জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, পরিচালনা দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ফলে গত ছয় মাসে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২৫ কোটি টাকা বেড়েছে। একই সাথে দেশের প্রতিটি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে একাধিক মেগা প্রকল্প চলমান, যার অন্যতম পঞ্চগড়-কক্সবাজার সরাসরি রেলপথ সংযোগ।
সংক্ষেপে মূল তথ্য:
- ছয় মাসে রেলওয়ের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২২৫ কোটি টাকা
- বর্তমানে দেশে কার্যকর রেলপথের পরিমাণ ৩ হাজার ৪২৮ কিলোমিটার
- পঞ্চগড়-কক্সবাজার সরাসরি সংযোগ হলে কনটেইনার ট্রেন চলাচল বর্তমানের তুলনায় ১০ গুণ বাড়বে
- রুটটি চালু হলে ট্রান্স-এশিয়ান রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হবে বাংলাদেশ
এক নজরে প্রকল্প
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | পঞ্চগড়–কক্সবাজার সরাসরি রেলপথ সংযোগ |
| বর্তমান মোট রেলপথ | ৩,৪২৮ কিলোমিটার |
| অঞ্চলের একীকরণ | রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল |
| প্রধান সুবিধা | কনটেইনার ও পণ্য পরিবহন ১০ গুণ বৃদ্ধি |
| ছয় মাসের আয় বৃদ্ধি | ২২৫ কোটি টাকা |
দূরত্বের হিসাবে, বর্তমানে চালু থাকা পঞ্চগড়-ঢাকা ও ঢাকা-কক্সবাজার রুট দুটির মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১,১০০ কিলোমিটারের বেশি। তবে নতুন সরাসরি সংযোগের চূড়ান্ত দূরত্ব, যাত্রার সময় বা নির্দিষ্ট সমাপ্তির তারিখ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার: এক সুতোয় গোটা দেশ
আলোচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দেশের উত্তর প্রান্ত পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ প্রান্ত কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপন। রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এই সংযোগ বাস্তবায়িত হলে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল সরাসরি একীভূত হবে, ফলে কোনো ধরনের বিরতি বা বগি পরিবর্তন ছাড়াই মালবাহী ও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করতে পারবে।
রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিংস্টক) ফকির মো. মহিউদ্দিন এই প্রকল্পকে রেলের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, দুই প্রান্তে নির্বিঘ্নে ট্রেন চালাতে প্রয়োজনীয় আধুনিক ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের প্রাথমিক কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
রেলওয়ের মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আফজাল হোসেন বলেন, পঞ্চগড় থেকে ঢাকা হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো রুটে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ট্রেন চালানোর জন্য দ্রুততার সঙ্গে কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের অগ্রাধিকার থাকায় দায়িত্বও অনেক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাণিজ্য, পর্যটন ও কৃষিপণ্য পরিবহনে নতুন দিগন্ত
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এই রুট চালু হলে পর্যটন খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। পর্যটকরা উত্তরবঙ্গের সমতল ও চা বাগান থেকে সরাসরি সমুদ্র সৈকতে পৌঁছাতে পারবেন, যা দেশের পর্যটন খাতে রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে।
একই সঙ্গে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিপণ্য এবং দক্ষিণাঞ্চলের লবণ ও শুঁটকি সস্তায় ও দ্রুত সারা দেশে পরিবহন করা সম্ভব হবে বলে জানানো হয়েছে। রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, পুরো রেলপথ একই ধারায় উন্নত হচ্ছে, যার ফলে ট্রেনের সংখ্যা, যাত্রীসেবা ও আয় — তিনটিই বাড়বে।
সংসদে জানানো ছয় মাসের আয় বৃদ্ধির পরিসংখ্যান এবং পঞ্চগড়-কক্সবাজার সংযোগ পরিকল্পনা একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়, রেলওয়ে পরিচালন দক্ষতা ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ — দুই দিকেই এগোতে চাইছে। প্রকল্পের বাজেট ও নির্মাণকাল সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি; নতুন তথ্য পাওয়া গেলে তা যোগ করা হবে।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ছবির পরামর্শ: ১২০০×৬৭৫ সাইজের রেলপথ বা কক্সবাজার এক্সপ্রেসের ছবি, ক্যাপশন: “পঞ্চগড়-কক্সবাজার সরাসরি রেল সংযোগ পরিকল্পনা”










