দ্রুত কোটিপতি হতে চাইলে এই চার ব্যবসায়ের বিকল্প নেই

ব্যবসা

পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসুতি, তাই পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। আপনিত যতই যেকোন ব্যবসা, টাকা পয়সা ইনভেষ্ট করেন কেন? আপনাকে আপনার পরিশ্রম, মেধা শক্তি কাজে লাগাতে হবে। তবে হ্যা, সেই মেধা, পরিশ্রম যদি সঠিক জায়গায় কাজে লাগাতে না পারেন তাহলে সেটা সম্পূর্ণই বৃথা হয়ে যাবে। আমরা এখানে ৪টি ব্যবসায়ের কথা উল্লেখ করবো, যেখানে আপনার পরিশ্রম, মেধা, মনোবল কাজে লাগাতে পারলে আপনি অবশ্যই আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন। তো চলুন জেনে নেয়া যাক চার ব্যবসা কি? তবে তার আগে জানতে ব্যবসা কি? ব্যবসা কত প্রকার ও কি কি?

আরও পড়ুন : বেকারদের জন্য সুখবর

ব্যবসা কি

ব্যবসা হল পন্য বা সেবা প্রদানের ধরনের কোনও কাজ বা কার্যকলাপ যা লাভ অর্জনের উদ্দেশ্যে করা হয়। এটি অনেকগুলো রকমের হতে পারে, যেমন বণিকত্ব, উৎপাদন, পরিবহন, বিতরণ, পরিসেবা ইত্যাদি। ব্যবসা করে লাভ অর্জন করা হলো প্রাথমিক উদ্দেশ্য, তবে সে সাথে অন্যান্য উদ্দেশ্যগুলি যেমন সমাজে সেবা প্রদান, আর্থিক উন্নতি, প্রযুক্তিগত উন্নতি ইত্যাদি সাধারণত সংযুক্ত থাকে। ব্যবসা আধুনিক সমাজের অপরিহার্য অংশ হিসাবে গণ্য এবং এর মাধ্যমে অনেক মানুষের জীবন পরিবর্তিত হয়।

ব্যবসা কত প্রকার ও কি কি

ব্যবসা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে এবং প্রতিটি প্রকারের ব্যবসার সাথে সম্পর্কিত বিশেষ পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় ধারণা থাকতে পারে। কিছু প্রধান ব্যবসা প্রকার নিম্নলিখিত হতে পারে:

  1. বণিকত্ব (Trade): পন্য বা সেবা কেনাকাটা এবং তা পরিষ্কার মূল্যে বিক্রয় করা।
  2. উৎপাদন (Production): পন্য বা সেবা তৈরি করা বা উৎপাদন করা।
  3. বিতরণ (Distribution): পন্য বা সেবা প্রাপ্তব্য অবস্থান থেকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো বা ডেলিভারি করা।
  4. পরিবহন (Transportation): পন্য বা সেবা পরিষ্কার অবস্থান থেকে অন্য অবস্থানে পরিবহন করা।
  5. পরিসেবা (Service): সেবা প্রদান করা, যেমন শিক্ষা, চিকিৎসা, বিতরণ পরিসেবা, আইটি সেবা ইত্যাদি।
  6. উদ্যোগ (Entrepreneurship): নতুন ব্যবসা আইডিয়াগুলির অনুষঙ্গে কাজ করা এবং উদ্ভাবনশীলতা প্রদর্শন করা।
  7. বিতিক্রয় (Retail): পন্য বা সেবা কেনাকাটা এবং গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা।
  8. উত্পাদন এবং বিতরণ (Manufacturing and Distribution): পন্য তৈরি করা এবং তা পরিষ্কার অবস্থান থেকে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো সম্পর্কিত কাজগুলি সম্পর্কে মন্তব্য।

এই সমস্ত ব্যবসা প্রকারের মধ্যে আরও অনেক উপপ্রকার ও বিশেষত্ব রয়েছে। এই ব্যবসা প্রকারগুলি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়ার নির্দেশিকা ও পরিচালনা করা যেতে পারে বা ব্যবসা এবং ব্যবসায়িক লক্ষ্যের উপর ভিত্তি করে ক্লাসিফাই করা যেতে পারে।

যে চার ধরনের ব্যবসা করলে দ্রুত কোটি হতে পারবেন

কোটি টাকার মালিক বলা যতটা সহজ, হয়ে দেখানোটা তার চাইতেও অনেক কঠিন। তবে এক্ষেত্রে চেষ্টার কোনো বিকল্প নেই। ধরা-বাঁধা আয় নিয়ে অনেকেই খুশি থাকতে চান না। তাইতো চাকরি ছেড়ে অনেকেই ব্যবসায়ের দিকে ঝোঁকেন। নিজেকে সফল ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখতে ব্যবসায় করতেই তারা পছন্দ করেন। আর এর জন্য নানা ঝুঁকিও নিয়ে থাকেন। তবে এমন চারটি ব্যবসায় আছে যেগুলো খুব দ্রুত আপনাকে কোটিপতি বানিয়ে দিতে সক্ষম।

এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, কয়েকটি ব্যবসায় আপনি যদি সঠিকভাবে কাজ করতে পারেন তাহলে আপনার কোটিপতি হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই ব্যবসাগুলোর সম্পর্কে-

গৃহায়ন ব্যবসা:

রিয়েল এস্টেট ব্যবসা অতীতে যেমন রমরমা ছিল এখনো তা রয়েছে। তবে আপনাকে এ ব্যবসায় সাফল্য পেতে হলে বেশ কিছু অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে। সাধারণত পারিবারিক ঐতিহ্য রয়েছে এমন ব্যক্তিরা এ ব্যবসায় অন্যদের তুলনায় সুবিধা পান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ব্যবসার সফল ব্যক্তিদের একটি উদাহরণ। ট্রাম্পের মোট সম্পদের প

রিমাণ ৩.১ বিলিয়ন ডলার। চীন ও হংকংয়ের রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরাও বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যবসায়ীদের অন্যতম। বিশ্বে গৃহায়ণ ব্যবসা করে বিলিয়নিয়ার হয়েছেন এমন ব্যক্তির সংখ্যা দুই শতাধিক।

তথ্য–প্রযুক্তি:

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ যেমন তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবসায় নেমে ৩০ বছরের আগেই যথেষ্ট ধন-সম্পদ কামিয়েছেন, তেমন বিল গেটসও এই ব্যবসাতেই দীর্ঘদিন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ছিলেন। তারা যে সময়ে এ সম্পদ কামিয়েছেন, তা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। এখনো প্রতিবছর তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবসা করে বহু মানুষ বিলিয়নিয়ার হয়ে উঠছেন। ফোর্বস ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ২০১৭ সালে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবসায় ১৮৩ জন বিলিয়নিয়ার হয়েছেন, যা গত বছরের চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি।

ফাইন্যান্স ও বিনিয়োগ:

ফোর্বস বিশ্বের যত বিলিয়নিয়ারের তালিকা করেছে তাদের মধ্যে ৩০০ জনই ফাইন্যান্স ও বিনিয়োগ ক্ষেত্রে ব্যবসা করে সাফল্য পেয়েছেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রবাদপুরুষ ওয়ারেন বাফেটের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৮.১ বিলিয়ন ডলার। তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি। শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু সঠিকভাবে বিনিয়োগ করা সম্ভব হলে এখান থেকেই ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ তুলে নেয়া সম্ভব, যা প্রমাণ করেছেন বিনিয়োগকারীরা। এ কারণে এটি বিলিয়নিয়ার হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।

ফ্যাশন ও খুচরা পণ্য:

এ ব্যবসাকে অনেকেই তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে ব্যবহার করেছেন। বিশ্বের ২৩৭ জন বিলিয়নিয়ার ফ্যাশন ও খুচরা পণ্যের ব্যবসায় করে এই অবস্থানে এসেছেন। বিশ্বের বড় বড় ব্র্যান্ড তারা নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।”

মোট কথা পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসুতি, তাই পরিশ্রমের কোন বিকল্প নেই। আপনিত যতই যেকোন ব্যবসা, টাকা পয়সা ইনভেষ্ট করেন কেন? আপনাকে আপনার পরিশ্রম, মেধা শক্তি কাজে লাগাতে হবে। “দ্রুত কোটিপতি হতে চাইলে এই চার ব্যবসায়ের বিকল্প নেই” এই বিষয়ে আমরা সাধারণত স্বচ্ছতা প্রমাণ করার জন্য অনেক বেশি মুদ্রা এবং পরিশ্রম ব্যয় করি। তবে, এই পথে যাতে সফলতা লাভ করা সম্ভব হয়, তা বিশ্বস্ততার সাথে সন্তুষ্টিও জরুরি। যদিও এই চারটি ব্যবসায়ের মাধ্যমে দ্রুত কোটিপতি হওয়া কঠিন, তবে প্রতিটি ব্যবসায়ে আপনি পরিশ্রম, পরিকল্পনা এবং সঠিক দিকনির্দেশনা নির্ভর করে। এই ব্যবসায়ে সফলতা পেতে বিনিময়ের চাহিদা, বাজারের চিন্তা, ওয়ার্কফোর্স ম্যানেজমেন্ট, এবং নতুন প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সাথে সংযোগ গঠন করা প্রয়োজন। মোটামুটি বলা যায়, প্রতিটি ব্যবসায়ে সফলতা পেতে শিক্ষার প্রয়োজন।

Juger Alo Google News   যুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন