ইসরায়েল নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে কোনো দল বা জোটই সরকার গড়ার মতো ৬১ আসনে পৌঁছাতে পারেনি। ২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবারের এই নেসেট ভোটে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে ৫২ আসনে, গাদি আইজেনকটের বিরোধী জোট ৪৯ আসনে। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাসের রাজনৈতিক দর-কষাকষির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এক নজরে
- অচলাবস্থার মূল কারণ, ১২০ আসনের নেসেটে কোনো পক্ষই ৬১-র ম্যাজিক নম্বর ছুঁতে পারেনি।
- কোনো জোটেই না থাকা আরব দলগুলো ভালো ফল করায় সরকার গঠনের সমীকরণ জটিল হয়ে গেছে।
- চূড়ান্ত ফল ৪ নভেম্বর, বুধবার। এরপর প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানাবেন।
ইসরায়েল নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে কার কত আসন
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ ও আল-জাজিরার বরাতে জানা গেছে, বুথফেরত জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। এগুলো চূড়ান্ত ফল নয়।
| পক্ষ | আসন (বুথফেরত জরিপ) |
|---|---|
| নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট | ৫২ |
| আইজেনকটের বিরোধী জোট | ৪৯ |
| আরব লিস্ট | ১৯ |
| সরকার গঠনের ম্যাজিক নম্বর | ৬১ |
আরব দলগুলো কেন ‘কিংমেকার’ হতে পারে
আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো অভাবনীয় ভালো ফল করেছে। তারা কোনো জোটেরই অংশ নয়।
অন্য দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট গড়তে রাজি হলে সরকার গঠনে তারা নির্ণায়ক শক্তি, অর্থাৎ ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ সেই পথে এগিয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
কে কী বললেন
আইজেনকট বলেছেন, নেতানিয়াহুর প্রতি মানুষের ‘আস্থার সংকট’ বুথফেরত জরিপেই স্পষ্ট। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের দাবি, নেতানিয়াহুর জোট ‘শোচনীয় পরাজয়ের’ মুখে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও লিকুদ নেতা গিদিয়ন সার একে ‘আগাম উদ্যাপন’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, লিকুদ ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল।
২৮ অক্টোবর, বুধবার জেরুজালেমে সমর্থকদের সামনে নেতানিয়াহু বলেন, তাঁরা একটি শক্তিশালী নতুন জাতীয় সরকার গড়বেন।
ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক এহাব জাবারিন বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের ‘স্পষ্ট দুর্বলতা’ দেখতে পাচ্ছেন। তবে তাঁর সতর্কবার্তা, নেতানিয়াহু চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন বা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটেছে, কোনোটাই বলার সময় এখনো আসেনি।
কেউ ৬১ আসন না পেলে ইসরায়েলে সরকার গঠিত হয় কীভাবে?
চূড়ান্ত ফলের পর প্রেসিডেন্ট হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের ডেকে জানতে চাইবেন, তাঁরা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান। এরপর যাঁর সরকার গড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি মনে হবে, তাঁকে তিনি আমন্ত্রণ জানাবেন। সেই ব্যক্তি নেসেটে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাই হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
আমন্ত্রিত নেতা প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রেসিডেন্ট চাইলে আরও ১৪ দিন বাড়াতে পারেন, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৪২ দিন। এই সময়ে দলগুলো নীতিগত দাবি ও মন্ত্রিত্ব নিয়ে দর-কষাকষি করবে।
৬১ আসনের জোট গড়তে না পারলে ওই নেতা ছোট দলগুলোর সমর্থনে সংখ্যালঘু সরকার গড়ার চেষ্টা করতে পারেন। পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী বদলের শর্তে ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতাও একটি পথ। নতুন সরকারকে শপথ নিতে নেসেটে আস্থা ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় জিততে হবে। কিছু দল ভোটদানে বিরত থাকলে ৬১টির কম ভোটেও সরকার গঠন সম্ভব হতে পারে।
আলোচনা ব্যর্থ হলে কী হবে?
প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট নেসেটের আরেক সদস্যকে সরকার গড়ার আহ্বান জানাবেন। তিনিও ২৮ দিন সময় পাবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় একজনের নাম প্রস্তাব করতে পারবেন, যাঁর হাতে থাকবে ১৪ দিন।
এরপরও অচলাবস্থা থাকলে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন হবে। এই সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান থাকবেন।
আগেও কি এমন ঘটেছিল?
হ্যাঁ। নেসেটের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার কারণে ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মার্চের মধ্যে ইসরায়েলিদের তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে হয়েছিল। এরপর নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্টজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়, যেখানে পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল।
বাজেট পাস করতে না পারায় এক বছর পর সেই জোট সরকার ভেঙে যায়।
নেতানিয়াহুর ১৯ বছর
লিকুদ নেতা নেতানিয়াহু প্রায় ১৯ বছর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। গত তিন দশকে নানা রাজনৈতিক সংকট সামলে তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রে টিকে আছেন।
ফলে নেতানিয়াহু ক্ষমতা ধরে রাখতে পারেন, আইজেনকট সরকার গড়তে পারেন, নাকি ইসরায়েল আবারও ভোটের দিকে হাঁটে, তা বোঝা যাবে ৪ নভেম্বরের চূড়ান্ত ফল ও এরপরের দর-কষাকষিতে।










