চোখ বন্ধ করে কল্পনা করুন—আপনি হেঁটে চলেছেন এমন এক জায়গায়, যেখানে দেয়ালে টাঙানো শতাব্দী পুরোনো ইতিহাস, পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলার বীরেরা, আর সামনেই শুয়ে আছে প্রাচীন সভ্যতার চিহ্ন! ঠিক এমনই এক অনন্য অভিজ্ঞতা আপনাকে উপহার দেয় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর।
শুধু শিক্ষার্থীদের জন্য নয়—এই জাদুঘর একেবারে সবার জন্য। ইতিহাসপ্রেমী, শিল্পানুরাগী, কিংবা পরিবার নিয়ে একটা জানাশোনার ভ্রমণ খুঁজছেন—জাতীয় জাদুঘর সবাইকে মুগ্ধ করে। ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে অবস্থিত এই জাদুঘর আমাদের অতীতের সংগ্রাম, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং গৌরবময় ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।
এই ব্লগে আপনি জানতে পারবেন:
- খোলার সময় ও বন্ধের দিন
- টিকিট কাটার নিয়ম
- ভিতরে কী কী দেখার মতো আছে
- স্থাপত্য ও স্থপতির পরিচয়
- ভ্রমণ সংক্রান্ত দরকারি পরামর্শ
চলুন, একবার ঘুরে আসা যাক বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে চমকপ্রদ জাদুঘর থেকে—একেবারে গাইডসহ!
বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘর কোথায় অবস্থিত?
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর অবস্থিত ঢাকার প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে। এটি এমন একটি এলাকা যেখানে ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতির এক অপূর্ব মিলন ঘটে। পাশে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ গণগ্রন্থাগার, এবং ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান—সব মিলিয়ে যেন একটা ছোট্ট সংস্কৃতির জোন।
আপনি যদি ঢাকার যে কোনো জায়গা থেকে আসেন, সহজেই এখানে পৌঁছাতে পারবেন। লোকাল বাস, সিএনজি, রিকশা, এমনকি Uber – সবকিছুই এখানে সহজলভ্য। যারা বাইরে থেকে আসছেন, তাদের জন্য শাহবাগ একটি চেনা নাম। ভিড় থাকলেও পরিবেশটি রোমাঞ্চকর।
সংক্ষেপে:
অবস্থান: শাহবাগ, ঢাকা
নির্দেশনা: গুগল ম্যাপে “Bangladesh National Museum” লিখলেই পথনির্দেশনা পেয়ে যাবেন!
আরো পড়ুন: ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারেন ৫টি দেশ, খরচও অনেক কম

জাতীয় জাদুঘর খোলার সময়সূচী ও সাপ্তাহিক বন্ধ
জাতীয় জাদুঘরে যাওয়ার আগে একবার দেখে নিন সময়সূচী ও ছুটির দিনগুলো—না হলে গিয়ে হোঁচট খেতে পারেন।
আরও পড়ুন
জাতীয় জাদুঘর সাপ্তাহিক বন্ধ সময়সূচী:
দিন | খোলার সময় |
---|---|
শনিবার থেকে বুধবার | সকাল ১০টা – বিকেল ৫টা |
শুক্রবার | বিকেল ৩টা – রাত ৮টা |
বৃহস্পতিবার | ❌ বন্ধ |
বিশেষ দিন বা অনুষ্ঠান উপলক্ষে সময়সূচিতে পরিবর্তন হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে জাতীয় জাদুঘরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ দেখে নেয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
সরকারি ছুটি:
সরকার ঘোষিত ছুটির দিনগুলোতে জাদুঘর বন্ধ থাকে। তবে কিছু উৎসব বা বিশেষ দিবসে এটি খোলা থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগেই বিজ্ঞপ্তি দেয়।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশি পর্যটক না আসায় ধস নেমেছে ভারতের পর্যটন ব্যবসায়
জাতীয় জাদুঘরের টিকিট কাটার নিয়ম
জাতীয় জাদুঘরে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে অবশ্যই টিকিট কাটতে হবে। তবে চিন্তার কিছু নেই—টিকিটের দাম একেবারেই স্বল্পমূল্যের, যেন সবাই ইতিহাস জানার সুযোগ পায়।
টিকিট মূল্য:
শ্রেণি | টিকিট মূল্য |
---|---|
প্রাপ্তবয়স্ক (বাংলাদেশি) | ২০ টাকা |
ছাত্র-ছাত্রী | ৫ টাকা |
বিদেশি নাগরিক (প্রাপ্তবয়স্ক) | ৫০০ টাকা |
বিদেশি নাগরিক (ছাত্র) | ১০০ টাকা |
ছোট বাচ্চাদের জন্য অনেক সময় ফ্রি এন্ট্রির সুযোগ থাকে, তবে এটি নির্ভর করে বয়স ও সময়ের ওপর।
টিকিট কাটা কোথায় ও কীভাবে?
- আপনি চাইলে জাদুঘরের প্রধান গেটেই টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতে পারবেন।
- বর্তমানে চালু হয়েছে অনলাইন টিকিটিং সিস্টেম। ঘরে বসেই মোবাইল থেকে টিকিট কেটে ফেলা যায়। এটি বিশেষ করে ছুটির দিনে অনেক ভিড় থেকে বাঁচায়।
- অনলাইন টিকিট কিনতে পারেন: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
প্রবেশপথ:
টিকিট হাতে থাকলে নিরাপত্তা চেক শেষে নির্ধারিত গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। টিকিট হারিয়ে গেলে পুনরায় সংগ্রহ করতে হতে পারে।
আরো পড়ুন: এক্স মানে কি গুগল? না জানলে জেনে নিন এর বিভিন্ন অর্থ ও ব্যবহার
বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরের ইতিহাস ও পরিচয়
১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘর প্রথমে ছিল “ঢাকা মিউজিয়াম” নামে পরিচিত। পরে ১৯৮৩ সালের ২০ মার্চ, সরকারিভাবে এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দেওয়া হয়। এটি বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পরিচালিত, এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ।
জাতীয় জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা কে?
ঢাকা মিউজিয়াম গঠনে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন ফিলিপ লেনার্ড (Phillip Leonard), তবে এটিকে জাতীয় জাদুঘরের মর্যাদা দিতে যারা কাজ করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী, যিনি ছিলেন প্রথম কিউরেটর।
জাতীয় জাদুঘরের ভিতরে কী কী দেখতে পাবেন?
জাতীয় জাদুঘরে ঢুকলেই আপনি যেন এক নতুন দুনিয়ায় প্রবেশ করবেন—এটা শুধু কোনো ভবন নয়, বরং বাংলাদেশের অতীত, গৌরব, সংস্কৃতি এবং সংগ্রামের জীবন্ত দলিল।
জাদুঘরের গ্যালারিগুলোতে যা যা আছে:
জাতীয় জাদুঘরের ভেতরে রয়েছে ৪৬টি গ্যালারি, যেগুলো চারটি তলায় সাজানো। প্রতিটি গ্যালারি আলাদা আলাদা বিষয়ের উপর ভিত্তি করে ডিজাইন করা হয়েছে:
- প্রাক-ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন:
এখানে আছে মহেঞ্জোদারো, পাহাড়পুর, ও ময়নামতির খনন থেকে পাওয়া প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন। এক ঝলকেই আপনি হাজার বছরের ইতিহাস চোখের সামনে দেখতে পাবেন। - মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি:
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের ছবি, অস্ত্রশস্ত্র, যুদ্ধকালীন দলিল ও রেকর্ড রাখা আছে এখানে। অনেক দর্শনার্থীর চোখে পানি আসে এই অংশে ঘুরতে গিয়ে। - শিল্পকলা ও চিত্রকর্ম গ্যালারি:
জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসানসহ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শিল্পীদের দুর্লভ সব চিত্রকর্ম রাখা আছে এখানে। পেইন্টিং ভালোবাসেন? তাহলে এই গ্যালারি আপনার জন্য। - জীববিজ্ঞান ও ভূগোল বিভাগ:
পশু-পাখির মডেল, খনিজ পদার্থ, মানচিত্র ও জীববৈচিত্র্যের উপর নানা উপকরণ পাওয়া যাবে এই বিভাগে। - লোকজ সংস্কৃতি ও বাদ্যযন্ত্র:
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ সংস্কৃতি, পোশাক, বাদ্যযন্ত্র, হস্তশিল্প ও গ্রামীণ জীবনের প্রতিচ্ছবি এখানে ফুটে উঠেছে।
শিশুদের জন্যও কিছু ইন্টার্যাকটিভ ডিসপ্লে আছে, যেগুলো থেকে তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে।
আরো পড়ুন: ২৪০ টাকা ফ্রী বিকাশ পেমেন্ট – সত্যিটা কী? অফার নেই, কিন্তু ইনকামের সুযোগ আছে!
জাতীয় জাদুঘরের স্থাপত্য ও স্থপতি
জাতীয় জাদুঘর শুধু এর সংগ্রহ দিয়েই নয়, এর স্থাপত্যশৈলী দিয়েও দর্শকদের মুগ্ধ করে। পুরো ভবনটি ৪ তলা বিশিষ্ট এবং প্রায় ২০,০০০ বর্গমিটার জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।
স্থাপত্য কেমন?
- আধুনিক স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী বাংলার মিশ্র রূপ দেখা যায়।
- প্রবেশমুখে একটি বিশাল ফোয়ারার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশকে তুলে ধরার প্রতীকী শিল্পকর্ম।
- অভ্যন্তরে আলোকসজ্জা, বিশাল গ্যালারি, প্রশস্ত করিডোর এবং আরামদায়ক বসার স্থান দর্শনার্থীদের আরাম দেয়।
জাতীয় জাদুঘরের স্থপতি কে?
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের ডিজাইন করেন খ্যাতিমান স্থপতি মিনারুল হোসেন। তাঁর নিখুঁত ডিজাইন এবং পরিকল্পনার কারণে এটি শুধু একটি জাদুঘর নয়—একটি শিল্পকর্মও বটে।
স্থাপত্যটি এমনভাবে নির্মিত যাতে করে দর্শনার্থীরা দীর্ঘক্ষণ ঘুরে বেড়ালেও ক্লান্ত না হন। প্রবেশ থেকে শুরু করে শেষ গ্যালারি পর্যন্ত প্রতিটি কোণ thoughtfully design করা।
বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য এতই সমৃদ্ধ, যা শুধু একটি জাদুঘরে তুলে ধরা সম্ভব নয়। তাই জাতীয় জাদুঘরের পাশাপাশি দেশে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও দর্শনীয় জাদুঘর গড়ে উঠেছে, যেগুলো ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও স্মৃতিকে সংরক্ষণ করে রেখেছে।
কিছু উল্লেখযোগ্য জাদুঘর:
- লালবাগ কেল্লা জাদুঘর – ঢাকা:
মুঘল আমলের ঐতিহাসিক লালবাগ দুর্গের ভেতর অবস্থিত এই জাদুঘরে দেখা যায় পুরাতন অস্ত্র, কাগজপত্র, মুদ্রা ও ঐতিহাসিক বস্তু। এটি ঢাকা শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। - বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল জাদুঘর – ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের স্মৃতিরক্ষার্থে নির্মিত এই জাদুঘর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য। - বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর – রাজশাহী:
বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাদুঘরগুলোর একটি। এখানে সংরক্ষিত রয়েছে বহু প্রাচীন শিল্পকর্ম, মূর্তি, মুদ্রা, হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন। বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রাচীন ইতিহাস জানতে চাইলে এই জাদুঘর আপনার must-visit তালিকায় থাকা উচিত।
জাতীয় জাদুঘর বনাম অন্যান্য জাদুঘর:
যদিও এসব জাদুঘর নিজ নিজ এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ও গর্বের বিষয়, তবুও জাতীয় জাদুঘরই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ও সমৃদ্ধ জাদুঘর। এর সংগ্রহ, আকার, গ্যালারি সংখ্যা ও দর্শনার্থীর দিক থেকে এটি সবচেয়ে এগিয়ে।
যদি আপনি বাংলাদেশের জাদুঘর সংস্কৃতি নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা পেতে চান, তাহলে জাতীয় জাদুঘর ঘুরে দেখার পাশাপাশি এই অন্যান্য জাদুঘরগুলোও ঘুরে দেখার মতো।
আরো পড়ুন: ফেসবুক স্টোরি থেকে আয়ের সুযোগ: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য সুখবর, পারবনে আপনিও


প্রাসঙ্গিক তথ্য ও দর্শনার্থীদের পরামর্শ
জাতীয় জাদুঘর ঘুরতে গেলে শুধু ইতিহাস জানলেই হয় না—কিছু নিয়ম-কানুন ও ছোট্ট পরামর্শ মেনে চললে আপনার অভিজ্ঞতা হবে আরও মসৃণ ও উপভোগ্য। চলুন দেখে নেওয়া যাক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:
ছবি তোলার নিয়ম
প্রথমেই প্রশ্ন আসে—ছবি তোলা যাবে কি না?
হ্যাঁ, কিছু গ্যালারিতে আপনি মোবাইল বা ক্যামেরায় ছবি তুলতে পারবেন, তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও সংরক্ষিত নিদর্শনের সামনে ছবি তোলা নিষিদ্ধ। ফ্ল্যাশ ব্যবহার একেবারে নিষিদ্ধ।
- পরামর্শ: ছবি তুলতে চাইলে গাইড বা স্টাফদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে নিন।
ব্যাগ এবং নিরাপত্তা
বড় ব্যাগ বা ব্যাকপ্যাক নিয়ে ঢুকলে আপনাকে সিকিউরিটি চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। কিছু সময় ব্যাগ গেটেই জমা রাখতে বলা হতে পারে।
- পরামর্শ: শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখুন।
খাবার নেওয়া যাবে না
জাদুঘরের ভেতরে কোনো ধরনের খাবার বা পানীয় নিয়ে প্রবেশ করা কঠোরভাবে নিষেধ। এটি সংগ্রহ রক্ষার স্বার্থেই করা হয়েছে।
- পরামর্শ: বাইরে খেয়ে নিন বা কাছাকাছি কোনো রেস্টুরেন্টে বসে খেয়ে তারপর প্রবেশ করুন।
গাইড নিতে চান?
আপনি চাইলে অভিজ্ঞ গাইড নিতে পারেন, যারা প্রতিটি গ্যালারির তথ্য সুন্দর করে ব্যাখ্যা করে থাকেন। এটি বিশেষ করে বাচ্চাদের ও শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই উপকারী।
- পরামর্শ: গাইডের সহযোগিতায় আপনি অনেক অজানা ইতিহাস জানতে পারবেন, যা নিজের চোখে দেখা যতটা আনন্দদায়ক, গল্পে শোনা ততটাই স্মরণীয়।
শিশুদের নিয়ে গেলে কী করবেন?
জাদুঘর ঘোরার সময় যদি আপনার সঙ্গে ছোট শিশু থাকে, তাদের নিরাপত্তা ও অন্য দর্শনার্থীর স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে চলা জরুরি।
- পরামর্শ: শিশুদের যেন দৌড়াদৌড়ি না করে, উচ্চস্বরে কথা না বলে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
আরো পড়ুন: ড ইউনুস কোন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন? কী এমন কাজ করেছেন যা বদলে দিয়েছে দারিদ্র্যের সংজ্ঞা?
FAQ (প্রশ্নোত্তর বিভাগ)
জাতীয় জাদুঘর ঢাকার কোথায় অবস্থিত?
ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে।
জাদুঘর কবে বন্ধ থাকে?
প্রতি বৃহস্পতিবার এবং সরকারি ছুটির দিনে বন্ধ থাকে।
জাতীয় জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা নাম কি?
মূলত প্রতিষ্ঠার পেছনে অবদান রাখেন ফিলিপ লেনার্ড ও ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী।
জাতীয় জাদুঘরের ভিতরে ছবি তোলা যায় কি?
কিছু নির্দিষ্ট গ্যালারিতে ছবি তোলা যায়, তবে ক্যামেরা ব্যবহার নিয়ম সাপেক্ষে।
বাংলাদেশে কতটি প্রধান জাদুঘর আছে?
জাতীয় জাদুঘর ছাড়াও প্রায় ১৫০টিরও বেশি জাদুঘর রয়েছে, তবে রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব অনুযায়ী ৫-৬টি উল্লেখযোগ্য।
শেষ কথা
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর শুধু দেয়ালের মাঝে আটকে থাকা নিদর্শনের সংগ্রহ নয়—এটি আমাদের ইতিহাসের এক অনন্য জীবন্ত অধ্যায়। এখানে প্রতিটি গ্যালারিতে লুকিয়ে আছে আমাদের বর্ণাঢ্য অতীত, গৌরবময় সংগ্রাম আর অসাধারণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নিদর্শন।
একবার ঢুকে পড়লে আপনি হারিয়ে যাবেন বাংলার হাজার বছরের যাত্রাপথে। নতুন প্রজন্মের জন্য এটি একটি শেখার ক্ষেত্র, আর প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এটি স্মৃতি রোমন্থনের জায়গা। শিক্ষাসফর হোক কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো—জাতীয় জাদুঘর প্রতিবারই নতুন কিছু শেখায়, নতুন করে দেশকে ভালোবাসতে শেখায়।
তাই আর দেরি না করে আজই পরিকল্পনা করুন। ফোনের ক্যামেরা চার্জ করে, মনটা ইতিহাসে রাঙিয়ে চলুন একবার জাতীয় জাদুঘরের পথে। বিশ্বাস করুন, প্রতিটি পদক্ষেপেই আপনি একটু করে ফিরে যাবেন বাংলাদেশের মূল শেকড়ের দিকে।