চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য অধিকার ও সম্মানজনক কর্মজীবনের দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠেছেন সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ)-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এসডিএফ কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, রংপুর অঞ্চল শাখার আয়োজনে রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী জেলায় এসডিএফ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিজ নিজ জেলা অফিসের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
সারাদেশের মতো একই দিনে, একই দাবিতে এই কর্মসূচি হয়।

বক্তব্য: চাকরি হারানোর শঙ্কা
কর্মসূচিতে এসডিএফ কর্মকর্তা বলেন, “নভেম্বরের পঁচিশ তারিখের পর আমরা সবাই বেকার হয়ে যাব। আমাদের বয়স এখন শেষ পর্যায়ে। শরীরের সামর্থ্য থাকলেও বয়স বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে, কোথাও নতুন করে আবেদন করার মতো বয়স আর গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। তাই আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।”
এসডিএফ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁদের চাকরির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে, যার প্রভাব পড়েছে তাঁদের পরিবার-পরিজনের ওপরও।
তাঁরা কোনো করুণা চান না, নিজেদের ন্যায্য অধিকার ও চাকরির নিশ্চয়তা চান।

২০ বছরের কাজ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দায়
বক্তারা আরও জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে এসডিএফে চাকরি করছেন। তাঁদের জীবনের মূল্যবান সময় দিয়েই প্রতিষ্ঠানটি দাঁড় করানো হয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে চলমান যেসব কার্যক্রম রয়েছে, সেগুলো এই কর্মীরাই বাস্তবায়ন করছেন। অথচ এখন নতুন প্রকল্পে তাঁদের বাদ দিয়ে অন্য লোকজনকে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে কর্মীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
বক্তার দাবি, প্রধানমন্ত্রী যেন নতুন প্রকল্প দিয়ে প্রায় দুই হাজার পরিবারের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “আমরা চাকরিজীবী। আমাদের যাতে বেকার হয়ে না পড়ি, আমাদের কর্মসংস্থান যাতে সৃষ্টি হয়, এই দিকে একটু খেয়াল রাখবেন।”
তাঁর মতে, বেকারত্ব মানুষের জীবনে অভিশাপ। নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মীদের আবার চাকরিতে পুনর্বহাল করা হোক, এই আবেদন তিনি জানান।
৪ দফা দাবি
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উত্থাপিত ৪ দফা দাবি হলো:
১. চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি: অবিলম্বে, অর্থাৎ আগামী ২৮ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে।
২. হয়রানি ও চাকরিচ্যুতি বন্ধ: আন্দোলনে অংশ নেওয়া সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং কোনোভাবেই চাকরিচ্যুত করা যাবে না।
৩. নতুন প্রকল্পে নিয়োগের নিশ্চয়তা: নতুন প্রকল্পের বরাদ্দ নিশ্চিত করে বর্তমানে কর্মরত এবং প্রকল্প থেকে বাদ পড়া (ফেইজ আউট) রিলাই ও ফিসারিজ স্টাফদের কোনো পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি নিয়োগ দিতে হবে।
৪. দায়িত্বশীল নেতৃত্বের জবাবদিহিতা: উপরোক্ত দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে এসডিএফের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে এসডিএফের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের দাবিও জানান তাঁরা।

আন্দোলন অব্যাহত থাকবে
বক্তা উপস্থিত অন্য কর্মীদের এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ এবং আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থের আন্দোলন নয়, বরং কর্মীদের চাকরি নিশ্চিত করার আন্দোলন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কর্মীরা। এ বিষয়ে এসডিএফ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!










