সিগারেটের প্যাকেটে স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ব্যবহারের পদ্ধতিতে নতুন বিধান যুক্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নিম্নস্তরের সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি ১০ শলাকায় ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী এখন থেকে দাম, শলাকার সংখ্যা ও প্যাকেটের ধরন অনুসারে নির্দিষ্ট রঙের ব্যান্ডরোল ব্যবহার বাধ্যতামূলক হচ্ছে।
সংক্ষেপে যা জানা জরুরি
- নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য এখন ৬৫ টাকা
- মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা ও প্রিমিয়াম স্তর ২১০ টাকা অপরিবর্তিত
- দাম অনুযায়ী প্যাকেটে আলাদা রঙের ব্যান্ডরোল বা স্ট্যাম্প বসাতে হবে
- সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে
ব্যান্ডরোল বা ট্যাক্স স্ট্যাম্প আসলে কী
ব্যান্ডরোল হলো একধরনের নিরাপত্তা-চিহ্নযুক্ত সরকারি স্ট্যাম্প, যা তামাকপণ্যের প্যাকেটে বাধ্যতামূলকভাবে বসাতে হয়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, প্রতিটি প্যাকেট থেকে সরকার সঠিক ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করা। প্যাকেটের গায়ে এই স্ট্যাম্প না থাকলে বা তা নকল হলে সংশ্লিষ্ট পণ্য অবৈধ বলে গণ্য হয়।
দামের নতুন ধাপ কীভাবে ঠিক হলো
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন নিম্নস্তরের প্রতি ১০ শলাকার দাম ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২ টাকা করা হয়, মধ্যম স্তর ৮০ থেকে ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তর ১৮৫ থেকে ২১০ টাকায় নেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি মন্ত্রিসভা নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম আরও বাড়ানোর একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এর ভিত্তিতে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নিম্নস্তরের দাম আরও ৩ টাকা বাড়িয়ে ৬৫ টাকা নির্ধারণের কথা জানানো হয়, যা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর সর্বসাধারণের নজরে আসে। মধ্যম, উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরের দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
নতুন দাম ও ব্যান্ডরোলের রঙ এক নজরে
দাম নির্ধারণের পাশাপাশি ‘উৎপাদিত বা আমদানিকৃত তামাকযুক্ত সিগারেটের মূল্য নির্ধারণসহ প্যাকেটে স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ব্যবহার পদ্ধতি বিধিমালা, ২০১৯’-ও সংশোধন করেছে এনবিআর। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন গত ১৫ সেপ্টেম্বর জারি হয় এবং পরদিন, ১৬ সেপ্টেম্বর তা বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। নতুন টেবিল অনুযায়ী দাম ও ব্যান্ডরোলের রঙের বিন্যাস নিচে দেওয়া হলো —
| সিগারেটের স্তর | প্রতি ১০ শলাকার দাম | প্যাকেটের ধরন | নির্ধারিত ব্যান্ডরোলের রঙ |
|---|---|---|---|
| নিম্ন স্তর | ৬৫ টাকা বা তদূর্ধ্ব | শেল অ্যান্ড স্লাইড (১০ শলাকা) / হার্ড অ্যান্ড সফট (১০ ও ২০ শলাকা) | হালকা সবুজ ও হালকা খয়েরি |
| মধ্যম স্তর | ৯২ টাকা বা তদূর্ধ্ব | শেল অ্যান্ড স্লাইড (১০ শলাকা) / হার্ড অ্যান্ড সফট (১০ ও ২০ শলাকা) | হালকা গোলাপি ও হালকা সবুজ |
| উচ্চ স্তর | ১৬০ টাকা বা তদূর্ধ্ব | হার্ড অ্যান্ড সফট (১০, ১২ ও ২০ শলাকা) | হালকা নীল |
| প্রিমিয়াম স্তর | ২১০ টাকা বা তদূর্ধ্ব | হার্ড অ্যান্ড সফট (১০, ১২ ও ২০ শলাকা) | হালকা মেরুন |
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিধি ৪ ও সংশোধিত বিধি ৫-এর উদ্দেশ্য পূরণে সংশ্লিষ্ট প্যাকেটের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, শলাকার সংখ্যা, প্যাকেটের প্রকৃতি ও নির্ধারিত ডিজাইন অনুযায়ী বিধি ৬-এর বিধান সাপেক্ষে স্ট্যাম্প বা ব্যান্ডরোল ব্যবহার করতে হবে।
খুচরা বাজারে ও ধূমপায়ীদের ওপর প্রভাব
নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্যাকেট ৬৫ টাকা হওয়ায় হিসাব অনুযায়ী প্রতি শলাকার দাম দাঁড়ায় ৬ টাকা ৫০ পয়সা। তবে বাস্তবে খুচরা বাজারে ভাঙতির জটিলতার কারণে বিক্রেতারা প্রায়ই নির্ধারিত হিসাবের চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে দাম নেন, যা সাধারণ ধূমপায়ীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করে।
রঙভিত্তিক ব্যান্ডরোলের পেছনে কারণ
তামাক খাতে রাজস্ব ফাঁকির একটি বড় মাধ্যম হলো নকল বা ভুয়া ব্যান্ডরোল ব্যবহার। দাম-অনুযায়ী আলাদা রঙের স্ট্যাম্প চালু করার ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা সাধারণ ক্রেতারাও প্যাকেটের রঙ দেখে সহজে বুঝতে পারবেন সিগারেটটি কোন মূল্যস্তরের এবং এর ব্যান্ডরোল প্রকৃত না নকল। এতে রাজস্ব ফাঁকি রোধে নজরদারি সহজ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কার্যকর কবে থেকে
সংশোধিত বিধান অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সিগারেট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন দাম ও ব্যান্ডরোল-বিধি অনুসরণ করেই প্যাকেটজাত পণ্য বাজারে ছাড়তে হবে।
আপনাদের প্রশ্ন আমাদের উত্তর: (FAQ)
নিম্নস্তরের সিগারেটের নতুন দাম কত?
প্রতি ১০ শলাকা ৬৫ টাকা, আগে ছিল ৬২ টাকা।
ব্যান্ডরোল কেন ব্যবহার করা হয়?
সরকার প্রতিটি সিগারেট প্যাকেট থেকে সঠিক ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ব্যান্ডরোল ব্যবহার করা হয়।
নতুন বিধান কবে কার্যকর হয়েছে?
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
৪. গোল্ডলিফ, বেনসন বা দামি সিগারেটের দাম কি বেড়েছে?
না, অন্য কোনো স্তরের সিগারেটের দাম বাড়েনি। মধ্যম স্তর (৯২ টাকা), উচ্চ স্তর (১৬০ টাকা) এবং প্রিমিয়াম স্তরের (২১০ টাকা) দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। শুধু নিম্নস্তরের দাম ৬২ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫ টাকা হয়েছে।
৫. খুচরা বাজারে প্রতি এক শলাকা (সিঙ্গেল) সিগারেটের দাম কত পড়বে?
১০ শলাকার প্যাকেট ৬৫ টাকা হিসেবে প্রতি শলাকার সরকারি মূল্য দাঁড়ায় ৬ টাকা ৫০ পয়সা। তবে খুচরা বাজারে ভাংতি সমস্যার কারণে অনেক ক্ষেত্রে দোকানিরা প্রতি শলাকা ৭ টাকা দরে বিক্রি করতে পারে।










