তরিকুল ইসলাম
আমাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করে তোমার প্রিয় শিক্ষকের নাম কি? বলবো স্যার খতিবর রহমান। তিনি শুধু আমার না অনেকেই প্রিয় স্যার ছিলেন।
গত শনিবার (১৩ এপ্রিল,২০২৪) মরহুম খতিবর রহমান স্যারের স্মরণে তাঁর প্রাক্তন ছাত্ররা একটি স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল ভাউলাগঞ্জের চিলাহাটি ইউনিয়ন পরিষদের মাঠে। ঠিক সেদিনই ছুটি শেষে আমাকে রংপুরে চলে আসতে হয়েছিল। যদিও অনুষ্ঠানের খবরটি আমি আগে জানতাম না। তবে বিআরটিসি-তে ১০.৩০ মিনিটে ভাউলাগঞ্জের উঠার সময় খেয়াল করেছিলাম স্টেজ সাজানো হয়েছে। কিন্তু কি আর করার চলে আসতে হয়েছে…
যুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন
পরদিন ছোট ভাই আবু বকর সিদ্দিক ( সহকারী জজ, ঠাকুরগাঁও) আমাকে ফোন করেছিল। স্যারের অনুষ্ঠান ও গ্রুপ নিয়ে বেশ কিছু কথা হলো তার সাথে। শুনলাম অনেক সুন্দর হয়েছিল অনুষ্ঠানটি। ছোট ভাইয়েরা অনুষ্ঠানটি সুন্দর ভাবে সুসম্পন্ন করেছে।
"স্যার খতিবর রহমান স্মৃতি পরিষদ " নামে একটা গ্রুপ ও পেজ ওপেনও করেছে তারা। শুনার পর আমার মধ্যে একটা ভীষণ ভালো লাগা কাজ করছে। কারণ স্যার ভাউলাগঞ্জে আসার পর সম্ভবত আমরাই স্যারের প্রথম ব্যাচ ছিলাম। স্যারের সাথে অনেক স্মৃতি আছে আমাদের। তাছাড়া স্যারের মৃত্যুটা আমি খুবই কাছ থেকে দেখেছিলাম।
স্যার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যখন খুবই মুমূর্ষু অবস্থায় তখন আমি আর নাজমুল সিদ্দিকী রাজু ভাই ( বর্তমানে রংপুর মাহিগঞ্জ কলেজের ইংরেজি শিক্ষক) হাসপাতালে ছিলাম সাথে স্যারের এক ভাই ও একজন মহিলা ছিলেন।
স্যারের পরিবারের সিদ্ধান্ত মত স্যারকে বাড়িতে নিয়ে যেতে হবে। রাজু ভাইসহ হাসপাতালের নীচ তলায় নামানো হলো স্যারকে। তখন রাত আনুমানিক ১২ টা বাজে। হাসপাতালে দালালদের সে কি খারাপ আচরণ আজো আমার মনে আছে।
আরো পড়ুন: মাত্র ১ টাকা: সবে মাত্র এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি-একটি ছোট গল্প
অবশেষে রাত ১ টার দিকে একটা মাইক্রো বাসে স্যারকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেই আমরা। স্যার তখনও জীবিত ছিলেন। আমার ডান হাতে স্যারের মাথা দেওয়া, স্যার কথা বলতে পারছিলেন না। হঠাৎ প্রচন্ড জোরে স্যার নড়াচড়া করতে থাকে। আমাদের বুজতে বাকী নেই এখন কী হবে। মাইক্রোবাসে কান্নার রোল পড়ে গেল। স্যার আর নেই….
আরও পড়ুন
এখনো মনে হলে শরীর শিউরে উঠে আমার। স্যারকে নিয়ে ভোর সম্ভবত ৪ টায় স্যারের তৎকালীন সীট মহলের বাড়িতে পৌঁছাই আমরা। স্যারকে রেখে সকালেই রওনা দিয়েছিলাম রংপুরের উদ্দেশ্য। কারণ তখন রংপুরে একটা বেসরকারি সংস্থায় চাকরিরত ছিলাম আমি। স্যারের জানাজায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি…..হতভাগা আমি।
আজকে এতো বছর পর স্যার সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে, স্যারের স্মৃতি চারণ হচ্ছে, দোয়া মাহফিল হচ্ছে….. আল্লাহ স্যারকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন সেই কামনা করি….আমিন। [ আমার বিশ্বাস স্যারকে নিয়ে একদিন মানুষ গবেষণা করবে ] আমার প্রিয় স্যার একদিন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে ইনশাআল্লাহ।
তরিকুল ইসলাম, আঞ্চলিক ব্যবস্হাপক, সোসাইটি ফর সোসাল সার্ভিস (এসএসএস), জামালপুর।