টয়লেটযুক্ত গোসলখানায় অযু করার সময় দোয়া পড়া যাবে কি?

অযুর দোয়া ও নিয়ত

আমাদের দেশের অধিকাংশ বাড়িতে বিশেষ করে শহরাঞ্চলে গোসলখানা ছাড়া অন্য কোথাও অযু করার জায়গা থাকে না। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই টয়লেটে অযু করতে হয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে টয়লেটযুক্ত গোসলখানায় অযু করার সময় দোয়া পড়া যাবে কি? বা অযুর দোয়া ও নিয়ত করা যাবে কি?

আরও পড়ুন: জান্নাতে যেতে চান? করতে হবে ৪ আমল

বিভিন্ন হাদিসে বর্ণিত আছে যে, অযুর আগে ও পরে বেশ কিছু দোয়া আছে যেগুলোর ফজিলত আছে। যেমন ‘বিসমিল্লাহ’ বলে অজু শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সুন্নত।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘বিসমিল্লাহি ওয়াল-হামদুলিল্লাহ’ পড়ে অজু করলে যতক্ষণ অযু থাকবে, ফেরেশতাগণ তার নামে সাওয়াব লিখতে থাকবেন, যদিও সে কোন মুবাহ কাজে লিপ্ত থাকে। (তাবরানি)

কিন্তু অনেকে এ দোয়া পড়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। অধিকাংশ লোকের জিজ্ঞাসা হচ্ছে যে, টয়লেট যেহেতু একটি অপবিত্র স্থান। এই টয়লেটযুক্ত গোসলখানায় অযু করার সময় অযুর দোয়া ও নিয়ত করা যাবে কি? আর দোয়া পড়লে কি গোনাহ্গার হবো কিনা।

এই বিষয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কিছু মানুষ মনে করেন যে, টয়লেটে অযু করা উচিত নয় কিন্তু অন্যরা বলেন যে, এটা সম্পূর্ণ ঠিক। এই বিষয়ে সঠিক তথ্য জানার জন্য আমরা ধর্মীয় বিদেশী ও স্থানীয় বিদেশীদের সাথে কথা বলেছি।

একজন স্থানীয় ইমাম বলেন, “টয়লেটে অযু করা যাবে কিন্তু দোয়া পড়া যাবে না। কারণ টয়লেট একটি অপবিত্র স্থান এবং এখানে দোয়া পড়া উচিত নয়।” তাঁর মতে, টয়লেটে অযু করার পর অবশ্যই টয়লেট থেকে বের হয়ে আসার পর দোয়া পড়া উচিত।

অন্য দিকে, একজন বিদেশী ইসলামিক বিদ বলেন, “টয়লেটে অযু করা ঠিক নয়। এটা একটি অপবিত্র স্থান এবং এখানে অযু করা উচিত নয়।” তাঁর মতে, অযু করার জন্য একটি পবিত্র স্থান প্রয়োজন।

এই বিষয়ে মতবিভেদ রয়েছে এবং এটা প্রতিটি ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও ধর্মীয় মান্যতা উপর নির্ভর করে। তবে, সবাই একমত যে, টয়লেট একটি অপবিত্র স্থান এবং এখানে দোয়া পড়া উচিত নয়।