ওমানের রাজধানী মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে গত রোববার হুথি নেতাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠক হয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে। বৈঠকে হুথি প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০২৫ সালে হওয়া যুদ্ধবিরতি মেনে চলার এবং মার্কিন জাহাজে হামলা না চালানোর কথা জানিয়েছে। তবে সৌদি আরবের পতাকাবাহী জাহাজকে এই আশ্বাসের বাইরে রাখা হয়েছে, যার ফলে সৌদি-হুথি উত্তেজনা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এক নজরে মূল তথ্য
- রোববার মাস্কাটের মার্কিন দূতাবাসে হুথি প্রতিনিধিদল ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক, মধ্যস্থতায় ছিল ওমান
- হুথিরা জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজে হামলা চালাবে না, তবে সৌদি জাহাজ এই ছাড়ের বাইরে
- বৈঠকটি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি, রয়টার্স তিনটি সূত্রের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে
- এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের চারটি শহরে ৭৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হন
বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত হুথি নেতা মোহাম্মদ আবদুসসালাম ও আবদেলমালিক আল-আজরির নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল এই বৈঠকে অংশ নেয়। বর্তমানে তারা মাস্কাটেই অবস্থান করছেন। হুথি পক্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছে, তারা ২০২৫ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অটল আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোনো জাহাজে হামলার পরিকল্পনা তাদের নেই।
একটি ইয়েমেনি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, হুথি প্রতিনিধিরা ইসরায়েলি জাহাজ কিংবা অন্য যেকোনো বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা না চালানোর কথাও বলেছে। তবে এই ক্ষেত্রে একমাত্র ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে সৌদি আরবের জাহাজকে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সরাসরি এই বৈঠক নিশ্চিত করেনি, তবে লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা যুক্তরাষ্ট্রের মূল স্বার্থ বলে পুনরায় জানিয়েছে।
হামলার তীব্রতা ও বৈঠকের প্রেক্ষাপট
৯ সেপ্টেম্বরের সেই হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে, বিশেষত জ্বালানি স্থাপনায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। এর দুই দিন পর হুথিরা মোখা শহরের দখল নেয়, যা ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর তাদের সবচেয়ে বড় ভূখণ্ড অর্জন। এরপর শুক্রবার তারা দুবাব দখল করে এবং বাব এল-মানদেব প্রণালীর সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশে অবস্থিত পেরিম দ্বীপেও প্রবেশ করে।
এর আগে ২০ জুলাই হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি টেলিভিশনে ঘোষণা দেন, সৌদি বন্দরে ইয়েমেনি জাহাজ চলাচলে সৌদি আরবের বিধিনিষেধের জবাবে তারা সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করছে। সৌদি আরব বর্তমানে তার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ ইয়ানবুসহ লোহিত সাগরের বন্দর দিয়ে পরিচালনা করে, যা হরমুজ প্রণালীর বিকল্প রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাব এল-মানদেব প্রণালী দিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের একটা বড় অংশ চলাচল করে; বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী প্রণালীটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ প্রায় ৭ শতাংশ কমে যেতে পারে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দিকে ছোড়া একটি ড্রোন সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রবেশ নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ঢোকার আগেই ধ্বংস করে দেয় বলে সৌদি আরব জানিয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি এই ঘটনাকে “শত্রুতামূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” আখ্যা দিয়ে বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে একটি লাল রেখা। চলতি লড়াইয়ে এটিই মক্কা লক্ষ্য করে প্রথম হামলার চেষ্টা।
সৌদি আরবের ঝুঁকি ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব
পাঁচ সপ্তাহ আগে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। সৌদি জাহাজ এই সমঝোতার বাইরে থাকায় লোহিত সাগরে সৌদি শিপিংয়ের ঝুঁকি বহাল থাকছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জাহাজ চলাচল তুলনামূলক নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বৈঠক নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি; এলে তা এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!









