রংপুরসহ ৮ জেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের ২০ লাখ টাকা, আবেদন যেভাবে করবেন

সেপ্টেম্বর 20, 2026 10:27 পূর্বাহ্ন
রংপুরসহ ৮ জেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের ব্যবসা উদ্যোগ ও অর্থায়নের প্রতীকী ছবি

রংপুরসহ দেশের ৮টি জেলায় তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন অর্থায়নের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘উদ্যোগ (UDYOG)’ নামের এই কর্মসূচিতে ১৬ সেপ্টেম্বর, বুধবার থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন, কী কাগজপত্র লাগবে এবং কীভাবে জমা দেবেন — বিস্তারিত জেনে নিন।

সংক্ষেপে মূল তথ্য:

  • সর্বোচ্চ অর্থায়ন ২০ লাখ টাকা — ১০ লাখ ব্যাংকঋণ ও ১০ লাখ অনুদান (৫০:৫০ অনুপাত)
  • রংপুরসহ ৮ জেলার ৬৪ উপজেলায় প্রথম ধাপে আবেদন: ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • বাকি সব জেলার উপজেলার উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন ১ থেকে ৩০ নভেম্বর, ২০২৬
  • বয়সসীমা: আবেদনের শেষ দিনে সর্বোচ্চ ২৮ বছর

কর্মসূচিটি আসলে কী

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি — উদ্যোগ’-এর বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই নীতিমালা পাঠানো হয়েছে।

দেশের প্রান্তিক ও উপজেলা পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা সম্ভাবনাময় তরুণদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত অর্থায়ন ও ব্যবসায়িক সহায়তা দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

আরও পড়ুন  অসুস্থতায় পরীক্ষা মিস করলেও গুনতে হবে জরিমানা, ক্ষুব্ধ বেরোবি শিক্ষার্থীরা

কারা আবেদন করতে পারবেন, কারা পারবেন না

নীতিমালায় নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়েছে:

  • আবেদনকারীকে বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে এবং আবেদনের শেষ তারিখে বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ২৮ বছর
  • সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে
  • একটি চলমান ব্যবসা থাকতে হবে অথবা নতুন উদ্যোগ শুরুর জন্য বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা থাকতে হবে

তবে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি এবং সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতায় অর্থায়ন পাবেন না।

আবেদন ফরম কোথায় পাবেন ও কীভাবে জমা দেবেন

আবেদন ফরম পাওয়া যাবে তিনটি জায়গায় — বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (bb.org.bd), এসএমই পোর্টাল, এবং দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট। ফরম সংগ্রহে বা জমাদানে কোনো ফি লাগবে না।

📥 আবেদন ফরম ডাউনলোড: বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির নির্ধারিত আবেদন ফরমটি সরাসরি ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দেওয়া যাবে। যে ব্যাংকে আবেদন জমা দেওয়া হবে সেখানে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়।

আবেদনের সঙ্গে যেসব কাগজপত্র লাগবে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপি
  • সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের কপি
  • দক্ষতা উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদ (যদি থাকে)
  • ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিক সনদ বা প্রত্যয়নপত্র

প্রতিটি উপজেলায় তফসিলি ব্যাংকের শাখাগুলোর মধ্য থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে, যার মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের আবেদন সমন্বয় করা হবে। জেলা পর্যায়ে একইভাবে থাকবে জেলা লিড ব্যাংক।

রংপুর জেলার কোন উপজেলার উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন

রংপুর জেলার আওতাধীন সব কটি উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দারা এই প্রথম ধাপেই আবেদন করতে পারবেন — রংপুর সদর, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ এবং তারাগঞ্জ। প্রতিটি উপজেলার তফসিলি ব্যাংক শাখাতেই ফরম জমা দেওয়া যাবে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশে ঋণ খেলাপির শাস্তি হয় না কেন, খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা

কত টাকা মিলবে, কীভাবে হিসাব হবে

খাতপরিমাণ
সর্বোচ্চ মোট অর্থায়ন২০ লাখ টাকা
সর্বোচ্চ ব্যাংকঋণ অংশ১০ লাখ টাকা
সর্বোচ্চ অনুদান অংশ১০ লাখ টাকা
ঋণ-অনুদান অনুপাত৫০:৫০

প্রত্যেক উদ্যোক্তা যে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকাই পাবেন, তা নয়। ব্যবসার প্রকৃত প্রয়োজন, সম্ভাব্যতা ও প্রস্তাবিত ব্যয় মূল্যায়ন করে অর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। যেমন কারও ব্যবসার জন্য ১২ লাখ টাকা প্রয়োজন হলে তিনি সর্বোচ্চ ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পেতে পারেন।

নীতিমালার শর্তে বলা হয়েছে, এই ঋণের জন্য কোনো জামানত লাগবে না, এবং ঋণ ও অনুদান একসঙ্গে এক কিস্তিতে সরাসরি উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে — কোনো নগদ পরিশোধ করা হবে না। (সুদের হার ও ঋণ পরিশোধের নির্দিষ্ট মেয়াদ এখন পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।)

নির্বাচিত হলেই কি ঋণ নিশ্চিত?

না। নির্বাচিত হলেই ঋণ পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকবে না। চূড়ান্ত মনোনয়নের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নিজস্ব ঋণনীতি ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ করে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করবে। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে তার কারণ লিখিতভাবে সংরক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে কী হবে?

নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে — নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ না করলে অথবা তহবিল অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে, অনুদানের অংশটুকুও প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায়যোগ্য সরকারি ঋণে রূপান্তরিত হবে।

আরও পড়ুন  মিটার নেই, সংযোগও নেই—তবু গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল

আপনার ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় যা থাকা দরকার

আবেদনের সঙ্গে একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দেখাতে হয়। সাধারণত এমন একটি পরিকল্পনায় স্পষ্টভাবে থাকা উচিত:

  • আপনার ব্যবসার মূল পণ্য বা সেবা কী
  • সম্ভাব্য ক্রেতা কারা এবং বাজারে এর চাহিদা কেমন
  • মোট প্রয়োজনীয় মূলধন ও আয়ের আনুমানিক হিসাব
  • এই অর্থায়নে কতজনের নতুন কর্মসংস্থান হবে

অর্থায়নের বাইরে আর কী সহায়তা মিলবে

শুধু টাকা নয়, নির্বাচিত উদ্যোক্তারা ব্যবসা পরিচালনায়ও সহায়তা পাবেন। প্রত্যেক আবেদনকারীকে আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। নির্বাচিতরা এছাড়াও পাবেন উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের ধারাবাহিক পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধনে সহায়তা এবং বাজারসংযোগের সুযোগ। নির্বাচিত উদ্যোক্তাদের দেওয়া ঋণ প্রযোজ্য শর্ত সাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট রিফাইন্যান্সিং স্কিমের আওতায়ও আসবে বলে জানা গেছে।

নিয়ম ভাঙলে কী হবে

এই কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো ধরনের তদবির করা যাবে না — তদবিরের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর প্রার্থিতা বাতিল হবে। মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গে আবেদনকারীকে অযোগ্য ঘোষণা ও কালো তালিকাভুক্ত করা হতে পারে।

সাধারণ প্রশ্ন

উদ্যোগ কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ কত টাকা পাওয়া যাবে?
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মিলতে পারে, যার মধ্যে ১০ লাখ ব্যাংকঋণ ও ১০ লাখ অনুদান।

রংপুরের কোন কোন উপজেলার উদ্যোক্তারা আবেদন করতে পারবেন?
রংপুর জেলার সব কটি উপজেলা — রংপুর সদর, বদরগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, মিঠাপুকুর, পীরগাছা, পীরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ।

ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত লাগবে কি?
না, এই কর্মসূচির আওতায় ঋণের জন্য কোনো জামানত বাধ্যতামূলক নয়।

সরকারি চাকরিজীবীরা কি আবেদন করতে পারবেন?
না। সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতায় অর্থায়ন পাবেন না।

আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবেন যেভাবে

কেবল ফরম পূরণ করলেই ঋণ পাওয়া নিশ্চিত নয় — ব্যাংকগুলো মূলত দেখে ব্যবসার সম্ভাব্যতা ও উদ্যোক্তার সততা। আবেদন করার সময় কাল্পনিক বাজেট না দেখিয়ে বাস্তবসম্মত খরচের হিসাব দিন।

কোনো ট্রেড লাইসেন্স বা পূর্ব অভিজ্ঞতার সনদ থাকলে তা অবশ্যই যুক্ত করুন। মনে রাখবেন, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই সরাসরি ব্যাংকের শাখা থেকে ফরম জমা নেওয়া হচ্ছে — তাই নিজেই সরাসরি সংশ্লিষ্ট উপজেলার লিড ব্যাংক শাখায় যোগাযোগ করুন।

📢 সবার আগে চাকরির খবর ও তাজা সংবাদের আপডেট পেতে আমাদের- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

Juger Alo

তথ্যের সত্যতা ও বস্তুনিষ্ঠতায় বিশ্বাসী Juger Alo টিম। পাঠকদের কাছে দ্রুত সঠিক খবর, চাকরি ও ক্যারিয়ারের আপডেট এবং সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now