এসএসসি পরীক্ষা, বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতি বছর, ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের অন্যতম বড় পরীক্ষার মধ্যে এসএসসি অন্যতম। তবে এবারের এসএসসি পরীক্ষার রুটিন নিয়ে একটি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, যা অনেকের কাছেই উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে।
তবে সবশেষে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নতুন রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে এবং পরীক্ষা ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
চলুন, জানি কীভাবে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং এর সমাধানে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
যুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
রুটিনের প্রথম ঘোষণায় বিতর্কের সৃষ্টি
২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার জন্য যে রুটিন প্রথম প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে ২০ এপ্রিল গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, ২০ এপ্রিল ছিল ইস্টার সানডে, যা খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। এই কারণে, খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা এবং তাদের অভিভাবকরা পরীক্ষা তারিখ পরিবর্তনের দাবি জানান।
তাদের অভিযোগ ছিল যে, এই তারিখে পরীক্ষা হলে ধর্মীয় উৎসবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং এটি তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে।
এ বিষয়ে দেশের একমাত্র ডিজিটাল শিক্ষা পত্রিকা দৈনিক শিক্ষাডটকম এবং প্রিন্ট মিডিয়া দৈনিক আমাদের বার্তা একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।
শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের ক্যাথলিক শিক্ষা বোর্ডের নির্বাহী সচিব জ্যোতি এফ গমেজ ২৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের কাছে একটি চিঠি পাঠান, যেখানে ইস্টার সানডের দিনে এসএসসি পরীক্ষা রাখার কারণে অসন্তোষ এবং উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
আরো পড়ুন: ২১ বছর পর ঢাবির হলে মাইকে আযান: আবেগে আপ্লুত শিক্ষার্থীরা
আরও পড়ুন
চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ
চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়টি নিয়ে একটি চিঠি পাঠায়। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড নতুন রুটিন প্রকাশ করে। নতুন রুটিন অনুযায়ী, ২০ এপ্রিলের গণিত পরীক্ষা ২১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।
এসএসসি পরীক্ষার নতুন রুটিন: কী পরিবর্তন এসেছে?
নতুন রুটিন অনুযায়ী, এসএসসি পরীক্ষা ১০ এপ্রিল শুরু হবে, যা বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার মাধ্যমে শুরু হবে। আগে ৮ মে পর্যন্ত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা ছিল, তবে সময়সূচি সংশোধন করে ১৩ মে পর্যন্ত পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে, ১৩ এপ্রিল বাংলা ২য় পত্রের পরীক্ষা ছিল, তবে বৈসাবি উৎসবের কারণে এই পরীক্ষা ১৩ মে অনুষ্ঠিত হবে।
এরপর, ২০ এপ্রিলের গণিত পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর, তা পেছানো হয়েছে এবং নতুন সময়সূচি অনুযায়ী ২১ এপ্রিল গণিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
এসএসসি পরীক্ষা ২০২৫-এ মোট ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবেন, এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ১ হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৯১টি।
এছাড়া, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন পরীক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবেন।
শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
এখন যেহেতু নতুন রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় খবর। শিক্ষার্থীদের উচিত এই নতুন সময়সূচি অনুযায়ী প্রস্তুতি নেয়া এবং পরীক্ষার তারিখের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন না হওয়া।
পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন একটি সাধারণ ঘটনা, যা মাঝে মধ্যে ঘটে। তাই, শিক্ষার্থীদের উচিত ধৈর্য ধারণ করা এবং নিজেদের প্রস্তুতিতে মনোযোগী হওয়া।
অন্যদিকে, অভিভাবকদেরও উচিত সন্তানদের সহায়তা করা, তাদেরকে উদ্বেগমুক্ত রাখা এবং সময়মতো পড়াশোনা করতে উৎসাহিত করা। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, তাই তাদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
পরীক্ষার প্রস্তুতি: কীভাবে ভালো প্রস্তুতি নেয়া যায়?
এবার এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস দেয়া যেতে পারে:
- সময়সূচি তৈরি করুন: নতুন সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিনের পড়াশোনা ও প্রস্তুতির জন্য একটি সঠিক সময়সূচি তৈরি করুন এবং তা মেনে চলুন।
- বিভাগভিত্তিক পড়াশোনা: যে বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, সেই বিষয়ে বেশি সময় দিন। গাণিতিক সমস্যা সমাধান বা বাংলা সাহিত্য অধ্যয়ন, যেগুলোর জন্য বেশি সময় দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করুন।
- নমুনা প্রশ্নপত্র সমাধান করুন: বিগত বছরের প্রশ্নপত্র ও নমুনা প্রশ্নপত্র সমাধান করলে পরীক্ষার ধরন বুঝতে সাহায্য হবে এবং সময় ব্যবস্থাপনা শিখতে পারবেন।
- বিশ্রাম নিন: পড়াশোনার পাশাপাশি ভালো বিশ্রামও প্রয়োজন। প্রচুর পড়াশোনা করলে মন্থরতা বাড়তে পারে, তাই প্রতিদিন কিছু সময় বিশ্রাম নিন।
শেষ কথা: এসএসসি পরীক্ষার রুটিন
এসএসসি পরীক্ষার রুটিন নিয়ে যা বিতর্ক হয়েছিল, তা শেষ পর্যন্ত সমাধান হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা নতুন রুটিন অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এবার তাদের উচিত সেই প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দেয়া এবং পরীক্ষার তারিখের পরিবর্তন নিয়ে উদ্বিগ্ন না হয়ে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা দেয়া।
এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হতে পারে, যা তাদের শিক্ষার ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে। পরীক্ষায় সাফল্য লাভের জন্য প্রস্তুতি ও মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।



