গোসলের পর কি আবার ওজু করতে হবে? ইসলাম কি বলে

গোসল

গোসল করলে আবার নতুন করে অজু করতে হয়? আমি একজনের কাছে শুনেছি- গোসল করলে আবার নতুন করে অজু করতে হয় না। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমার বাবাকে দেখি— গোসলের পর নতুন করে অজু করেন। এখন প্রশ্ন হলো, সব শর্ত মেনে গোসল করার পর নামাজের জন্য কি নতুন করে অজু করতে হবে?

এই প্রশ্নের উত্ত জানতে হলে আগে জানতে হবে গোসল কি? কত প্রকার ও কি কি? এবং সঠিকভাবে গোসল করার নিয়ম। তো চলুন শুরু কেরা যাক

আরও পড়ুন : দোয়া ইউনুস: পড়ার নিয়ম, উপকারিতা ও ফজিলত

গোসল কি?

গোসল হল একটি শারীরিক পরিষ্কারণ পদ্ধতি যা ইসলামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কর্ম। এটি প্রায় পুরো শরীরের সম্পূর্ণ পরিষ্কারণ করার পদ্ধতি, যা নামাজ, জুম্মাহ নামাজ, ঈদ নামাজ ইত্যাদি ধরনের সালাত পড়ার পূর্বে অথবা অন্য ধরনের পবিত্র কাজ সম্পাদনের পূর্বে করা হয়।

গোসল কত প্রকার ও কি কি

ইসলামে গোসলের তিন প্রকার আছে:

1. ফরয গোসল: এটি সাধারণত নামায পড়ার পূর্বে অথবা যে কোন ইবাদতের জন্য প্রয়োজন হয়। এটি মুখ, হাত, নাক, পা ইত্যাদির প্রয়োজনে করা হয়।

2. গোসলের জানাবার গোসল: এটি মহিলাদের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার জন্য করা হয়। এটি মাসিক পাশে বা পর্যায়ের যে কোন পয়েন্টে করা যায়।

3. জানাবার গোসল: এটি নাজায়েয অবস্থায় বা জ্ঞানের অধিকারী হওয়ার পর পূর্ণ গোসল করা হয়। এটি কাফের থাকলে জানাবার গোসলের মাধ্যমে ধর্মীয় পরিবর্তন হয়।

গোসলের নিয়ম

ইসলামে গোসল করার সঠিক নিয়ম অনেকগুলো, তবে প্রাথমিক নিয়মগুলো নিম্নরূপ:

  1. নির্বিঘ্নে পরিচিত স্থানে যাওয়া: গোসলের জন্য পরিচিত এবং পরিশুদ্ধ স্থানে যাওয়া উচিত।
  2. নিরাপদ পানি ব্যবহার করা: গোসলের জন্য নিরাপদ এবং পরিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।
  3. সম্মান এবং পরিচিতি বজায় রাখা: গোসলের সময় সম্মান এবং পরিচিতি বজায় রাখতে হবে।
  4. ধর্মীয় নিয়মের অনুসরণ: ইসলামিক নিয়মানুযায়ী গোসলের পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।
  5. শরীয়তে নির্ধারিত পাঁচ জায়গা ধরে ধোয়া: গোসলের সময় পাঁচটি জায়গা (মুখ, নাক, কান, হাত এবং পা) ধরে পরিচ্ছন্ন করতে হবে।
  6. গোসলের পদ্ধতিকে নির্ভর করা: গোসলের সময় নবী মুহাম্মদ (সা:) এর প্রথম সহাবীদের অনুসরণ করা উত্তম।

গোসলের পর কি আবার ওজু করতে হবে?

উত্তর হলো, না। কারণ গোসল হলো পবিত্রতার বড় মাধ্যম, আর অজু ছোট মাধ্যম। অজুতে যেসব অঙ্গ ধুতে হয়, তা গোসলেই ধোয়া হয়ে যায়। তাই গোসল করলে অজুও হয়ে যায়। ফলে গোসলের পর অজু ভঙ্গের কারণ পাওয়া না গেলে নতুন করে অজু করতে হবে না।

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) গোসলের পরে নতুন করে অজু করতেন না। (তিরমিজি: ১০৭)

আরও পড়ুন : সৌদিতে বৃষ্টি, সবুজ হচ্ছে মরুভূমি, মিলে যাচ্ছে মহানবী (স) কথা!

অন্য এক হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-কে গোসলের পর অজু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘গোসলের চেয়ে কোন অজু ব্যাপকতর?’ অর্থাৎ, গোসল অজুর চেয়ে ব্যাপক। সুতরাং গোসল করলে অজু করতে হয় না। (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৭৪৮)

ইসলামে দৈহিক পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম হলো অজু ও গোসল। পবিত্রতা ছাড়া নামাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফরজ আদায় করা যায় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘তোমরা যদি অপবিত্র অবস্থায় থাকো, তবে নিজেদের শরীর (গোসলের মাধ্যমে) ভালোভাবে পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা: ৬)

কেন গোসলের পর অজু জরুরি নয়

গোসলের পর অজু করা জরুরি নয় কারণ গোসলে সমস্ত অংশে পানি ব্যবহার হয় এবং শরীরের পর্যাপ্ত অংশে পানি পৌঁছে যায়, যা ইসলামিক শাস্ত্র অনুসারে পরিষ্কার ধর্মীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। অজু করা হয় যেখানে পানি না পৌঁছে এবং শরীরের কোন অংশটি পরিষ্কার না হয়ে থাকে।

গোসলের পর অজু করা প্রয়োজন হতে পারে যদি শরীরে নাজায়েয অবস্থান থাকে বা গোসলের সময় কোন অংশে পানি পৌঁছেনি। তবে, অধিকাংশ সময়ে গোসলের পর অজু করা প্রয়োজন হয় না কারণ গোসল ইসলামিক দৃষ্টিতে পর্যাপ্ত পরিষ্কার ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত।

গোসলের আগে ওজু করা ভালো

অবশ্যই, গোসলের আগে ওজু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতি। ওজু করা মানে শরীরের নিম্ন অংশের পর্যাপ্ত পরিমানের পানি ব্যবহার করে তা পরিষ্কার করা। ইসলামে প্রত্যেকটি ইবাদাতের জন্যে পরিষ্কারতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে স্বীকৃতি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন : ইসলামে কোন কোন দিন রোজা রাখা হারাম ও কেন

এছাড়াও, গোসলের পর ওজু করা মানসিক এবং শারীরিক পরিষ্কারতা সংরক্ষণ করে যা নিজেকে পরিষ্কার এবং সুপ্ত মনে রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া, নামাজ, সওম, হজ ইত্যাদির জন্য ওজু করা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কর্ম ও প্রয়োজন। সুতরাং, গোসলের আগে ওজু করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি ইসলামিক প্রক্রিয়ার একটি প্রধান অংশ।

গোসলের পর ওজু না করাটাই ভালো

এই বিষয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কেউ মনে করেন যে গোসলের পর ওজু করা অত্যন্ত জরুরি এবং প্রয়োজনীয়, আর কেউ মনে করেন যে এটি একটি অতিরিক্ত কঠিনতার অংশ এবং গোসলের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজন হয় না। আপনি ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী আপনার ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির উপর ভিত্তি করে এটি নিজের জন্য নির্ধারণ করতে পারেন।

আপনি যদি মনে করেন যে এটি আপনার স্বাভাবিক পরিপূর্ণতা ও ধর্মীয় পরিষ্কারতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, তাহলে এটি করা ভালো হতে পারে। তবে, অন্যদিকে, যদি এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত বা কঠিন বলে মনে হয়, তাহলে আপনি এটি করতে অবশ্যই প্রয়োজন নয়। ধর্মীয় বিষয়গুলি সম্পর্কে ব্যক্তিগত সম্বেদনা ও মনোভাবের সাথে নিজেকে সামঞ্জস্য করা গুরুত্বপূর্ণ।

শেষ কথা

মূলত গোসল করার পর অজু করার কোনো বিধান ইসলামে নেই। ফরজ গোসল হলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া ফরজ এবং পরিপূর্ণ অজু করে নেওয়া সুন্নত, যা গোসলেরই অংশ। আর গোসল ফরজ না হলে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়া সুন্নত এবং পরিপূর্ণ অজু করা মুস্তাহাব। তাই যথাযথভাবে গোসল করার পর নতুন করে অজু করার প্রয়োজন নেই (বুখারি: ২৪৮; উমদাতুল ক্বারি: ০৩ / ৮৬; বাহরুর রায়েক: ০১ / ৯৪; আদ্দুররুল মুহতার: ০১ / ৩২৩)

Juger Alo Google News   যুগের আলো’র সর্বশেষ খবর পেতে Google News অনুসরণ করুন