সফটওয়্যার

Nokia 2360 Flip ক্যামেরা, ব্যাটারি ও সফটওয়্যার ফিচারের বিস্তারিত।
Nokia 2360 Flip-এর ক্যামেরা, ব্যাটারি ব্যাকআপ ও সফটওয়্যার সুবিধা কেমন? ফোনটি কেনার আগে জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

০.১ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরায় কী তোলা যায়?

ফোনের পেছনে একটাই ক্যামেরা, রেজোলিউশন QVGA, অর্থাৎ প্রায় ০.১ মেগাপিক্সেল। সঙ্গে আছে LED ফ্ল্যাশ। সেলফি ক্যামেরা নেই, আর ভিডিও রেকর্ডিংয়ের কোনো স্পেসিফিকেশন জানানো হয়নি।

এই ক্যামেরা দিয়ে ছবি তোলার উদ্দেশ্য ফ্রেমে বাঁধানোর মতো স্মৃতি রাখা নয়। বাজার থেকে কেনা ওষুধের নাম, কাগজের একটা নম্বর বা কোনো জিনিসের অবস্থা মনে রাখার মতো ছোটখাটো কাজে এটা চলতে পারে।

পোর্ট্রেট মোড, নাইট মোড বা ভিডিও স্ট্যাবিলাইজেশনের কথা এখানে ভাবার দরকার নেই। যাঁর ছবি তোলাটা গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর জন্য আলাদা স্মার্টফোনই ঠিক।

১,৪৫০ mAh ব্যাটারি কতদিন চলবে?

ব্যাটারি ১,৪৫০ mAh লি-আয়ন। নির্মাতার তথ্য অনুযায়ী স্ট্যান্ডবাই টাইম ১৫ দিন পর্যন্ত। এটা স্ট্যান্ডবাই, ক্রমাগত কথা বলার সময় নয়।

সংখ্যাটা কেন সম্ভব, বোঝা সহজ। ৪ এমবি র‍্যাম, হালকা সিস্টেম আর ২জি রেডিও মিলিয়ে ফোনটা খুব কম শক্তি টানে। বাবা-মায়ের মতো যাঁরা দিনে পাঁচ-ছয়টা কল করেন, তাঁদের বেশিরভাগ দিনে চার্জ নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।

খুলে বদলানো ব্যাটারির একটা বাস্তব সুবিধা আছে। বছর দুয়েক পর ব্যাটারি দুর্বল হলে পুরো ফোন ফেলে দিতে হবে না, শুধু ব্যাটারি পাল্টালেই চলবে। চার্জিং ওয়াটের সংখ্যা প্রকাশিত হয়নি, তাই পুরো চার্জে কত সময় লাগবে বলা যাচ্ছে না।

সফটওয়্যার: বাটন ফোনের ব্যবহার সহজ হবে কি না

মেসেজিংয়ে SMS ও MMS আছে, গেম আছে, FM রেডিও আছে আর ৩.৫ মিমি হেডফোন জ্যাকও আছে। Java সাপোর্ট নেই, মানে পুরোনো জাভা গেম চলবে না।

ব্লোটওয়্যারের চিন্তা এখানে প্রায় নেই, কারণ প্রি-ইনস্টল্ড অ্যাপ বলতে সাধারণত কল, মেসেজ আর কন্টাক্টের মতো কয়েকটা জিনিস। সফটওয়্যার আপডেট নিয়ে HMD এখনো কোনো নীতি জানায়নি।

আরও পড়ুন  Xiaomi 18 Pro কিনবেন নাকি অপেক্ষা করবেন? লিক হওয়া স্পেক বলছে যা

আপডেট না এলেও কি-প্যাড ফোনে বড় ক্ষতি হয় না, কারণ অনলাইন ঝুঁকির জায়গাই এখানে কম। তবে রিমোট ম্যানেজমেন্টের জন্য ফোনে যে সংযোগ কাজ করবে, তার নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সতর্ক থাকা উচিত। পাসকোড সহজ না রাখাই ভালো।

বাবা-মায়ের ফোন কিনতে গিয়ে আমরা যে ভুলগুলো করি

আমার চেনা এক পরিবারে বাবার জন্য ঈদের আগে স্মার্টফোন কেনা হয়েছিল। তিন সপ্তাহ পর সেটা কাপড়ের আলমারির তাকে পড়ে ছিল। বাবা বলেছিলেন, “টাচে কল কেটে যায়, আমার পুরোনো বাটন ফোনটাই ভালো।” টাকাটা নষ্ট হয়নি ঠিকই, কিন্তু ছেলে মনখারাপ করে ফেলেছিল।

এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, ভুল শুরু হয় ফোন কেনার আগেই।

১. নিজের পছন্দের ফোন কিনে বাবা-মাকে দেওয়া। আমরা ভাবি, যা আমার কাজে লাগে তা তাঁদেরও লাগবে। কিন্তু একজন মানুষের অভ্যাস আর শরীরের সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী ফোন বাছতে হয়। আগে জিজ্ঞেস করুন, তিনি আসলে ফোনে কী করেন।

২. স্পেক শিট না বুঝে শুধু “নোকিয়া” নাম দেখে কেনা। ব্র্যান্ডের নামে ভরসা করা স্বাভাবিক। তবে নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপের নেটওয়ার্ক ২জি, এই তথ্য না জেনে কিনলে বাড়িতে এসে ধাক্কা খেতে পারেন। ফোন কেনার আগে ব্যান্ড আর নেটওয়ার্ক সাপোর্ট দেখে নেওয়া উচিত।

৩. ওয়ারেন্টি আর সার্ভিস সেন্টারের খোঁজ না রাখা। ফিচার ফোন সস্তা বলে অনেকে ওয়ারেন্টি কার্ড ফেলে দেন। অথচ বাবা-মা ফোন হাত থেকে ফেলে দিলে বা কিপ্যাডে সমস্যা হলে সার্ভিসই ভরসা। কেনার সময় ইনভয়েস রাখুন আর স্থানীয় সার্ভিস সেন্টার কোথায়, তা জেনে নিন।

৪. ফোন কিনে নিজেই সেটআপ না করা। Family Assist, জরুরি নম্বর বা রিমাইন্ডার, কোনোটাই নিজে নিজে ঠিক হয় না। ফোন হাতে এলে সুবিধামতো সময়ে বসে সব সেট করে বাবা-মাকে একবার দেখিয়ে দিন।

৫. স্কুলপড়ুয়াকে ফোন দিয়ে কোনো নিয়ম না বলা। ক্যামেরা বা গেম বন্ধ করা গেলেও সন্তানকে কেন এই সীমা, তা বুঝিয়ে বলাটা জরুরি। না বললে সে পরে বন্ধুর স্মার্টফোনের দিকে ঝুঁকবে।

ভুলগুলোর মূল কারণ একটাই: যিনি ফোন ব্যবহার করবেন, তাঁকে না জিজ্ঞেস করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

কিনবেন, না কিনবেন না: দ্রুত হিসাব

কিনতে পারেন, যদিঅন্য অপশন দেখুন, যদি
ব্যবহারকারী শুধু কল আর মেসেজ করেনতাঁর হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব বা অনলাইন পেমেন্ট দরকার হয়
পরিবারের কেউ স্মার্টফোন থেকে সেটিং দেখে দিতে পারেনসেটিং ম্যানেজ করার মতো স্মার্টফোন পরিবারে কারও নেই
বাড়ির এলাকায় ২জি সিগন্যাল ভালো পাওয়া যায়এলাকায় ২জি সিগন্যাল দুর্বল
একটা হালকা ব্যাকআপ ফোন চানছবি বা ভিডিওর মান আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ

দ্বিতীয় কলামে পড়লে ৪জি কি-প্যাড বা একটা সহজ স্মার্টফোন ভালো ফিট হবে।

কেনার আগে চেকলিস্ট

  • আপনার এলাকায় নিজের অপারেটরের ২জি সিগন্যাল ঠিকমতো আসে কি না
  • ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট বা হোয়াটসঅ্যাপ লাগে কি না
  • Family Assist চালানোর জন্য পরিবারে কারও স্মার্টফোন আছে কি না
  • SOS-এর পাঁচটি নম্বরে কারা থাকবেন, তা ঠিক করা আছে কি না
  • ওয়ারেন্টি, চার্জার আর বক্সের জিনিসপত্র দোকান থেকে নিশ্চিত করা
  • বিক্রির তারিখ ও বাজারে প্রাপ্যতা অফিসিয়াল ঘোষণার পর যাচাই করা

নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপ নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপে কি হোয়াটসঅ্যাপ চলে?

না, এই ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চলার সম্ভাবনা নেই। ফোনটি ২জি-ভিত্তিক বেসিক ফোন, ৩জি/৪জি বা Wi-Fi সাপোর্ট নেই। কল ও এসএমএস চালানোই এর মূল কাজ।

নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপের দাম কত?

এখনো অফিসিয়াল দাম জানা যায়নি। HMD ঘোষণায় দাম ও কোন বাজারে বিক্রি হবে, তা জানায়নি। দাম প্রকাশ পেলে এই লেখা আপডেট করার চেষ্টা করব।

নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপ কি বাংলাদেশে পাওয়া যাবে?

এখনো নিশ্চিত নয়। ঘোষণার সময় HMD কোন কোন দেশে ফোনটি আনবে, তা জানায়নি। নোকিয়ার বাটন ফোন (Nokia button phone) বাংলাদেশে অনেকের কাছেই পরিচিত নাম। দেশে ২জি নেটওয়ার্ক চালু আছে বলে ফোনটি এখানে চলার সুযোগ থাকলেও, বাজারে আসার খবর অফিসিয়াল ঘোষণার অপেক্ষায়।

এই ফোনে কি দুটি সিম ব্যবহার করা যায়?

হ্যাঁ, স্পেক তালিকা অনুযায়ী দুটি মিনি-সিমের জায়গা আছে। দুটি অপারেটরের সিম রেখে কল ও এসএমএসে আলাদা নম্বর ব্যবহার করা যাবে। এখনকার স্মার্টফোনে ন্যানো সিম চলে, কিন্তু এই ফোনে মিনি-সিম লাগবে।

ছবি তোলার জন্য কি এই ফোন ঠিক আছে?

না, ছবির মান আশা করলে এই ফোন মানাবে না। ক্যামেরা প্রায় ০.১ মেগাপিক্সেলের, সেলফি ক্যামেরাও নেই। কাজ চালানোর মতো দ্রুত ছবির জন্য এটা ব্যবহার করা যাবে।

কাদের হাতে নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপ ভালো মানায়

নোকিয়া ২৩৬০ ফ্লিপ বাজারের নতুন কোনো স্মার্টফোনের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। এটা একটা সহজ, নিরাপদ আর স্ক্রিন-ঝামেলাহীন ফোন, যার জন্য দর্শক আলাদা।

ভালো মানাবে যাঁদের হাতে:

  • যাঁরা সারা জীবন বাটন ফোন ব্যবহার করেছেন আর টাচস্ক্রিনে স্বস্তি পান না
  • যেসব ছেলেমেয়ে স্কুলে যায় আর যাদের শুধু পরিচিতজনের সাথে যোগাযোগ দরকার
  • যে পরিবার কাছের কাউকে নিয়মিত খেয়াল রাখতে চায়, কিন্তু প্রতিদিন কল করে বিরক্ত করতে চায় না
  • যাঁদের স্মার্টফোন আছে, আর দ্বিতীয় একটা হালকা ব্যাকআপ ফোন চান

অন্য ফোন দেখা ভালো যাঁদের জন্য:

  • যাঁরা ইন্টারনেট, ইউটিউব, ফেসবুক বা অনলাইন পেমেন্ট চালান
  • যাঁরা ছবি ও ভিডিওর মান নিয়ে সচেতন
  • যাঁদের এলাকায় ২জি নেটওয়ার্ক দুর্বল

ফোনটা বাজারে এলে কেনার আগে নিজের শোরুম বা বিশ্বস্ত দোকান থেকে সর্বশেষ তথ্য মিলিয়ে নেবেন।

আপনার মতে বাবা-মায়ের জন্য বাটন ফোন বেশি ভালো, নাকি সহজ স্মার্টফোন? নিচে কমেন্ট করে আপনার অভিজ্ঞতা জানান।

📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

Juger Alo

তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী Juger Alo টিম। পাঠকদের কাছে দ্রুত সঠিক খবর, চাকরি ও ক্যারিয়ারের আপডেট এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now